• সোমবার, ডিসেম্বর ০৬, ২০২১
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:১১ রাত

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে উগ্রবাদী কন্টেন্টের ছড়াছড়ি

  • প্রকাশিত ০৮:২৪ রাত আগস্ট ১৭, ২০২১
জঙ্গি
ফেসবুকে উগ্রবাদী গ্রুপ থেকে নেওয়া ঢাকা ট্রিবিউন

উগ্রপন্থীরা সারফেস ওয়েবকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করে, তাই তারা ধীরে ধীরে ডার্কনেট অ্যাক্সেসের দিকে ঝুঁকছে

চলতি বছরের ৭ আগস্ট “জিহাদে যোগ দেওয়ার ৪৪টি উপায়” শিরোনামের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপলোড করা হয়েছিল। “ইবনে নুহাশ” নামে একটি নকল অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা সাড়ে তিন মিনিটের ওই ভিডিওটি আরবি ভাষণ দিয়ে শুরু হয়েছিল, যেখানে পবিত্র কাবা এবং অশ্বারোহী যোদ্ধাদের দেখানো হয়েছিল যারা মরুভূমিতে যুদ্ধ করছে। এরপরেই ছিল খুতবার বাংলা ব্যাখ্যা।

মাত্র এক মাস আগে খোলা ওই প্রোফাইলের বেশিরভাগ বিষয়বস্তু, পাঠ্য বা অডিও-ভিজ্যুয়াল মূলত জিহাদ এবং যুদ্ধ প্রশিক্ষণের বিষয় নিয়ে। প্রোফাইলটির লিস্টে বন্ধুর সংখ্যা ১,৮৫৭।

ওই অ্যাকাউন্টের ব্যবহারকারী সম্প্রতি ৩০টি ইসলামিক বইয়ের একটি তালিকা পোস্ট করে। যার মধ্যে অনেক গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক শাসকদের নিন্দা করা হয়েছে এবং কোনো কোনটির বিষয়বস্তু শুধুমাত্র “জিহাদ”।

“মোহাম্মদ বিন কাসিম” নামে আরেক ফেসবুক অ্যাকাউন্ট মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য এবং তাদের উগ্র মতাদর্শের দিকে ঠেলে দেওয়ার জন্য নিয়মিত ছবি, ভিডিও এবং অন্যান্য বিষয়বস্তু পোস্ট করে। তার অনেক পোস্টেই সরাসরি “হাতে অস্ত্র তুলে নেওয়া” এবং “জিহাদের জন্য প্রস্তুত হওয়ার” আহ্বান জানানো হয়েছে।

তবে এসব কিছুই একটি বপরিকল্পনার সামান্য অংশ মাত্র।

এসব ব্যবহারকারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ এড়ানোর জন্য এবং নকল অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য ভিপিএন এবং বিশেষ ব্রাউজার ব্যবহার করে। তাদের উদ্দেশ্য ফেসবুকের বন্ধুদের মধ্যে জিহাদি বিষয়বস্তু ছড়িয়ে দেওয়া।

দু’টি অ্যাকাউন্টই নকল কিন্তু তারা সফলভাবে আল কায়েদার মতাদর্শ প্রচার করে বেড়াচ্ছে। আল কায়েদা এবং ইসলামিক স্টেটের (আইএস) মতাদর্শ প্রচারের জন্য এই ধরনের প্রচুর আসল-নকল এবং দেশি-বিদেশি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট বাংলাদেশিদের হাত দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে।

যেহেতু ফেসবুক বাংলাদেশিদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় তাই এখনও চরমপন্থীরা এই প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করে তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনার উপযুক্ত এলাকা বলে মনে করছে। যদিও ফেসবুকের তার প্ল্যাটফর্ম থেকে সব ধরনের উগ্র বিষয়বস্তু সরিয়ে নেওয়ার নীতি আছে।

এছাড়াও তরুণদের আকৃষ্ট করা ও জিহাদের প্রচারে অসংখ্য আইপি, ওয়েবসাইট, ফোরাম, ব্লগ এবং বার্তা চ্যানেল রয়েছে যা বাংলা বিষয়বস্তুতে পূর্ণ এবং যার মাধ্যমে বাংলাদেশে এবং অন্যত্র “আল্লাহর শাসন” প্রতিষ্ঠা করা যায়।

