• মঙ্গলবার, জুন ২২, ২০২১
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৫৬ রাত

ব্রিটিশ আমলের অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট, কী আছে আইনে?

  • প্রকাশিত ০৮:০৩ রাত মে ১৮, ২০২১
আইন
স্ক্রিনশট

সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে এই মামলার গ্রেফতার করার পর আলোচনায় এসেছে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলের প্রণীত অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট ১৯২৩


দৈনিক প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের করা “অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট-১৯২৩” এর মামলায় গত সোমবার (১৭ মে) গ্রেফতার করা হয়েছে।

রাজধানীর ঢাকার শাহবাগ থানায় দায়ের করা ওই মামলায় ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৩৭৯ ও ৪১১ ধারায় চুরি এবং ১৯২৩ সালের “অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের” ৩ ও ৫ ধারায় গুপ্তচরবৃত্তি ও রাষ্ট্রীয় গোপন নথি নিজের দখলে রাখার অভিযোগ এনেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে এই মামলার গ্রেফতার করার পর আলোচনায় এসেছে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলের প্রণীত অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট ১৯২৩।

আইনের ৩ নম্বর ধারা (গুপ্তচর বৃত্তির জন্য শাস্তি)

আইনটির ৩ (ক) নম্বর ধারায় গুপ্তচর বৃত্তির জন্য শাস্তি কথা বলা হয়েছে। আইনে বলা হয়, কোনো ব্যক্তি নিষিদ্ধ এলাকার বা বাংলাদেশের নিরাপত্তার স্বার্থে কোনো এলাকাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করলে সরকারি কর্তৃপক্ষ অথবা সরকারের লিখিত অনুমোদন ব্যতীত অথবা সরকারি পক্ষের অনুমোদন ব্যতীত ওইসব এলাকার কোনো ছবি, স্কেচ, প্লান, মডেল, নোট বা অন্য কোনো প্রকার শনাক্তরণের উপযোগী কোনো কিছু তৈরি বা অঙ্কন করতে পারবেন না। এ রকম কোনো ছবি, স্কেচ, প্লান, মডেল, নোট বা প্রতিনিধিত্বকারী কোনো অনুরূপ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিয়ে অনুমোদন পাওয়ার আগে প্রকাশ করা যাবে না। এসব ডকুমেন্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সাধারণভাবে বা বিশেষ নির্দেশে বিধান করতে পারবে। অথবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা বিনষ্ট করতে পারবে। 


আরও পড়ুন - রোজিনা: স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিয়ে রিপোর্টের জন্য আমার সঙ্গে অন্যায় করেছে


আরও পড়ুন - সচিবালয়ে পাঁচ ঘণ্টা আটকে রেখে সাংবাদিক রোজিনাকে থানায় সোপর্দ


৩ নম্বর ধারায় অপরাধের শাস্তি

চৌদ্দ বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান সম্বলিত এই ধারায় অভিযোগ আনয়নের জন্য অভিযুক্ত যে কোনো একটি বিশেষ কার্য রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও স্বার্থের পরিপন্থীমূলক উদ্দেশে করেছে, তার প্রমাণ প্রয়োজন নাই এবং উক্ত বিশেষ কার্যটি তার বিরুদ্ধে প্রমাণিত না হওয়া সত্ত্বেও, এই ধারায় তাকে শাস্তি প্রদান করা যাবে, যদি মামলার অবস্থা অথবা তার আচরণ অথবা তার জ্ঞান কার্যাবলী প্রমাণ করে যে, তা উদ্দেশ্য ছিল রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যাহত অথবা নিষিদ্ধ এলাকা সম্পর্কিত কোনো বিষয়ের কোনো স্কেচ, প্লান, মডেল, আর্টিকেল, নোট, দলিল বা তথ্য অথবা কোনো গোপনীয় কোড বা পাসওয়ার্ড তৈরি, আহরণ, সংগ্রহ, রেকর্ড ও প্রকাশ করে বা আইনগত অধিকার প্রাপ্ত না হয়ে পাচার করে।

যদি মামলার অবস্থা, তার উদ্দেশ্য ছিল রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও স্বার্থের পরিপন্থী, তাহলে ধরে নিতে হবে যে, উক্ত স্কেচ, প্লান, মডেল, আর্টিকেল, নোট দলিলপত্র অথবা তথ্য তৈরি, আহরণ, সংগ্রহ, রেকর্ড, প্রকাশ ও পাচার করা হয়েছে- রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও স্বার্থের পরিপন্থীমূলক উদ্দেশে।


আরও পড়ুন - মামলা করবে সাংবাদিক রোজিনার পরিবার


আরও পড়ুন - স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিং বয়কট করলেন সাংবাদিকরা


