• সোমবার, নভেম্বর ২৯, ২০২১
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:৩৭ সকাল

‘আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে আরও বাণিজ্য-ভ্রমণ সহযোগিতা চাই, কিন্তু শহুরে উপকথা সাহায্য করছে না’

  • প্রকাশিত ০২:৩০ দুপুর অক্টোবর ১৫, ২০২১
আমদানি-বেনাপোল-ট্রাক
আমদানি পণ্য নিয়ে বেনাপোল বন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে ভারতীয় ট্রাক ফাইল ছবি/ঢাকা ট্রিবিউন

ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী বলেছেন, ভারত এবং বাংলাদেশ একসঙ্গে সমৃদ্ধ হতে পারে। কিন্তু 'অসম্পূর্ণ বয়ান' এবং 'শহুরে উপকথা' নয়াদিল্লি ও ঢাকার জন্য এটা কঠিন করে তুলছে। ঢাকা ট্রিবিউনের জন্য অ্যাডাম পিটম্যানকে দেওয়া একান্ত  সাক্ষাতকারের এটি হচ্ছে চতুর্থ পর্ব

সাংবাদিক এবং ভাষ্যকাররা প্রায়ই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে একটি অভিযোগের তালিকা হিসেবে উপস্থাপন করে থাকেন।

শিক্ষাবিদ এবং বিশ্লেষকরা এই রকম প্রতিবেদনকে নয়াদিল্লি এবং ঢাকার মাঝে মতবিরোধের  প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেন। বিষয়গুলো যখনই উত্তপ্ত হতে শুরু করে সরকারি প্রতিনিধিরা তাতে জল ঢেলে দেন। 

এটি একটি দুষ্টচক্র।

এটিকে এক দিকে ভারত ও বাংলাদেশের জন্য স্বাভাবিক ব্যাপার হিসেবে দেখা যায়। আবার আরেক দিকে বলা যায় যে আমলাদের তাদের সিদ্ধান্তগুলোকে আরও ভালভাবে জানাতে হবে। হাইকমিশনারের মতে, পর্যবেক্ষকদের উচিত অভিযোগের পরিবর্তে সমাধানের পথ সন্ধান করা, কারণ অভিযোগ প্রায়ই গল্পের কেবল একটি দিককেই প্রতিফলিত করে।

এটি ইঙ্গিত দেয় যে সম্পর্ক নিয়ে সমালোচকদের তাদের কথা বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে আরও প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন ।

আমি মনে করি, দাবি-দাওয়া ও অভিযোগের তালিকা নিয়ে আলোচনার পরিবর্তে কীভাবে বৃহত্তর, পারস্পরিক লাভজনক উপায়ে সমস্যাগুলোর সমাধান করা যায় তার প্রতি মনোনিবেশ করা অনেক বেশি কার্যকর।

মূলকথা হলো বিশ্বাসযোগ্যভাবে দেখাতে সক্ষম হওয়া এবং আমি এটি আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করি যে, আরও অধিক বাণিজ্য, অধিক ভ্রমণ, অধিক সহযোগিতা সহজতর করার জন্য একটি বাস্তববাদী এবং রাজনীতিবিহীন পদ্ধতি অনিবার্যভাবে আমাদের সবাইকে অধিকতর সমৃদ্ধি, বৃহত্তর স্থিতিশীলতা সর্বোপরি একটি উন্নত প্রতিবেশিত্বের দিকে নিয়ে যাবে। 

স্পষ্টতই, এটি আমাদের সকল মানুষের বৃহত্তর উপকারের জন্য।

একই সঙ্গে, দক্ষিণ এশিয়ার বাজার এবং বিপণন ব্যবস্থা উন্নত অর্থনীতির অঞ্চলগুলো থেকে তুলনামূলকভাবে কম উন্নত। খাদ্যপণ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ঘাটতির ফলে বাণিজ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়ে থাকে। এ বিষয়টির ওপর জোর দেওয়াও যুক্তিসঙ্গত।

ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী। ফাইল ছবি: সংগৃহীত


প্রথম পর্ব- ‘রাজনৈতিক বক্তব্যকে মাঠের কর্মকাণ্ড থেকে আলাদা করা গুরুত্বপূর্ণ’


ঢাকা ট্রিবিউন: ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক প্রায়শই আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দিয়ে মাপা হয়ে থাকে। যেমন- রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা, বিমান ভ্রমণ, পানি বণ্টন চুক্তি ইত্যাদি। একটি ‘‘অর্ধেক গ্লাস খালি’’ দৃষ্টিভঙ্গির অর্থ হলো যে সেখানে একটি ধারণক্ষমতার অথবা যোগাযোগের সমস্যা আছে। আবার ‘‘অর্ধেক গ্লাস পূর্ণ’’ দৃষ্টিভঙ্গির অর্থ হলো যে বাংলাদেশিরা চায় নয়াদিল্লি আরও ভালো কিছু করুক। এই  সমস্যাগুলোকে যখন একসাথে দেখেন তখন আপনার কী মনে হয়?

