• বুধবার, জুন ১৬, ২০২১
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:২৪ দুপুর

‘তিনদিন ধরে থানায় ঘুরি, কিন্তু ওসি মামলা নেয় না’

  • প্রকাশিত ০৮:৪৯ রাত এপ্রিল ৭, ২০২১
লঞ্চডুবি
নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে মালবাহী কার্গোর ধাক্কায় শতাধিক যাত্রী নিয়ে লঞ্চ ডুবির ঘটনা ঘটে। ঢাকা ট্রিবিউন

‘বন্দর থানায় গেলে বলে ফাঁড়িতে যেতে, ফাঁড়িতে গেলে বলে বন্দর থানায় যান। কেউ আমাদের মামলা নিচ্ছে না। থানায় গেলেই বলে তোমরা আসছো কেন? আমাদের বন্দর থানার ওসি দীপক চন্দ্র সাহা হুমকি দিচ্ছে’

“আজকে তিনদিন যাবৎ ঘুরতাছি কিন্তু কেউ মামলা নেয় না। উল্টা বন্দর থানার ওসি দীপক চন্দ্র সাহা, ওইখানকার স্থানীয় এক নেতা সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে আমাদের হুমকি দিচ্ছে।”  

সোমবার (৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বন্দর থানা থেকে ফেরার পথে ঢাকা ট্রিবিউনের সাথে আলাপকালে এসব কথা বলেন শীতলক্ষ্যা নদীতে দুর্ঘটনা কবলিত “এমএল সাবিত আল হাসানের” কেরাণী মঞ্জুর হোসেন।

তিনি জানান, “গত তিন দিন ধরে থানায় ঘুরতাছি। বন্দর থানায় গেলে বলে ফাঁড়িতে যেতে, ফাঁড়িতে গেলে বলে বন্দর থানায় যান। কেউ আমাদের মামলা নিচ্ছে না। থানায় গেলেই বলে তোমরা আসছো কেন? আমাদের বন্দর থানার ওসি দীপক চন্দ্র সাহা হুমকি দিচ্ছে। তারপর এলাকার এক নেতা সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বলে এটা করমু সেটা করমু। তার নাম আমরা জানতে পারিনি।”

“নাম জিজ্ঞেস করলে বলে আমি সাংবাদিক, আমরা দিন ভইরা এদিকে দৌড়াদৌড়ি করি। তোমরা মামলা করবা আর মজা মারবা। আমি বললাম, আমাদের কর্মস্থান বন্ধ হয়ে গেল, এতগুলো যাত্রী মারা গেল, চালক অসুস্থ হল, এত ক্ষতি হল তো আমরা কেমনে মজা মারমু। এ কথা বলার পর সে একটা হুন্ডায় উঠে চলে গেল”, বলেন মঞ্জুর হোসেন।

তিনি আরও জানান, আমরা এখন বাড়ি ফিরে যাচ্ছি। এখন আমাদের আগামীকাল গণশুনানীতে যেতে বলা হইছে।

এ সময় দুর্ঘটনা কবলিত “এমএল সাবিত আল হাসানের” চালক জাকির হোসেন বলেন, “থানায় ঘুরতাছি কিন্তু মামলা নেয় না। আজকে সারাদিন  থানায় বসায় রাইখা বলে মামলা নিবে না । বন্দর  থানার ইনচার্জ ওসি দীপক চন্দ্র সাহা বলে একটা মামলা আর মামলা নিবে না। কিন্তু এত ক্ষতি হইলো তা কী এমনি এমনি ছাইড়া দিব?”

তিনি আরও বলেন, ঘটনার দিন আমি লঞ্চের চালকের আসনে ছিলাম। লঞ্চ নিয়া কয়লারঘাটের  চায়না ব্রীজের সামনে আসলে পেছন থাইকা মালবাহী (এসকেএল-৩) জাহাজটা ধাক্কা দেয়। একবার ধাক্কা দেয় তারপর আবার ধাক্কা দিলে যাত্রীরা ভয়ে চিৎকার করতে থাকে। এ সময় আবার ধাক্কা দিলে যাত্রীরা লঞ্চের একপাশে চলে আসলে লঞ্চটি কাত হয়ে গেলে আমি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলি। পরে আমি লঞ্চের নিচে চলে যাই। অনেক কষ্টে জানালার গ্লাস ভেঙে বের হই। মাথায় ব্যাথা পাইছি। কথা বলতে কষ্ট হয়।

এ দিকে মামলা না নেওয়ার প্রসঙ্গে নারায়ণগঞ্জ লঞ্চ মালিক সমিতির সহ-সভাপতি মনিরজ্জামান রাজা ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “কয়েকদিন যাবৎ ঘুরেও থানায় মামলা করতে পারছি না। এখন কেন নেয় না? শুনছি এ জাহাজের মালিক নাকি এক এমপির। এখন বিষয়টা আপনারাই ভালো বুঝবেন কেন নেয় না। আমরা একাধিকবার থানায় গেছি কিন্তু তারা বলছে কয়টা মামলা করবো একটা তো মামলা করছি। কিন্তু ক্ষতিতো আমাদের হইছে লঞ্চ মালিকের হইছে তো আমরা মামলা করবো না কেন?”

