• মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৯, ২০২১
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৫:২৫ সন্ধ্যা

ইয়াবার চেয়েও ২০ গুণ শক্তিশালী যে মাদক

  • প্রকাশিত ০৯:৪৯ রাত আগস্ট ২১, ২০২১
আইস ও ইয়াবা
রাজধানীতে অভিযান চালিয়ে আইস ও ইয়াবা উদ্ধার করে ডিবি পুলিশ ছবি: মেহেদি হাসান/ঢাকা ট্রিবিউন

বাংলাদেশে ক্রিস্টাল মেথ (আইস) নামের ভয়াবহ মাদকটি সর্বপ্রথম ধরা পড়ে ২০০৭ সালে

বাংলাদেশে ক্রিস্টাল মেথ (আইস) নামের ভয়াবহ মাদকটি সর্বপ্রথম ধরা পড়ে ২০০৭ সালে। এরপর ১০ থেকে ১২ বছর এর অস্তিত্ব দেশে খুঁজে পাওয়া যায়নি। সর্বশেষ ২০১৯ সালে আবারও নতুন এই মাদকের আবির্ভাব ঘটে। সে বছর রাজধানীর ধানমন্ডিতে ক্রিস্টাল মেথের একেবারে কারখানা খুঁজে পান আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। যিনি এই কারখানাটি দিয়েছিলেন তিনি মালয়েশিয়ায় ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াকালেই ক্রিস্টাল মেথ (আইস) তৈরির কারিগরি জ্ঞান অর্জন করে দেশে ফিরে আইস তৈরির কারখানা গড়ে তোলেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কেমিস্ট শফিকুল ইসলাম সরকার জানান, ক্রিস্টাল মেথ বা আইস ইয়াবার চেয়ে ২০ গুণ শক্তিশালী। এটি দেখতে তালমিছরির মতো এবং ১ গ্রাম আইস দিয়ে ৫০০ ইয়াবা তৈরি করা সম্ভব।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এতদিন এর অস্তিত্ব খুঁজে না পাওয়া গেলেও সাম্প্রতিক সময়ে আইস নামের এ মাদক ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ছে। সমাজের উচ্চবিত্ত শ্রেণীর যুব সমাজের মাঝে এ মাদকটি ছড়িয়ে পড়ছে। তারা এটিতে আইসে আসক্ত ও এর ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পড়েছেন।

শুক্রবার (২০ আগস্ট) বিকেল থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ক্রিস্টাল মেথ (আইস) সেবন ও বিক্রির অভিযোগে মোট ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রো উত্তরের একাধিক টিম। ঢাকার অভিজাত এলাকা বনানী, বসুন্ধরা-বারিধারা এবং খিলগাঁও থেকে অর্ধকোটি টাকারও বেশি মূল্যের নতুন মাদক ক্রিস্টাল মেথ (আইস) ও ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে তাদের কাছ থেকে। ফলে আবারও নতুন করে আলোচনায় এসেছে ভয়াবহ এই মাদকের নাম।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- বনানীর রুবায়াত (৩২), মো. রোহিত হোসেন (২৭), মাসুম হান্নান (৪৯), মো. আমান উল্লাহ (৩০) ও মুসা উইল বাবর (৩৯)। বসুন্ধরার-বারিধারা আবাসিক এলাকা থেকে সৈয়দা আনিকা জামান ওরফে অরপিতা জামান (৩০), লায়লা আফরোজ প্রিয়া (২৬), রামপুরার-তানজীম আলী শাহ ও মো. হাসিবুল ইসলাম (২২) এবং খিলগাওয়ের- থেকে মোহাইমিনুল ইসলাম ইভান (২৯)।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলের ঢাকা মেট্রো-উত্তরের কার্যালয়ে আয়োজিত এ সংক্রান্ত এক সংবাদ সম্মেলনে  মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এসব তথ্য জানিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগের প্রধান অতিরিক্ত পরিচালক মো. ফজলুর রহমান বলেন, “ক্রিস্টাল মেথ (আইস) একটি ভয়ঙ্কর মাদক, যা ইয়াবার থেকে বহুগুণ শক্তিশালী যা মানব মস্তিষ্কের নিউরনে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। এটি একটি ‘ক’ শ্রেণীর মাদকদ্রব্য।”