(ক) এ ধারার অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি: প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষভাবে অপরাধটি বিদেশি শক্তির স্বার্থে বা প্রয়োজনে করা হয়েছে বলে ধারণা করা গেলে বা প্রমাণিত হলে অথবা অপরাধটি প্রতিরক্ষা সম্পর্কিত বা গোপন অফিসিয়াল কোড সম্পর্কিত হলে, মৃত্যুদণ্ড বা চৌদ্দ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং

অন্যান্য ক্ষেত্রে, যদি কোনো ব্যক্তি এই ধারার কোনো বিধান লঙ্ঘন করেন, তাহলে শাস্তি হিসেবে জেল দেয়া যাবে। এই শাস্তি তিন বছর পর্যন্ত হতে পারে অথবা জরিমানা করা যেতে পারে অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা যেতে পারে।

আইনের ৫ নম্বর ধারা (তথ্যের বেআইনি হস্তান্তর)

আইনটির ৫ নম্বর ধারা অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি যদি কোনো নিষিদ্ধ এলাকার কাছে গিয়ে, পরিদর্শন করে, অতিক্রম করে সান্নিধ্যে গিয়ে অথবা ভিতরে প্রবেশ করে অথবা কোনো স্কেচ, প্লান, মডেল অথবা নোট তেরি করেন, যা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে শত্রুপক্ষের উপকারে আসবে বলে মনে হয়, ধারণা করা যায় অথবা নিশ্চিত হওয়া যায় অথবা যদি কোনো ব্যক্তি শত্রুপক্ষের ব্যবহারে আসতে পারেন, আসবেন বলে ধারণা করা যায় অথবা নিশ্চিত হওয়া যায়, এমন কোনো অফিসিয়াল গোপন কোড অথবা পাসওয়ার্ড, অথবা নোট অথবা অন্য কোনো দলিলপত্রাদি অথবা তথ্য আহরণ করেন, সংগ্রহ করেন, রেকর্ড করেন, প্রকাশ করেন অথবা কোনো ব্যক্তির কাছে পাচার করেন- তাহলে তিনি এই আইনে অপরাধী হবেন।


আরও পড়ুন - সাংবাদিক রোজিনার রিমান্ড নাকচ, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ


আরও পড়ুন - সাংবাদিক রোজিনাকে হেনস্তার বিষয়ে ব্যাখ্যা চায় মানবাধিকার কমিশন


পাঁচ নম্বর ধারায় অপরাধের শাস্তি

(ক) উপধারা (১) (এ) এর অধীন পরিপন্থী কার্যাদির বা কোনো প্রতিরক্ষা নির্মাণকাজ, অন্ত্রাগার, নৌ, স্থল বা বিমান বাহিনীর স্থাপনা বা স্টেশন বা খনি, মাইনক্ষেত্র, কারখানা, ডকইয়ার্ড, ক্যাম্প বা বিমান বা গোপনীয় অফিসিয়াল কোড সংক্রান্ত অপরাধ সংঘটিত হইলে তাহা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বিদেশি শক্তির স্বার্থে বা সুবিধার্থে ব্যবহৃত হইবে বলিয়া অনুমেয় হইলে বা ধারণ করা গেলে মৃত্যুদণ্ডে অথবা চৌদ্দ বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডিত হইবে; এবং

(খ) অন্যান্য অপরাধের ক্ষেত্রে দুই বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ডে অথবা জরিমানা দণ্ডে অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবে।


আরও পড়ুন - ঢাকা ট্রিবিউনের সাংবাদিককে চোখ বেঁধে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের অভিযোগ


আরও পড়ুন - আরিফুলকে 'কলেমা পড়িয়ে এনকাউন্টারে' দিতে চান সহকারী কমিশনার!


আরও পড়ুন -কাবিখা’র টাকায় পুকুর সংস্কার করে ডিসি’র নামে নামকরণ!

55
Facebook 50
blogger sharing button blogger
buffer sharing button buffer
diaspora sharing button diaspora
digg sharing button digg
douban sharing button douban
email sharing button email
evernote sharing button evernote
flipboard sharing button flipboard
pocket sharing button getpocket
github sharing button github
gmail sharing button gmail
googlebookmarks sharing button googlebookmarks
hackernews sharing button hackernews
instapaper sharing button instapaper
line sharing button line
linkedin sharing button linkedin
livejournal sharing button livejournal
mailru sharing button mailru
medium sharing button medium
meneame sharing button meneame
messenger sharing button messenger
odnoklassniki sharing button odnoklassniki
pinterest sharing button pinterest
print sharing button print
qzone sharing button qzone
reddit sharing button reddit
refind sharing button refind
renren sharing button renren
skype sharing button skype
snapchat sharing button snapchat
surfingbird sharing button surfingbird
telegram sharing button telegram
tumblr sharing button tumblr
twitter sharing button twitter
vk sharing button vk
wechat sharing button wechat
weibo sharing button weibo
whatsapp sharing button whatsapp
wordpress sharing button wordpress
xing sharing button xing
yahoomail sharing button yahoomail