তিনি আরো জানান, “মামলাটি আমরা করবো। এবার যেই মালিক হোক। দরকার হলে মেরিন কোর্টে যাব মেরিন কোর্টে না নিলে নারায়ণগঞ্জ কোর্টে যাব।”

(এসকেএল-৩) কার্গোর প্রসঙ্গে বলেন, “এর আগেও আমি ২-৩ দিন যাবৎ এ কার্গোটি মাল নিয়ে এ রুটে চলাচল করতে দেখছি। আজকে পত্রিকায় দেখলাম এটার রেজিস্ট্রেশন হইছে কিন্তু চলাচলের অনুমতি দেয় নাই। তাহলে চলল এ কয়দিন। এটাও তো ভাববার বিষয়। এ রুটে কার্গো, বাল্কহেড চলাচল নিয়ে একাধিকবার জেলা প্রশাসন, বিআইডব্লিউটিএকে জানাইছি কিন্তু থামে নাই।”

এদিকে মামলা না নেওয়ার প্রসঙ্গে জানতে বন্দর থানার ওসি দীপক চন্দ্র সাহার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “এ ঘটনায় ইতোমধ্যেই একটি মামলা বিআইডব্লিউটিএ’র পক্ষ থেকে করা হয়েছে। এখন মামলার আইও (মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা) যদি মনে করেন এ ঘটনায় আরও মামলা নেয়ার প্রয়োজন বা দরকার আছে তাহলে মামলা নেয়া হবে।”

তিনি বলেন, “এখন লঞ্চ কর্তৃপক্ষ যে সংক্রান্ত বিষয়ে মামলা করতে চাইছে তা তো এ মামলায় ইতোমধ্যেই উল্লেখ করা আছে। এখন যদি আইনতভাবে সকল দিক বিবেচনা করে মনে হয় মামলা নেয়া উচিত তাহলে মামলা নেয়া হবে। আর তাছাড়া আমরা মামলা সংক্রান্ত বিষয়টা দেখলেও পুরো বিষয়টা ম্যানেজমেন্টসহ সকল দিক নৌ পুলিশ দেখে।”

এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা  নারায়ণগঞ্জ নৌ সদর থানা পুলিশের পরিদর্শক ইউনুস মুন্সীর মোবাইল ফোনে কল করা হলে তিনি লঞ্চডুবিতে ৩৪ জন নিহতের ঘটনায় দায়ের করা মামলাটির বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ মিটিংয়ে আছেন বলে ফোনটি কেটে দেন।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, “এক ঘটনায় একটি মামলাই হয়। আর এ লঞ্চডুবির ঘটনায় বন্দর থানায় গতকালকে একটি মামলা হয়েছে। আর সেটা তদন্ত করছে নৌ পুলিশ।”

এদিকে মঙ্গলবার রাতে  নারায়ণগঞ্জ বিআইডব্লিউটি’র উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) বাবু লাল বৈদ্য বাদী হয়ে বেপরোয়া জাহাজ চালিয়ে যাত্রীবাহী লঞ্চকে ধাক্কা দিয়ে অপরাধ জনক হত্যা, সাধারণ ও গুরুতর জখম, ক্ষতি সাধন ও জাহাজ ধ্বংস করার অপরাধে অজ্ঞাতদের আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।

এর আগে গত রবিবার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টার দিকে সদর উপজেলার চর সৈয়দপুর কয়লা ঘাট ও বন্দর মদনগঞ্জ এলাকার মাঝামাঝি শীতলক্ষ্যায় নির্মাণাধীন (চায়না ব্রিজ) সেতুর নিচে একটি কার্গো (এসএকে এল-৩) ধাক্কায় “এমএল সাবিত আল হাসান” নামের যাত্রীবাহী লঞ্চ ডুবে ৩৪ জন নিহত হয়। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসন, বিআইডব্লিউটিএ, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও নৌপরিবহন অধিদপ্তরসহ মোট ৪টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামীকাল (৮ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার) লঞ্চডুবির ঘটনাস্থল কয়লার ঘাট এলাকায় গণশুনানী অনুষ্ঠিত হবে।

58
Facebook 50
blogger sharing button blogger
buffer sharing button buffer
diaspora sharing button diaspora
digg sharing button digg
douban sharing button douban
email sharing button email
evernote sharing button evernote
flipboard sharing button flipboard
pocket sharing button getpocket
github sharing button github
gmail sharing button gmail
googlebookmarks sharing button googlebookmarks
hackernews sharing button hackernews
instapaper sharing button instapaper
line sharing button line
linkedin sharing button linkedin
livejournal sharing button livejournal
mailru sharing button mailru
medium sharing button medium
meneame sharing button meneame
messenger sharing button messenger
odnoklassniki sharing button odnoklassniki
pinterest sharing button pinterest
print sharing button print
qzone sharing button qzone
reddit sharing button reddit
refind sharing button refind
renren sharing button renren
skype sharing button skype
snapchat sharing button snapchat
surfingbird sharing button surfingbird
telegram sharing button telegram
tumblr sharing button tumblr
twitter sharing button twitter
vk sharing button vk
wechat sharing button wechat
weibo sharing button weibo
whatsapp sharing button whatsapp
wordpress sharing button wordpress
xing sharing button xing
yahoomail sharing button yahoomail