প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা শিক্ষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি, ২০১০ সালে থেকে বিনামূল্যে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দিচ্ছি’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, করোনাভাইরাস পরিস্থিতি অনুকূলে না আসা পর্যন্ত দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হবে না। তবে অনলাইনে শিক্ষাদান কার্যক্রম চলবে।
বছরের শুরুতে নতুন বই হাতে পেলে শিক্ষার্থীদের যে আনন্দ হয়, তা থেকে শিক্ষার্থীরা যেন বঞ্চিত না হয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সেজন্য আমরা বছরের প্রথম দিন থেকেই তাদের হাতে নতুন বই তুলে দিচ্ছি।”
বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) সকালে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি শের-ই বাংলানগরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র মিলনায়তনে যুক্ত হয়ে বই বিতরণের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন কালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।
শেখ হাসিনা আরও বলেন, “আমরা বাংলাদেশকে উন্নত, দারিদ্র্যমুক্ত করে গড়ে তুলতে চাই। তাই আমরা শিক্ষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। ২০১০ সালে থেকে আমরা বিনামূল্যে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দিচ্ছি।”
চলতি শিক্ষাবর্ষে ৩৪ কোটিরও বেশি বই বিতরণ করা হচ্ছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, “করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতেও আমরা শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দিচ্ছি যাতে তারা শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে।”
তিনি অরও বলেন, “আমরা আমাদের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের জন্য তাদের মাতৃভাষায় বই প্রকাশ করে বিতরণ করছি।”
এছাড়া বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস পরিস্থিতির মধ্যেও নির্দিষ্ট সময়ে বই প্রকাশ করে বিতরণ করতে পারায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ দেন প্রধানমন্ত্রী। পরে কয়েকজন শিক্ষার্থীর হাতে নতুন শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যপুস্তক তুলে দেওয়া হয়।
এর আগে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনি জানান, করোনাভাইরাসের কারণে এবছর সব শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে বই বিতরণ করা হচ্ছে না। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে তিনদিন করে মোট ১২দিনে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নতুন বই বিতরণ করা হবে।
উল্লেখ্য, শুক্রবার ১ জানুয়ারি সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বই বিতরণ শুরু হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে তিনদিন করে মোট ১২ দিন ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের নতুন বই বিতরণ করা হবে।
করোনাভাইরাসের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় পয়লা জানুয়ারি বই উৎসব না হলেও বছরের শুরুতেই এসব শিক্ষার্থী বিনামূল্যে বই পাচ্ছে। এবার ছাপা হচ্ছে প্রায় ৩৫ কোটি বই।
অন্যদিকে, মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে এবার বইয়ের প্রচ্ছদে নতুনত্ব আনা হয়েছে। পাঠ্যপুস্তকের পেছনের (ব্যাক পেজ) মলাটে বঙ্গবন্ধু, স্বাধীনতা, মহান মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলনসহ বর্তমান সরকারের নানা উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন স্থিরচিত্র বর্ণনাসহ সংযোজন করা হয়েছে।
মতামত দিন