দোরাইস্বামী: মজার ব্যাপার হলো, সরকার এবং আমলাদের সীমান্তের উভয়পাশে আরও ভালো কিছু করার ইচ্ছা আছে। ভারতে ব্যবসায়ী এবং বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি নীতি নির্ধারকদেরও নিজস্ব অভিযোগের তালিকা রয়েছে। আমদানি নিষেধাজ্ঞা থেকে শুরু করে ন্যূনতম আমদানি মূল্য পর্যন্ত এগুলোর ব্যাপ্তি। অন্যান্য প্রয়োগগত বাধা ছাড়াও সেখানে উচ্চ শুল্ক ও আধা-শুল্ক এবং বাজারে প্রবেশে বিধিনিষেধ রয়েছে। 

অতএব, যে লক্ষ্যের দিকে আমরা এগোনোর চেষ্টা করেছি, তা হলো বিদ্যমান পণ্যসামগ্রীর প্রাপ্যতা বৃদ্ধির জন্য অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণের মাধ্যমে এই ধরনের উত্থান-পতন থেকে আমাদের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আলাদা করে ফেলা। 

উদাহরণস্বরূপ, আমরা এমন সব পণ্যের স্থানীয় উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা করার চেষ্টা করছি যেগুলি বিশেষত মৌসুমি চাহিদার হ্রাস-বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত। এর মধ্যে রয়েছে পেঁয়াজের বীজ সরবরাহ, হিমাগার বৃদ্ধি করা ইত্যাদি।

আমি মজুতকারীদের হস্তক্ষেপ কমাতে আরও উন্নত পণ্য উৎপাদনে তথ্য আদান-প্রদান সুবিধা বাড়াতে আগ্রহী, কিন্তু এর জন্য আরও বেশি সময় লাগবে।

সম্পর্ক নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে কখনও কখনও অসম্পূর্ণ কোনো বিষয় প্রতিষ্ঠা করার প্রবণতা থাকে। তবে এটি সবসময়ে খুব সহায়ক হয় না, কারণ এটি যে কেবল বর্ণিত বিষয়টিকে জটিল করে তোলে তা-না বরং এর ফলে উভয়পক্ষের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করাও কঠিন হয়ে পড়ে।


দ্বিতীয় পর্ব- ‘কেন্দ্রীয় পর্যায়ের পাশাপাশি ভারতের রাজ্যগুলোর সঙ্গে যুক্ত থাকা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ’


দীর্ঘকাল ধরে একটি বিশ্বাস প্রচলিত আছে যে সংযোগ এবং জ্বালানিশক্তির ক্ষেত্রে ভারত সবকিছুই পাচ্ছে এবং বাংলাদেশ কিছুই পাচ্ছে না। এটি সংযোগ এবং অন্যান্য প্রকল্পের বিরুদ্ধে সহিংস বিক্ষোভের জন্ম দিচ্ছে।

প্রথমত: সংযোগ

বাংলাদেশে অত্যন্ত দৃঢ় প্রত্যয়ের সাথে বলা হয় যে, বাংলাদেশের দেওয়া সংযোগ সুবিধা থেকে ভারত উপকৃত হয়েছে, কিন্তু বিনিময়ে ভারত বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশ যেমন নেপাল বা ভুটানের সঙ্গে বাণিজ্যের জন্য কোনো পারস্পরিক সংযোগ সুবিধা দেয়নি।

প্রকৃতপক্ষে, কমবেশি এর বিপরীতটাই সত্য।

উদাহরণস্বরূপ, চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহারের চুক্তি, যা কয়েক বছর আগে স্বাক্ষরিত হয়েছিল, তাতে উল্লেখ করা হয়েছে ট্রানজিট হিসেবে “মূল ভূখণ্ড” ভারত থেকে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে শত শত কন্টেইনার নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কিন্তু এটি বেশিরভাগ মানুষই জানে না যে গত পাঁচ বছরে ট্রানজিট বাণিজ্যের আওতায় পরিবহন করা হয়েছে এমন মোট কন্টেইনারের সংখ্যা ঠিক চারটি।

কিছু পরিমাণ পণ্য আশুগঞ্জ হয়ে অভ্যন্তরীণ নৌ-বাণিজ্য এবং ট্রানজিট রুট দিয়েও নিয়ে যাওয়া হয়েছে, কিন্তু তাও একটি পরিমিত পরিমাণে।

