• শনিবার, জুলাই ৩১, ২০২১
  • সর্বশেষ আপডেট : ০২:০১ দুপুর

কারবারিদের রুট পরিবর্তন, ফের বেড়েছে ইয়াবা পাচার

  • প্রকাশিত ১২:১১ দুপুর জানুয়ারি ১২, ২০২১
ইয়াবা
ফাইল ছবি। মেহেদি হাসান/ঢাকা ট্রিবিউন

মিয়ানমার সীমান্তের অভ্যান্তরে প্রায় ৪০টি কারখানায় উৎপাদিত ইয়াবার চালান আসে একমাত্র টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে

সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ হত্যাকাণ্ডের পর কিছুদিন ইয়াবা পাচার কমে আসলেও সম্প্রতি তা আবার ব্যাপকহারে বেড়েছে। আর এজন্য পাচারকারীরা নিত্যনতুন রুট পরিবর্তন করেছে। সীমান্তের বিভিন্ন পাহাড়ি সড়ক ব্যবহার করে খুব নিরাপদে পাচার করছে কোটি টাকা মূল্যের ইয়াবা। 

গত শনিবার (৯ জানুয়ারি) পুলিশের হাতে কক্সবাজারের রামুর ঈদগড় সড়কে ১ লাখ পিস ইয়াবাসহ এক সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালককে গ্রেপ্তারের পর নড়েচড়ে বসেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

গত বছরের ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া তদন্তকেন্দ্রে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ। এ ঘটনার পর কিছুদিন ঝিমিয়ে পড়ে ইয়াবাপাচার। কক্সবাজার জেলা পুলিশের গণহারে বদলীসহ বিভিন্ন ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে ইয়াবা পাচারকারি সিন্ডিকেট নতুন রুট পরিবর্তন করে ইয়াবা পাচার করছে। এ কাজে মিয়ানমার সীমান্তবর্তী সড়ক টেকনাফ হয়ে উখিয়ার বালুখালী ও বাইশফাঁড়ি সড়ক ব্যবহার করছে তারা। 

একইভাবে উখিয়া ডিগ্রি কলেজ সংলগ্ন শৈলরডেবা সড়ক হয়ে ইয়াবা রত্নাপালং ভালুকিয়া, হলদিয়াপালং পাতাবাড়ি সড়ক দিয়ে প্রবেশ করছে নাইক্ষ্যংছড়ি সোনাইছড়ি হয়ে ঈদগড় সড়কে। এই সড়ক হয়ে চলে যাচ্ছে চট্টগ্রাম, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে।

৯ জানুয়ারি সকাল পৌনে ১০টার দিকে ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কের ছেনুছড়া এলাকা থেকে ১ লাখ পিস ইয়াবাসহ হাফেজ আহমদ (৩৫) নামের এক ইয়াবাকারবারিকে গ্রেপ্তার করে কক্সবাজার গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এসময় পাচার কাজে ব্যবহৃত একটি সিএনজিও জব্দ করা হয়। সে বান্দরবানের রুমা উপজেলার রুমকি গ্রামের মৃত আব্দুল হাফেজের ছেলে। তবে তার বর্তমানে বসবাস কক্সবাজার সদরের ঈদগাঁওতে এবং সে ওই সিএনজির চালক।

কক্সবাজার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রফিকুল ইসলাম জানান, শনিবার ভোররাত থেকে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কের ছেনুছড়ায় চেকপোস্ট বসানো হয়। তা চলে সকালে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত। তারপর ঈদগড় দিক আসা সিএনজিকে থামানো হয়। সেটি তল্লাশিকালে ইঞ্জিন বক্সের ভেতর থেকে ১ লাখ পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। পরে সিএনজি চালক হাফেজ আহমেদ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইয়াবা পাচারের কথা স্বীকার করে।

