• বুধবার, জুন ১৬, ২০২১
  • সর্বশেষ আপডেট : ০২:৪২ দুপুর

‘বেশি কথা বললে পিটিয়ে নরসিংদী পাঠিয়ে দেবো’

  • প্রকাশিত ০৮:২১ রাত নভেম্বর ১৪, ২০২০
লালমনিরহাট ম্যাপ

উপজেলা চেয়ারম্যান অভিযোগের বিষয়ে অস্বীকার করেছেন

“বেশি কথা বললে পিটিয়ে নরসিংদী পাঠিয়ে দেবো। উপজেলা পরিষদ কি তোর বাবার সম্পতি? উপজেলা পরিষদ কি তুই চালাবি?” এসব কথা বলে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিনকে গালিগালাজ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক ইমরুল কায়েসের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ এনেছেন উপজেলার আরও ১৭টি দফতরের কর্মকর্তারা ।

ইউএনওসহ ওই কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর সম্বলিত অভিযোগপত্রের একটি কপি শুক্রবার (১৩ নভেম্বর) রাতে  ঢাকা ট্রিবিউনের হাতে এসেছে। তবে উপজেলা চেয়ারম্যান অভিযোগের বিষয়ে অস্বীকার করেছেন।

এদিকে জেলা প্রশাসক অভিযোগ পাওয়ার পর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপপরিচালক (ডিডিএলজি) রফিকুল ইসলামকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। 

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১২ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভা চলাকালীন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফারুক ইমরুল কায়েস উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কাছে ভিজিডি ও মাতৃত্বকালীন ভাতার কার্ডের অংশ দাবী করেন। চেয়ারম্যানের এ কথার পরিপ্রেক্ষিতে ইউএনও মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন বিধি অনুযায়ী তালিকা তৈরির কথা বললে ক্ষিপ্ত হয়ে সভাস্থল ত্যাগ করেন উপজেলা চেয়ারম্যান। এর কিছুক্ষণ পরে ইউএনও অফিস সংলগ্ন করিডোরে লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরা উপজেলা চেয়ারম্যান তার একজন ব্যক্তিগত লোক দিয়ে খুলতে থাকেন। বিষয়টি ইউএনওর দৃষ্টিতে এলে তিনি সিসিটিভি ক্যামেরা খোলার দৃশ্যটি মোবাইল ক্যামেরায় ধারণ করতে গেলে চেয়ারম্যান অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করেন। এ সময় চেয়ারম্যান ইউএনওকে বলতে থাকেন, “বেশি কথা বললে পিটিয়ে নরসিংদী পাঠিয়ে দিব। উপজেলা পরিষদ কি তোর বাবার সম্পত্তি, উপজেলা পরিষদ কি তুই চালাবি?”

এ অবস্থায় উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা উপজেলা চেয়ারম্যানকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করলে তাকেও “ঘাড় ধরে উপজেলা পরিষদ থেকে বের করে দেবো” বলে হুমকি দেওয়া কথা উল্লেখ করা হয়েছে অভিযোগপত্রে। 

এদিকে খবর পেয়ে আদিতমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। 

লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা নুরেলা আকতারকে চেয়ারম্যান তার অফিস কক্ষে ডেকে নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং কর্মচারী ডেকে বলতে থাকেন, “বেয়াদবটাকে গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দাও।  রাস্তায় কেউ মানহানি ঘটালে এর দায় কেউ নেবে না।”

জেলা প্রশাসকের নিকট করা লিখিত আবেদনের অনুলিপি সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ ও রংপুর বিভাগীয় কমিশনারকে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ ১৮ জন কর্মকর্তার স্বাক্ষর রয়েছে।

আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন বলেন, “উপজেলা চেয়ারম্যান মহোদয়ের সবকিছুই ঠিক আছে। তিনি একজন উচ্চশিক্ষিত মানুষ। কিন্তু উনার ব্যবহার বা আচরণটা ভালো নয়। এভাবে কেউ কাজ করতে পারে না। আমরা সবকিছুই মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু হচ্ছিল না। গত বৃহস্পতিবারের (১২ নভেম্বর) ঘটনায় বাধ্য হয়েই জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নিকট লিখিতভাবে প্রতিকার চেয়েছি।”