এসব চরমপন্থী গোষ্ঠীর নিজস্ব আইপি-ও (ইন্টারনেট প্রটোকল) আছে। উদাহরণস্বরূপ, যে আইপি ব্যবহার করে “গাজওয়াতুল হিন্দ” নামে একটি প্ল্যাটফর্ম চালানো হচ্ছে, সেটি সম্ভবত ধর্মীয়, মৌলবাদী এবং জিহাদি বিষয়বস্তুর সবচেয়ে বড় ভাণ্ডার।

সেখানে থাকা সব বিষয়বস্তু পড়ে শেষ করতে অন্তত কয়েক মাস সময় প্রয়োজন। 

প্রতিটি মৌলবাদী প্ল্যাটফর্মের মতো, গাজওয়াতুল হিন্দ শত শত অন্যান্য প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে এসব লিঙ্ক শেয়ার করে। যা সক্রিয়ভাবে উগ্র মতাদর্শ প্রচার করে। এদের মধ্যে একটি হলো “মুওয়াহদিদুন” নামে একটি ব্লগ, যেখানে অনলাইন জিহাদে যোগ দিতে ইচ্ছুকদের জন্য বিভিন্ন নির্দেশিকা শেয়ার করা হয়। সেখানে কীভাবে একাকি একজন মুজাহিদ হিসেবে কাজ করা সম্ভব তার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

ফোরামে ৩২টি মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের লিঙ্ক রয়েছে যা একটি আর্কাইভ সেকশনসহ বিভিন্ন মৌলবাদী এবং জিহাদি গোষ্ঠীর মাধ্যমে পরিচালিত।

আর্কাইভগুলোর রেকর্ডের মধ্যে, ২৪ জন বাংলাদেশির একটি তালিকা রয়েছে। যারা ’৮০-র দশকে সোভিয়েত সৈন্যদের সঙ্গে লড়াইয়ের সময় আফগানিস্তানে মারা গিয়েছিল। সেখানে একটি নোটে লেখা আছে, “যেসব বাংলাদেশি মার্কিন সেনাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন এবং মারা গেছেন তাদের নাম শিগগিরই প্রকাশ করা হবে।”

alfirdaws.org-কে দেখলে একটি নিউজ সাইটের মতো মনে হয়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটি একটি মৌলবাদী সাইট যা এশিয়া, আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যে জিহাদি গোষ্ঠীর আক্রমণ এবং বিভিন্ন কার্যকলাপ সম্পর্কিত নিবন্ধ প্রকাশ করে থাকে।

তাদের সাম্প্রতিক নিবন্ধগুলোর মধ্যে একটিতে কীভাবে আল-শাবাবের মুজাহিদিন, পূর্ব আফ্রিকার আল-কায়েদা সমর্থিত জিহাদি গোষ্ঠী, উগান্ডার সৈন্যদের সঙ্গে যুদ্ধরত এলাকা দখল করে তার বর্ণনা দেওয়া আছে।

২০১৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে আইসল্যান্ড থেকে চালু করা এই সাইটটি বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের একটি গোষ্ঠীর মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। দেশেও তাদের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পাঠক রয়েছে।

এই প্ল্যাটফর্মগুলোর অধিকাংশই পরস্পর সংযুক্ত, একে অপরের বিষয়বস্তু শেয়ার করে এবং নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের জন্য নিজেদের কার্যক্রম প্রচার করে। এদের মধ্যে কেউ প্রকাশ্যে সব শেয়ার করে আবার কেউ গোপনে।

গত কয়েক মাস ধরে ঢাকা ট্রিবিউন এ ধরনের প্রায় এক ডজন মৌলবাদী প্ল্যাটফর্মের ওপর গবেষণা করে জেনেছে, এই প্ল্যাটফর্মগুলো খুবই সক্রিয় এবং ঘন ঘন বাংলা কন্টেন্ট আপলোড করে। এর মধ্যে এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা বর্তমান সরকার এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে তাঘুত (ইসলামি পরিভাষায় যা ঈশ্বর ব্যতীত অন্য উপাসনাকে নির্দেশ করে) এবং ইসলামপ্রেমীদের বিরুদ্ধে যাওয়ার জন্য তাদের সমালোচনা করে লেখা প্রকাশ করে। কিছু বিষয়বস্তু স্পষ্টভাবে সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে “ইসলামি শাসন কায়েমের” ইঙ্গিত দেয়।

২০১২ সাল থেকে র‍্যাডিক্যাল নেটওয়ার্ক ট্র্যাকিং করা সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষক তানভীর হাসান জোহা বলেন, “এই মহামারির সময়েও শত শত প্ল্যাটফর্ম তৈরি হয়েছে যেগুলো নতুন প্রজন্মের চরমপন্থীদের জন্ম দিয়েছে।”