রফিকুল ইসলাম আরও বলেন, মাদক ব্যবসায়ীরা সীমান্তের বিভিন্ন অলিগলি ছোট সড়কগুলোকে নিরাপদ রুট হিসাবে বেছে নিয়েছে। একারণে এসব সড়কগুলো চিহ্নিত করে পুলিশ অভিযান অব্যাহত থাকবে। এছাড়াও ১ লাখ ইয়াবা উদ্ধারে পেছনে কারা জড়িত তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে সীমান্তের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছেন, পুলিশ, বিজিবি ও র‌্যাবসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা থাকা সত্ত্বেও উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্তের ৩৫টি পয়েন্ট দিয়ে মিয়ানমার থেকে ইয়াবা আসছে বাংলাদেশে। শুধু স্থলপথ নয়, আসছে সাগরপথেও। নিত্যনতুন কৌশলে মাদকের চোরাচালান আসছে। কখনো ত্রাণবাহী কিংবা জরুরি পণ্যবাহী যানে, মাছ ধরার ট্রলার, কাভার্ড ভ্যান, কখনো পায়ুপথে, কখনো যানবাহনের ইঞ্জিনের কাভারে করে গন্তব্যে পৌঁছে যাচ্ছে ইয়াবা। 

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে মাদকসেবীদের জন্য হোম ডেলিভারিও হচ্ছে। টেকনাফের সেন্টমার্টিন, শাহপরীরদ্বীপ, দমদমিয়া, লেদা, রঙ্গিখালী, উলুচামারী, মৌলভীবাজার, নোয়াখালীয়াপাড়া, শাপলাপুর, সাতঘরিয়াপাড়া, উখিয়ার আমতলি, পালংখালী, মরিচ্যা, রেজুখাল, নাইক্ষ্যংছড়ির গর্জনবুনিয়া, তুমব্রæসহ অন্তত ৩৫টি সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে ইয়াবা ঢুকছে। রোহিঙ্গা শিবির-সংশ্লিষ্ট এলাকা দিয়ে ইয়াবা আসছে বলে স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় অনেকেই জানিয়েছেন, উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্তে ইয়াবাসহ মাদকবিরোধী সাঁড়াশি অভিযান অনেকটা ঝিমিয়ে পড়েছে। যার ফলে এ পর্যন্ত বড় কোনো ইয়াবা কারবারি আটকের খবরও পাওয়া যায়নি। সম্প্রতি আত্মসমর্পণকারি সীমান্তের ইয়াবা গডফাদারদের অনেকেই জামিনে বের হয়ে বহাল তবিয়তেই ইয়াবা কারবার চালাচ্ছে নতুন করে। “ইয়াবার গেটওয়ে” হিসেবে পরিচিত টেকনাফের খুব কাছাকাছি মিয়ানমার সীমান্তের অভ্যান্তরে প্রায় ৪০টি কারখানায় উৎপাদিত ইয়াবার চালান আসে একমাত্র টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে।

এ বিষয়ে কক্সবাজারের দায়িত্বপ্রাপ্ত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অদিফতরের সহকারী পরিচালক সৌমেন মণ্ডল বলেন, “সীমান্তে যেকোনো মূল্যে ইয়াবাসহ সব ধরনের মাদকের চোরাচালান বন্ধে কঠোর হচ্ছে সরকার। ইয়াবা পাচারকারীদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সবসময় অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি ইয়াবার চালান বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে আমাদের। আমরা বসে নেই। প্রতিনিয়ত চলছে আমাদের মাদক বিরোধী অভিযান।” 

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত ৬০ জন গডফাদারসহ ১ হাজার ১৫১ জন মাদক কারবারির তালিকা প্রকাশ করে সরকার। এই তালিকায় টেকনাফ সীমান্তেই রয়েছে ৯ শতাধিক ইয়াবা কারবারি।

50
Facebook 50
blogger sharing button blogger
buffer sharing button buffer
diaspora sharing button diaspora
digg sharing button digg
douban sharing button douban
email sharing button email
evernote sharing button evernote
flipboard sharing button flipboard
pocket sharing button getpocket
github sharing button github
gmail sharing button gmail
googlebookmarks sharing button googlebookmarks
hackernews sharing button hackernews
instapaper sharing button instapaper
line sharing button line
linkedin sharing button linkedin
livejournal sharing button livejournal
mailru sharing button mailru
medium sharing button medium
meneame sharing button meneame
messenger sharing button messenger
odnoklassniki sharing button odnoklassniki
pinterest sharing button pinterest
print sharing button print
qzone sharing button qzone
reddit sharing button reddit
refind sharing button refind
renren sharing button renren
skype sharing button skype
snapchat sharing button snapchat
surfingbird sharing button surfingbird
telegram sharing button telegram
tumblr sharing button tumblr
twitter sharing button twitter
vk sharing button vk
wechat sharing button wechat
weibo sharing button weibo
whatsapp sharing button whatsapp
wordpress sharing button wordpress
xing sharing button xing
yahoomail sharing button yahoomail