তিনি আরও বলেন, “লিখিত প্রতিকার চাওয়ার আগে আমরা জেলা প্রশাসক মহোদয়ের ওখানে অপেক্ষা করেছি হয়তো তিনি এসে বিষয়টি সুরহা করবেন। কিন্তু তিনি কথা দিয়েও আর আসেননি। পরে আমরা লিখিত দিয়েছে।”

ইউএনও মনসুর উদ্দিন দাবি করেন, “অভিযোগে যা যা লিখিত রয়েছে। তার সবকিছুই প্রমাণ রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “উপজেলা চেয়ারম্যান মহোদয়ের আশপাশের কিছু লোকজন তার কান ভারি করে থাকে । এসব লোকজনের মধ্যে কয়েকজনের কথায় তিনি আমাদের কর্মকর্তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন বলে মনে হয়। তিনি মনে করেন, আমরা এখানে সবাই দুর্নীতিগ্রস্ত। এটাই উনার দৃষ্টিতে সবসময় সন্দেহ।”      

এ বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক ইমরুল কায়েস মোবাইলে ঢাক ট্রিবিউনকে বলেন, “আমি কাউকে খারাপ কিছু বলিনি। ইউএনও সকল কর্মকর্তাকে একত্র করে আমার বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগপত্রে যে ভাষায় লেখা হয়েছে। এসবের কোনো ভিত্তি নেই। আমি সঠিক তদন্ত চেয়েছি।”

তিনি আরও বলেন, “স্থানীয় জনগণের অভিযোগ, উপজেলার অফিসগুলোতে সীমাহীন অনিয়ম ও দুর্নীতি চলছে। জনগণকে হয়রানি করা হয়। উপজেলার প্রত্যেক দফতরের প্রধানদের অনিয়ম, দুর্নীতি ও হয়রানী বন্ধ করতে বলেছি এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা মোতাবেক সুশাসন নিশ্চিত করতে বলেছি। আমার এ কথাগুলো বিএনপি-জামায়াত সমর্থন করে এমন কিছু কর্মকর্তা স্বাভাবিকভাবে নেয়নি বরং উল্টো আমাকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করে আসছে। এ অভিযোগ তারই ফসল।”

চেয়ারম্যান বলেন, “আমি কখনো কারো সাথে কোনো অন্যায় করিনি। জনগণের বিপুল ভোটে নির্বাচিত একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে এবং মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে সাধারণ মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলি। আমার পরিবার আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে তাই কোনো কোনো কর্মকর্তা এতে রুষ্ঠ হয়ে এই অভিযোগে ইউএনও’র সাথে সামিল হয়েছে।”

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার সাথে যে কথা হয়েছে, তা তিনি না বলে উল্টোভাবে উপস্থাপন করেছেন। এটা একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি করতে পারেন না। এছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা যা করছেন, সেটাও আপনারা (গণমাধ্যম) তদন্ত করে দেখেন। আসলে ভেতরের ঘটনা অন্য কিছু আছে কি না?”

লামনিরহাটের ডিসি মো. আবু জাফর বলেন, “স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপপরিচালক (ডিডিএলজি) ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রফিকুল ইসলামকে  তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছি। আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে তাকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর তা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো হবে।”

53
Facebook 50
blogger sharing button blogger
buffer sharing button buffer
diaspora sharing button diaspora
digg sharing button digg
douban sharing button douban
email sharing button email
evernote sharing button evernote
flipboard sharing button flipboard
pocket sharing button getpocket
github sharing button github
gmail sharing button gmail
googlebookmarks sharing button googlebookmarks
hackernews sharing button hackernews
instapaper sharing button instapaper
line sharing button line
linkedin sharing button linkedin
livejournal sharing button livejournal
mailru sharing button mailru
medium sharing button medium
meneame sharing button meneame
messenger sharing button messenger
odnoklassniki sharing button odnoklassniki
pinterest sharing button pinterest
print sharing button print
qzone sharing button qzone
reddit sharing button reddit
refind sharing button refind
renren sharing button renren
skype sharing button skype
snapchat sharing button snapchat
surfingbird sharing button surfingbird
telegram sharing button telegram
tumblr sharing button tumblr
twitter sharing button twitter
vk sharing button vk
wechat sharing button wechat
weibo sharing button weibo
whatsapp sharing button whatsapp
wordpress sharing button wordpress
xing sharing button xing
yahoomail sharing button yahoomail