অভিযানে গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে প্রায় ৫০০ গ্রাম আইস ও পাঁচ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। যার আনুমানিক মূল্য অর্ধকোটি টাকা। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ (সংশোধিত ২০২০) অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট থানায় মোট আটটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতারদের মধ্যে সবাই বিত্তবান পরিবারের সন্তান। প্রথমে সবাই ছিলেন ইয়াবা ও আইসে আসক্ত। সেবনের পাশাপাশি এরপর তারা নিজেরাই জড়িয়ে পড়েন আইস কারবারে। তাদের কেউ গার্মেন্টস ব্যবসায়ী, কেউ বা একাধিক আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনের মালিক, কেউ বা মালয়েশিয়া থেকে পড়াশোনা শেষ করে দেশে এসেছেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে বিশেষায়িত এই সংস্থাটির পর্যবেক্ষণ হলো, এই মুহূর্তে ইয়াবার চেয়ে তারা অভিযানে ক্রিস্টাল মেথ বা আইস পাচ্ছে বেশি। এটি দেখতে তালমিছরির মতো এবং ১ গ্রাম আইস দিয়ে ৫০০ ইয়াবা তৈরি করা সম্ভব। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা অভিভাবকদের অনেকেই এখনো ক্রিস্টাল মেথ বা আইস চেনেন না। আর কাঁচামাল নিয়ে এসে ইয়াবা তৈরি করা সহজ। এ দুই কারণে ক্রেতা–বিক্রেতাদের একটা অংশ এখন ইয়াবার চেয়ে ক্রিস্টাল মেথ বা আইস সংগ্রহে আগ্রহী হয়ে উঠছে। তারা বলছে, ঢাকায় ক্রিস্টাল মেথ বা আইসের কেনাবেচা নিয়ন্ত্রণ করে সাত–আটজনের একটি দল। 

মো. ফজলুর রহমান বলেন, কিছুদিন ধরে নতুন মাদকের দিকে ঝুঁকছেন মাদক ব্যবসায়ী ও সেবীরা, যার নাম ক্রিস্টাল মেথ বা আইস। সর্বপ্রথম মাদকটি ধরা পড়ে ২০০৭ সালে। তারপরে ১০ থেকে ১২ বছর এর অস্তিত্ব আমরা পাইনি। ২০১৯ সালে আবারও এ মাদকের আবির্ভাব ঘটে। সে বছর আমরা রাজধানীর ধানমন্ডিতে আইস তৈরির কারখানার সন্ধান পাই। যাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল, তিনি মালয়েশিয়ায় ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াকালেই আইস তৈরির কারিগরি জ্ঞান অর্জন করে দেশে ফিরে আইস তৈরির কারখানা গড়ে তোলেন।

ফজলুর রহমান আরও বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে আইস নামের এ মাদক ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ছে। আমাদের কাছে এমন তথ্য ছিল। একটি মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে ও গোয়েন্দা কৌশল ব্যবহার করে আমরা বনানী, উত্তরা, বনশ্রী ও খিলগাঁও এলাকায় আইস এর এ শক্তিশালী নেটওয়ার্ককে আমরা শনাক্ত করতে সক্ষম হই। সে পরিপ্রেক্ষিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের ঢাকা মেট্রো কার্যালয়ের (উত্তর) উপ-পরিচালক মো. রাশেদুজ্জামানের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ও সহকারী পরিচালক মো. মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে পাঁচটি পৃথক টিম শুক্রবার বিকেল থেকে একযোগে অভিযান চালিয়ে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করে।”

তিনি আরও বলেন, “সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হচ্ছে, সমাজের উচ্চবিত্ত শ্রেণীর যুব সমাজের মাঝে এ মাদকটি ছড়িয়ে পড়ছে। বিয়টিকে আমরা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি এবং প্রধানমন্ত্রীর মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি।”

50
Facebook 50
blogger sharing button blogger
buffer sharing button buffer
diaspora sharing button diaspora
digg sharing button digg
douban sharing button douban
email sharing button email
evernote sharing button evernote
flipboard sharing button flipboard
pocket sharing button getpocket
github sharing button github
gmail sharing button gmail
googlebookmarks sharing button googlebookmarks
hackernews sharing button hackernews
instapaper sharing button instapaper
line sharing button line
linkedin sharing button linkedin
livejournal sharing button livejournal
mailru sharing button mailru
medium sharing button medium
meneame sharing button meneame
messenger sharing button messenger
odnoklassniki sharing button odnoklassniki
pinterest sharing button pinterest
print sharing button print
qzone sharing button qzone
reddit sharing button reddit
refind sharing button refind
renren sharing button renren
skype sharing button skype
snapchat sharing button snapchat
surfingbird sharing button surfingbird
telegram sharing button telegram
tumblr sharing button tumblr
twitter sharing button twitter
vk sharing button vk
wechat sharing button wechat
weibo sharing button weibo
whatsapp sharing button whatsapp
wordpress sharing button wordpress
xing sharing button xing
yahoomail sharing button yahoomail