‘ওলামায়ে কেরামের সাথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অতীতে যে সুসম্পর্ক ছিল, বর্তমানেও সে সুসম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে’
ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান বলেছেন, সরকার ও ওলামায়ে কেরামের মাঝে ভুল বোঝাবুঝির কোনো সুযোগ নেই। কোনো সমস্যা হলে তা আলাপ আলোচনা করেই সমাধান করা যায়।
তিনি বলেন, “ওলামায়ে কেরামের সাথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অতীতে যে সুসম্পর্ক ছিল, বর্তমানেও সে সুসম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে।”
সোমবার (৭ ডিসেম্বর) জামালপুরের ইসলামপুর জামেয়া আশরাফিয়া হোসাইনিয়া মাদরাসায় এক অনুষ্ঠানে ওলামায়ে কেরাম এবং মাদরাসার ছাত্রদের উদ্দেশ্যে দেওয়া তিনি এ কথা বলেন।
১৯৭১ সালের ৭ ডিসেম্বর জামালপুর ইসলামপুর উপজেলা পাকহানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে শত্রুমুক্ত করেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা। এ উপলক্ষে প্রতি বছরের মত এবারও স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ এ উপলক্ষে এক আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশের স্বাধীনতার অপর নাম জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাই মহান স্বাধীনতার মাসে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নিয়ে অনাকাঙ্খিত উষ্কানিমূলক বক্তব্য প্রদান ও ভাংচুরের ঘটনা জাতির জন্য লজ্জাস্কর।”
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “যে কোনো উগ্রপন্থা কিংবা উগ্ররাজনীতি দেশ ও মানুষের ক্ষতি ছাড়া কোনো কল্যাণ করতে পারে না। উগ্রপন্থার সুযোগ নিয়ে কেউ যাতে দেশের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে সে বিষয়ে সকলকে সজাগ থাকতে হবে। প্রকৃত আলেমরা কখনোই উগ্রবাদকে সমর্থন করেন না।”
ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কওমি মাদরাসার সনদের স্বীকৃতি দিয়ে দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের সমমান দিয়েছেন। শত শত এবতেদায়ি মাদরাসাকে এমপিওভুক্ত করেছেন। দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে মোট ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ করছেন। একই সাথে অসংখ্য ওলামায়ে কেরামের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছেন।”
প্রধানমন্ত্রী কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন ইসলামের প্রতি তার কতটা দরদ রয়েছে, বলেন প্রতিমন্ত্রী।
আশরাফুল উলুম হোসাইনিয়া মাদরাসার পরিচালনা কমিটির সহসভাপতি মাহমুদুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. মাহবুবুর রহমান, ইসলামপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জামাল আব্দুস নাসের, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম মাজহারুল ইসলাম প্রমুখ।
উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ৭ ডিসেম্বর স্থানীয় জালাল কোম্পানি এবং বদি কোম্পানির নেতৃত্বে বীরত্বপূর্ণ লড়াইয়ের মাধ্যমে জামালপুরের ইসলামপুর শত্রুমুক্ত হয়।
মতামত দিন