• রবিবার, ডিসেম্বর ০৫, ২০২১
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:১৭ সকাল

নিয়োগ বোর্ডে বাদ পড়েও হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক!

  • প্রকাশিত ০১:৫২ দুপুর অক্টোবর ১০, ২০২১
গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-বশেমুরবিপ্রবি
গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। ঢাকা ট্রিবিউন

অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলেন, আমাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের ভাবতে হবে না

গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বশেমুরবিপ্রবি) রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ বোর্ডে বাদ পড়া প্রার্থীকেই নিয়োগ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। 

পাশাপাশি, রিজেন্ট বোর্ড ও অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলে সদস্য নিয়োগ এবং মুজিববর্ষের বিশেষ ডায়েরি তৈরিসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। 

জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বর্তমান সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক ড. হাসিবুর রহমান ২০১৭ সালের ৪ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু ইনস্টিটিউট অব লিবারেশন ওয়ার অ্যান্ড বাংলাদেশ স্টাডিজের (বিলওয়াবস) শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেছিলেন। 

এরপর, ২০১৮ সালের ২২ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তিন শিক্ষক যোগদান করেন। 

এ সময় ড. হাসিবুর রহমানও ওই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করলেও যোগ্যতা প্রমাণে ব্যর্থ হন। পরে ২০২০ সালের ১৩ অক্টোবর কোনো নিয়োগ প্রক্রিয়া ছাড়াই একটি চিঠির মাধ্যমে ইনস্টিটিউট থেকে সরাসরি রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক হিসেবে হাসিবুর রহমানকে স্থানান্তর করা হয়। 

একই প্রক্রিয়ায় সহকারী অধ্যাপক ড. আবু সালেহকে এ বছরের ৬ সেপ্টেম্বরে ইনস্টিটিউট থেকে স্থানান্তর করে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক করা হয়েছে। 

এর আগে, বিশ্বিবদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ বোর্ডে ড. আবু সালেহ প্রার্থী হিসেবে আবেদন করেছিলেন। তবে তিনিও নিয়োগ পাননি। 

এদিকে, ২০১৭ সালে বিলওয়াবস ইন্সটিটিউটে যোগদান করলেও ওই তারিখে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে যোগদান করেছেন দেখিয়ে নিজেকে এবং আবু সালেহকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে তথ্য হালনাগাদ করার জন্য গত ৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে চিঠি দিয়েছেন হাসিবুর রহমান। 

এ বিষয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ এবং বিভাগে চাকরির সময়কাল গণনা নিয়ে ধূম্রজাল তৈরি হয়েছে দাবি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কয়েকজন শিক্ষক।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষক বলেন, “ইনস্টিটিউট এবং অনুষদ সম্পূর্ণ আলাদা নিয়মে পরিচালিত হয়। এ অবস্থায় একটি ইনস্টিটিউট থেকে দুজন শিক্ষককে নিয়োগ প্রক্রিয়া ছাড়াই রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে স্থানান্তর করা হয়েছে। এদের মধ্যে আগে বাদ পড়া একজন প্রার্থীও রয়েছেন।”

তিনি জানান, বিভাগের আরও তিন শিক্ষক আগে যোগদান করলেও হাসিবুর রহমান এবং আবু সালেহকে জ্যেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে দাবি করা হয়েছে। 

এছাড়া, অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের আপত্তি সত্ত্বেও ড. হাসিবুর রহমানকে রিজেন্ট বোর্ডের সদস্য করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহান ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, রিজেন্ট বোর্ডের সদস্য করার জন্য ২২তম অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলে উপাচার্য একজনের নাম উত্থাপন করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের সভাপতি এবং অনুষদের ডিনরা আপত্তি জানালে আপত্তির বিষয়টি প্রথমে আমলে নেওয়া হয়। তবে পরবর্তী সভায় অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের অনুমতি আছে উল্লেখ করে ওই শিক্ষককে রিজেন্ট বোর্ডের সদস্য করার ঘোষণা দেওয়া হয়। 

এগুলো বাদেও, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অমান্য করে দুজন সদস্যকে অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য করার অভিযোগ উঠেছে। 

বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ২১ (১)-এর “জ” ও “ঝ” ধারা অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপকদের নির্বাচিত একজন সমমর্যাদার শিক্ষক এবং প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপকদের নির্বাচিত একজন সহকারী অধ্যাপক অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য হবেন। কিন্তু এ দুই সদস্যের নির্বাচনের বেলায় কোনো আলোচনা করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। 

এছাড়া, মুজিববর্ষের বিশেষ ডায়েরি তৈরি নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে ড. হাসিবুর রহমানের বিরুদ্ধে। 

জানা যায়, মুজিববর্ষ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বিশেষ ডায়েরি তৈরি করার জন্য হাসিবুর রহমানকে সভাপতি করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সেই অনুসারে কিছুদিন আগে ১ হাজার ৮০০ টি ডায়েরি তৈরি হলেও তা অত্যন্ত নিম্নমানের হয়েছে বলে জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়নি। 

একই সঙ্গে, বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ ও অশালীন মন্তব্য করার অভিযোগও উঠেছে ড. হাসিবুর রহমানের বিরুদ্ধে। 

এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ড. হাসিবুর রহমান ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে তা ভিত্তিহীন।”

তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে স্থানান্তরের বিষয়ে বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিধি অনুযায়ী আমাকে স্থানান্তর করেছে। বিষয়টি রিজেন্ট বোর্ডে পাশও হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগের তারিখ অনুযায়ী জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ করা হয়েছে। এখানে কোনো অনিয়ম করা হয়নি।”

মুজিববর্ষের ডায়েরির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমার যতটুকু দায়িত্ব ছিল আমি পালন করেছি। বাকিটা বিশ্ববিদ্যালয়ের দেখার দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রেও অনিয়ম করা হয়নি।” 

ইন্সটিটিউট থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক হওয়ার বিষয়ে অভিযুক্ত আরেক শিক্ষক ড. আবু সালেহ বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমাকে উপযুক্ত মনে করেছে তাই অন্য বিভাগে স্থানান্তর করেছে।” 

এ সকল অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একিউএম মাহবুবের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “কাকে কোন বিভাগে নিয়োগ দেওয়া হবে, কে রিজেন্ট বোর্ডে থাকবে আর কে থাকবে না সেটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। এ বিষয়ে গণমাধ্যম কর্মীদের ভাবতে হবে না, লিখতে হবে না।”

50
Facebook 50
blogger sharing button blogger
buffer sharing button buffer
diaspora sharing button diaspora
digg sharing button digg
douban sharing button douban
email sharing button email
evernote sharing button evernote
flipboard sharing button flipboard
pocket sharing button getpocket
github sharing button github
gmail sharing button gmail
googlebookmarks sharing button googlebookmarks
hackernews sharing button hackernews
instapaper sharing button instapaper
line sharing button line
linkedin sharing button linkedin
livejournal sharing button livejournal
mailru sharing button mailru
medium sharing button medium
meneame sharing button meneame
messenger sharing button messenger
odnoklassniki sharing button odnoklassniki
pinterest sharing button pinterest
print sharing button print
qzone sharing button qzone
reddit sharing button reddit
refind sharing button refind
renren sharing button renren
skype sharing button skype
snapchat sharing button snapchat
surfingbird sharing button surfingbird
telegram sharing button telegram
tumblr sharing button tumblr
twitter sharing button twitter
vk sharing button vk
wechat sharing button wechat
weibo sharing button weibo
whatsapp sharing button whatsapp
wordpress sharing button wordpress
xing sharing button xing
yahoomail sharing button yahoomail