অপ্রতুল পর্যবেক্ষণ  অপপ্রচার মোকাবিলায় কোনো অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্ম নেই

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অনলাইনে মৌলবাদী কার্যকলাপের বিশাল সংখ্যার ওপর সহজে নজর রাখতে পারে না এবং তাদের সংখ্যাও কমাতে পারছে না। আশ্চর্যের বিষয় হলো, কোনো সরকারি সংস্থার মাধ্যমে মৌলবাদী প্ল্যাটফর্ম এবং তাদের উগ্রবাদী এবং জিহাদি কার্যকলাপ মোকাবিলা করার মতো প্ল্যাটফর্ম নেই।

চরমপন্থীদের মোকাবিলায় নিবেদিত অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলো বহু বছর ধরে আলোচনায় রয়েছে কিন্তু কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) কর্মকর্তা আবদুল মান্নান বলেন, “একটি প্ল্যাটফর্ম বন্ধ করা হলে আরও অনেকগুলো মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে।”

তিনি বলেন, “আমরা প্ল্যাটফর্মগুলো ট্র্যাক করে শাটডাউন করি কিন্তু আসল কথা হলো মৌলবাদীরা দীর্ঘদিন এক প্ল্যাটফর্মে থাকে না। তারা নতুন নতুন প্ল্যাটফর্ম খুলে সেখানে চলে যায়।

আরেকজন সিটিটিসি কর্মকর্তা বলেন, “ডিজিটালভাবে মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য আমাদের বেশ কয়েকটি শক্তিশালী ওয়েবসাইট এবং ফেসবুক পেজ থাকা উচিত। তা-না হলে শক্তিশালী হওয়ার জন্য মৌলবাদীরা নতুন সদস্যদের যুক্ত করতেই থাকবে।”

উগ্রপন্থীরা ডার্কনেট ব্যবহার করে

আইটি ফার্ম ব্যাকডোর প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর হাসান জোহা বলেন, “বছরের পর বছর ধরে যেসব নিদর্শন লক্ষ্য করা গেছে তার মধ্যে রয়েছে জঙ্গিরা নতুন প্রযুক্তি এবং সামাজিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে সফলভাবে অভিযোজিত হয়ে বৃহৎ পরিসরে দর্শকদের কাছে পৌঁছায়।”

গত বছর “হিযবুত তাহরির” একটি অনলাইন সেমিনারের আয়োজন করেছিল এবং তাদের ঘোষণার পোস্টারে নিষিদ্ধ এই সংগঠনটি “ডার্ক ওয়েব লিংক” ব্যবহার করে লোকজনকে লাইভ প্রোগ্রামে যোগ দেওয়ার আহ্বান করেছিল।

জোহা বলেন, “উগ্রপন্থীরা এখন সারফেস ওয়েবকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করে। তাই তারা ধীরে ধীরে ডার্কনেট অ্যাক্সেসের দিকে ঝুঁকছে। অনেক বৈশ্বিক এবং আঞ্চলিক জিহাদি গোষ্ঠীই ইতোমধ্যে কয়েক বছর ধরে ডার্ক ওয়েবে ব্যবহার করছে। তাই এসব সন্ত্রাসবাদের বাস্তব চিত্র জানার জন্য আমাদের ডার্কনেটে চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোকে ট্র্যাক করতে হবে।



50
Facebook 50
blogger sharing button blogger
buffer sharing button buffer
diaspora sharing button diaspora
digg sharing button digg
douban sharing button douban
email sharing button email
evernote sharing button evernote
flipboard sharing button flipboard
pocket sharing button getpocket
github sharing button github
gmail sharing button gmail
googlebookmarks sharing button googlebookmarks
hackernews sharing button hackernews
instapaper sharing button instapaper
line sharing button line
linkedin sharing button linkedin
livejournal sharing button livejournal
mailru sharing button mailru
medium sharing button medium
meneame sharing button meneame
messenger sharing button messenger
odnoklassniki sharing button odnoklassniki
pinterest sharing button pinterest
print sharing button print
qzone sharing button qzone
reddit sharing button reddit
refind sharing button refind
renren sharing button renren
skype sharing button skype
snapchat sharing button snapchat
surfingbird sharing button surfingbird
telegram sharing button telegram
tumblr sharing button tumblr
twitter sharing button twitter
vk sharing button vk
wechat sharing button wechat
weibo sharing button weibo
whatsapp sharing button whatsapp
wordpress sharing button wordpress
xing sharing button xing
yahoomail sharing button yahoomail