১ জানুয়ারি থেকে ১২ মার্চ পর্যন্ত যুক্তরাজ্য থেকে মোট ৫,২৩৮ জন যাত্রী এসেছেন বাংলাদেশে
জানুয়ারিতে যুক্তরাজ্য থেকে ফিরে আসা ছয়জন বাংলাদেশির শরীরে নতুন কোভিড-১৯ ধরনের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়। এরপর থেকেই দেশে যুক্তরাজ্য থেকে ফ্লাইটের আসা-যাওয়া বন্ধ করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
বর্তমানে বিশ্বের মোট ৬৩টি দেশ যুক্তরাজ্যের উপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে এবং সম্প্রতি বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের শনাক্তের হার বেড়ে যাওয়ায় অবিলম্বে যুক্তরাজ্যের ফ্লাইট বন্ধ করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
কিন্তু করোনাভাইরাসের এই ভ্যারিয়েন্ট নিয়েও বাংলাদেশ আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তের সাথে সামঞ্জস্য রেখে প্রচণ্ড উদ্বেগের মধ্যে যুক্তরাজ্যে ফ্লাইট পরিচালনা চালিয়ে যাচ্ছে।
সভায় স্টেকহোল্ডাররা যুক্তরাজ্য থেকে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা নিষিদ্ধ বা আরোপ করার পরিবর্তে ১৪ দিনের জন্য বাধ্যতামূলক প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারান্টিন বলবৎ করার সিদ্ধান্ত নেয়। সম্প্রতি বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়ের সাথে পরামর্শ করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, তারা বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে (সিএএবি) এ ব্যাপারে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে বলেছে।
এর আগে ৩০ ডিসেম্বর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটি যুক্তরাজ্যে ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করার সুপারিশ করে।
তারা বলেছে, যদি যুক্তরাজ্যের প্রত্যাবর্তনকারীদের বিচ্ছিন্নতা বা কোয়ারান্টিন কঠোরভাবে বজায় রাখা না যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত এই ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়া থেকে বিরত রাখার জন্য ফ্লাইট বন্ধ করা।
১ জানুয়ারি থেকে গতকাল ১২ মার্চ শুক্রবার পর্যন্ত যুক্তরাজ্য থেকে ঢাকা ও সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মোট ৫,২৩৮ জন যাত্রী এসেছেন।
বাংলাদেশ বর্তমানে যুক্তরাজ্য ছাড়া আরও ১২টি দেশে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। দেশগুলো হল, বাহরাইন, চীন, কুয়েত, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, শ্রীলঙ্কা, সিঙ্গাপুর, তুরস্ক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এর পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এএইচএম তৌহিদ-উল-আহসান বলেন, “যুক্তরাজ্যের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্কের কারণে ফ্লাইট বাতিল করা হয়নি।”
তিনি আরও জানান, “এটা এমন একটা বিষয় যা রাষ্ট্র সিদ্ধান্ত নেবে। আমাদের বাধ্যতামূলক প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারান্টিনে সকল ব্রিটেন ফেরত যাত্রীদের রাখার ব্যবস্থা আছে। আমরা এই ব্যবস্থাপনার অধীনে যুক্তরাজ্যে ফ্লাইট পরিচালনা করছি।”
তবে অনেক অন্তর্মুখী এবং বহির্মুখী যাত্রী তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং সরকার অনুমোদিত হোটেল, কোয়ারান্টিন সুবিধা এবং বিমান ভ্রমণের সময় দুর্বল স্বাস্থ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার অভিযোগ করেছেন।
মতামত দিন