অন্যদিকে, ১৯৭৬ সালে রেল চুক্তির পর থেকে ভারতীয় রেলওয়ের মাধ্যমে সারসহ বিভিন্ন পণ্য বাংলাদেশ থেকে নেপালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এই বছরে, নেপালে ৫০,০০০ টন ইউরিয়া রপ্তানি করা হয়েছিল, এমনকি ১৯৯৬-৯৭ সালে ১৪০০ টন এসএসপি (সিঙ্গেল সুপার ফসফেট) ভারত হয়ে নেপালে রপ্তানি করা হয়েছিল। নেপালের চাহিদা অনুযায়ী এই ধরনের রপ্তানি অব্যাহত রয়েছে, যার মধ্যে সর্বোচ্চ পরিমাণ তথা ২৫,৩৪৫ টন এসএসপি সার ও তামাক রপ্তানি করা হয়েছিল ২০০৫ সালে।


তৃতীয় পর্ব- ‘সহিংস ঘটনাগুলোর প্রকৃতি জনপ্রিয় কাহিনীগুলো থেকে অনেক বেশি আলাদা'


আমার এখানে আরও উল্লেখ করা উচিত যে, ট্রানজিটের আওতায় আমাদের রাস্তা দিয়ে ভারতীয়, নেপালি বা ভুটানি ট্রাক ব্যবহার করে নেপাল বা ভুটানের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আমরা কোনো অতিরিক্ত ফি নেই না। উপ-আঞ্চলিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আমাদের রেলওয়ে অবকাঠামো ব্যবহারের জন্য আমরা পণ্য ওঠা-নামা করা বাবদ এবং অন্যান্য ফি ব্যতীত কোনো অতিরিক্ত ফি গ্রহণ করি না। 

নেপাল এবং ভুটান স্থলবেষ্টিত দেশ তাই তাদের বাণিজ্য সহজীকরণে আমাদের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এটি আসলে আমাদের উপ-আঞ্চলিক সংযোগ সহজতর করার নীতির একটি অংশ। জ্বালানি বাণিজ্য সম্পর্কেও একই ধরনের শহুরে উপকথা রয়েছে ।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক অপ্রচলিত মন্তব্য রয়েছে যে ভারত, বাংলাদেশ এবং হিমালয়ের পাদদেশের দুই দেশ নেপাল ও ভুটানের মধ্যে জ্বালানি বাণিজ্যের অনুমতি দিচ্ছে না।

বাস্তবতা হলো, ভারতের গ্রিড থেকে -প্রধানত পশ্চিমবঙ্গ থেকে এবং কিছুটা ত্রিপুরা থেকে বাংলাদেশে সঞ্চালিত ১,১১৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বিদ্যমান আন্তঃসীমান্ত সঞ্চালন ক্ষমতাকে পুরোপুরি কাজে লাগিয়েছে।

নতুন বিদ্যুৎ সঞ্চালন সক্ষমতা তৈরি করতে এবং নতুন জ্বালানি বাণিজ্য সম্পর্ককে উৎসাহিত করতে আমরা বিপুলভাবে আগ্রহী, কারণ এটি আমাদের জন্যও  লাভজনক বটে! 

কিন্তু জ্বালানি বাণিজ্যকে সহজতর করার জন্য উদাহরণস্বরূপ, বাংলাদেশ এবং নেপালের মধ্যে সরাসরি বাণিজ্যের জন্য আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ সঞ্চালন অবকাঠামোতে সমান্তরাল বিনিয়োগের প্রয়োজন পড়বে। অনুমতি পেলে আমরা এতেও বিনিয়োগ করতে প্রস্তুত।

50
Facebook 50
blogger sharing button blogger
buffer sharing button buffer
diaspora sharing button diaspora
digg sharing button digg
douban sharing button douban
email sharing button email
evernote sharing button evernote
flipboard sharing button flipboard
pocket sharing button getpocket
github sharing button github
gmail sharing button gmail
googlebookmarks sharing button googlebookmarks
hackernews sharing button hackernews
instapaper sharing button instapaper
line sharing button line
linkedin sharing button linkedin
livejournal sharing button livejournal
mailru sharing button mailru
medium sharing button medium
meneame sharing button meneame
messenger sharing button messenger
odnoklassniki sharing button odnoklassniki
pinterest sharing button pinterest
print sharing button print
qzone sharing button qzone
reddit sharing button reddit
refind sharing button refind
renren sharing button renren
skype sharing button skype
snapchat sharing button snapchat
surfingbird sharing button surfingbird
telegram sharing button telegram
tumblr sharing button tumblr
twitter sharing button twitter
vk sharing button vk
wechat sharing button wechat
weibo sharing button weibo
whatsapp sharing button whatsapp
wordpress sharing button wordpress
xing sharing button xing
yahoomail sharing button yahoomail