স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন
কুষ্টিয়া শহরের পাঁচ রাস্তার মোড়ে রাতের আঁধারে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্মাণাধীন ভাস্কর্য ভেঙে ফেলার ঘটনায় জড়িত মাদরাসার দুই শিক্ষার্থী এবং মদদ দেয়ার অভিযোগে দুই শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে- কুষ্টিয়া শহরের জুগিয়া পশ্চিমপাড়া ইবনে মাস্উদ (রা.) মাদরাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষার্থী কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার শিংপুর মৃধাপাড়া এলাকার সমসের মৃধার ছেলে মো আবু বক্কর ওরফে মিঠুন (১৯) এবং একই মাদরাসার শিক্ষার্থী দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর গোলাবাড়ীয়া এলাকার সামছুল আলমের ছেলে সবুজ ইসলাম ওরফে নাহিদ (২০)।
রবিবার (৬ ডিসেম্বর) সকালে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যে হামলাকারী দুজনকে আটক করে পুলিশ। ইসলামি বক্তা মাওলানা মুহাম্মদ মামুনুল হক ও ফয়জুল করিমের বয়ান শুনে উদ্বুদ্ধ হয়ে তারা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুর করে বলে ওই দুই শিক্ষার্থী পুলিশেকে জানায়। পরে মদদ দেওয়ার অভিযোগে আরও দুই শিক্ষককেও গ্রেফতার করে পুলিশ।
এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল গণমাধ্যমকে জানান, ভাস্কর্য ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ইতোমধ্যে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা ইবনে মাসউদ মাদরাসা থেকে বেরিয়ে এসে এই কাণ্ড ঘটিয়েছে। একজনের নাম আবু বক্কর, আরেকজনের নাম নাহিদ। বয়স এদের বেশি না। তাদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে আরও দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের নাম আল আমিন ও ইউসুফ।
এসময় তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু হলেন জাতির পিতা, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি। তার স্মৃতি ধরে রাখা হবে না, এটা তো বাংলাদেশের কোনও মানুষই মেনে নিতে পারবে না। আপনি যদি ফিরে তাকান মুসলিম সভ্যতার যুগে- আলবেরুনি বলেন, ইবনে বতুতা বলেন, তাদের ভাস্কর্যতো বিভিন্ন জায়গায় শোভা পাচ্ছে। সেগুলো তো কেউ ভাঙছে না। আমরা সেখানে কথা বলছি। ভাস্কর্য মানে পূজা নয়। তাকে ধরে রাখা, তার যে অবদান দেশের প্রতি জাতির প্রতি, সেটাকে হৃদয়ে গেঁথে রাখা।”
প্রসঙ্গত, শুক্রবার দিবাগত রাত ২টা ১৬ মিনিটে মাথায় টুপি, মুখে দাড়িয়ালা ও পায়জামা-পাঞ্জাবি পরিহিত দুইজন পায়ে হেঁটে এসে নির্মীয়মাণ বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যে বাঁশ বেয়ে উঠে এলোপাথাড়িভাবে হাতে থাকা লাঠি অথবা লোহার কোনও জিনিস দিয়ে আঘাত করতে থাকে। এরপর মাত্র এক মিনিটের মধ্যে ভাস্কর্যটি ক্ষতিগ্রস্ত করে তারা নির্বিঘ্নে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে চলে যায়। সিসি টিভি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজে এ চিত্র পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এসএম তানভীর হাসান।
বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণ নিয়ে দেশব্যাপী ইসলামপন্থী বিভিন্ন সংগঠনের বিরোধিতার মধ্যে কুষ্টিয়ায় এই ঘটনা ঘটে।
মতামত দিন