• সোমবার, নভেম্বর ২৯, ২০২১
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:০১ রাত

‘বাংলাদেশের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি ভারতের জন্য সর্বোচ্চ অগ্রগণ্য বিষয়’

  • প্রকাশিত ০৩:১৫ বিকেল অক্টোবর ১৫, ২০২১
বেনাপোল চেকপোস্ট
বেনাপোল স্থলবন্দর সংগৃহীত

প্রস্তাবিত সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তিটি ভারত এবং বাংলাদেশের জন্য লাভজনক এবং দেশটির হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী বলেছেন, ভারত যত দ্রুত সম্ভব ২০২২ সালের জানুয়ারিতেই আলোচনার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। ঢাকা ট্রিবিউনকে দেয়া অ্যাডাম পিটম্যানের সাথে তার একান্ত সাক্ষাতকারের এটি হচ্ছে পঞ্চম পর্ব

বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির পরবর্তী ধাপকে আরও শক্তিশালী করতে ঢাকা অধিক প্রতিযোগিতামূলক বাণিজ্য ব্যবস্থা চায়।

বাংলাদেশ বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক বাণিজ্য চুক্তির অংশীদার। কিন্তু এই চুক্তিগুলোর সুফল হ্রাস পেতে শুরু করেছে। যুক্তি দিয়ে বলা যায় যে, দেশটি কম মূল্যের উৎপাদন এবং রপ্তানির সীমায় পৌঁছেছে।

এদিকে, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) হিসেবে বাংলাদেশ রপ্তানির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারমূলক শুল্ক থেকে সুবিধা পেয়েছে। বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার পর এ সুবিধাগুলো থেকে বঞ্চিত হবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এই সমস্যা মোকাবিলায় সাহায্য করার জন্য এলডিসি সুবিধা বাড়াতে এবং কমপক্ষে ১১টি চুক্তি সম্পন্ন করতে চায়। পাশাপাশি নয়াদিল্লিতে তাদের একটি অংশীদার রয়েছে যাদের সঙ্গে তারা কাজ করতে জানেন।

কিন্তু ঢাকা ও নয়াদিল্লি কি তা বাস্তবায়ন করবে? হাই কমিশনার মনে করেন যে তারা পারবে।

ঢাকা ট্রিবিউন: একটি দ্বিপাক্ষিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি উভয় দেশে আয়ের পথ সৃষ্টি করবে এবং প্রবৃদ্ধির উন্নয়ন ঘটাবে। নয়াদিল্লি এবং ঢাকা আরও উচ্চাভিলাষী কিছু নিয়ে গবেষণা করতে সম্মত হয়েছে- তা হচ্ছে একটি সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি। আপনি কি এই গবেষণা কাজের সময়সীমা এবং তার ভবিষ্যৎ কার্যক্রম ব্যাখ্যা করতে পারেন?

দোরাইস্বামী: দেখুন, যৌথ গবেষণা কাজটি- যেটিকে আমরা সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি বা সেপা বলি যেটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির অতিরিক্ত ব্যবস্থা- শেষ  করার মূল সময়সীমা ছিল এই বছরের সেপ্টেম্বর। যাই হোক, আমরা জানি যে এ বিষয়ে অংশীদারদের যুক্তি-পরামর্শের ব্যাপারে এখনও বাংলাদেশের পক্ষ থেকে চলছে। যা মহামারির কারণে বিলম্বিত হয়েছে।

আশা করি খুব শিগগিরই আমরা কাজটি শেষ হওয়ার চূড়ান্ত নিশ্চয়তা পেয়ে যাব। 

যেহেতু গবেষণা শেষ হয়নি, আমি মনে করি খসড়াতে কী পরামর্শ রয়েছে তার বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া আমার পক্ষে ঠিক হবে না। কিন্তু আমি বলতে পারি, গবেষণায় বলা হয়েছে একটি ভালো সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (সেপা) বাংলাদেশ এবং ভারত উভয়ের জন্যই একটি সুস্পষ্ট এবং পারস্পরিক লাভজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে।

বিস্তারিত বিবরণে না গিয়ে বলছি, খসড়া গবেষণায় বলা হয়েছে- একটি সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (সেপা) সম্পাদিত হলে আনুষঙ্গিক উন্নয়ন না ঘটলেও পণ্যবাণিজ্য উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে এবং উভয় দেশের জিডিপিতে সমান্তরাল ও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে, যা বাংলাদেশের জন্য বেশি ইতিবাচক হবে।


প্রথম পর্ব- ‘রাজনৈতিক বক্তব্যকে মাঠের কর্মকাণ্ড থেকে আলাদা করা গুরুত্বপূর্ণ’ 


গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, সেবাখাতগুলোতেও বাণিজ্য ব্যাপকভাবে বাড়কে এবং এতে নির্দিষ্ট কিছু খাত ও ব্যবসার বিষয়ে বলা হয়েছে যেমন টেলিকম, তথ্য-প্রযুক্তি এবং কম্পিউটার-সম্পর্কিত পরিষেবা, বিশেষত, তথ্য প্রযুক্তি এবং তথ্য প্রযু্ক্তি সক্ষম পরিষেবার ক্ষেত্রে প্রারম্ভিক কাজগুলো সুবিধা পাবে। সম্ভাব্য অন্যান্য খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে আর্থিক পরিষেবা এবং ব্যক্তিগত ভ্রমণ পরিষেবা ইত্যাদি, এগুলোও কাজে লাগানো যেতে পারে।

বাংলাদেশ বিশেষ করে ভারতে মালবহনের মাশুল এবং পরিবহন পরিষেবা থেকে বড় মাপের আয়ের সংস্থান করতে পারে। এছাড়া, বিনিয়োগের মাধ্যমে শিক্ষা পরিষেবা এবং অন্যান্য দক্ষতা উন্নয়নসূচক নতুন নতুন ব্যবসা শুরুর কথাও বিবেচনা করা যেতে পারে, যা উভয়পক্ষই কাজে লাগাতে পারে।

গবেষণায় বিনিয়োগ বিষয়ে একটি অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত করারও সুপারিশ করা হয়েছে, এটি দুটি সরকার পূর্ণ সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির (সেপা) অংশ হিসেবে দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তি নিয়েও আলোচনা করার সুপারিশ করে।

এটি এই সত্যের স্বীকৃতিস্বরূপ যে, ভারত বাংলাদেশে ধারাবাহিকভাবে শীর্ষ দশ বিনিয়োগকারী হিসেবে থাকায় বাংলাদেশে ভারতের বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধির অবকাশ রয়েছে এবং তা সমানভাবে অন্যপক্ষের জন্যেও প্রযোজ্য এই বিষয়টি উপলব্ধি করা। 

পরবর্তী পদক্ষেপে একবার উভয়পক্ষের দ্বারা প্রতিবেদনটি গৃহীত হলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়দ্বয়ের সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু করার জন্য যথাক্রমে একটি আদেশপত্রের প্রয়োজন হবে। তারপরে, উভয়পক্ষ আলোচনার জন্য দল গঠন করতে পারে এবং একটি সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির (সেপা) পরিধি ও ব্যাপ্তি নিয়ে আলোচনা শুরু করতে পারে।


দ্বিতীয় পর্ব- ‘কেন্দ্রীয় পর্যায়ের পাশাপাশি ভারতের রাজ্যগুলোর সঙ্গে যুক্ত থাকা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ’


আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি জানুয়ারি ২০২২-এর শুরুর দিকে আলোচনাগুলো শুরু হওয়ার সাথে সাথে আমাদের দ্রুত কাজ করা উচিত।

সাফটা (দক্ষিণ এশীয় মুক্ত বাণিজ্য এলাকা) প্রক্রিয়ার অধীনে স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে ভারত থেকে বাংলাদেশের বর্তমান শুল্কমুক্ত, কোটা-মুক্ত বাণিজ্য সুবিধাগুলিকে সুরক্ষা প্রদানের পদ্ধতিসহ উভয়পক্ষের উচিত দ্রুততম সময়ে সম্পূর্ণ সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির (সেপা) একটি রোডম্যাপ পরিকল্পনা করা।

আমাদের কাছে বাংলাদেশের সাথে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (সেপা) একটি অগ্রগণ্য বিষয়, তাই আমরা আশা করি যে উভয়পক্ষ শিগগিরই কাজ শুরু করতে সক্ষম হবে।

ঢাকা ট্রিবিউন: ভারত বেশ কিছুকাল ধরে নতুন বাণিজ্য চুক্তির ব্যাপারে এগোয়নি। বাংলাদেশের এখন কোনো দ্বিপাক্ষিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নেই। এদিকে, দুটি দেশের কোনোটিতেই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির পক্ষে খুব বেশি জনসমর্থন লক্ষণীয় নয়। সেপা-র কি কোনো সুযোগ আছে? 

দোরাইস্বামী: আমি প্রত্যয়ের সাথে বলতে পারি যে, বাংলাদেশের সাথে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (সেপা) হচ্ছে স্বল্পকিছু মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির একটি, যেটির ওপর আমাদের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রাধান্য দিচ্ছে, বিশেষত আলোচনার জন্য জনবল নিয়োগ করার ক্ষেত্রে।


তৃতীয় পর্ব- ‘সহিংস ঘটনাগুলোর প্রকৃতি জনপ্রিয় কাহিনীগুলো থেকে অনেক বেশি আলাদা'


এটি হবে একই ধরনের মুষ্টিমেয় কিছু পরিকল্পনার একটি যা নিয়ে আমরা কাজ চালিয়ে যাব। যদি আমরা শিগগিরই বাংলাদেশে আমাদের সহযোগীদের সাথে আলোচনা শুরু করতে সক্ষম হই।

সেপাকে অগ্রাধিকার দিতে প্রতিটি ক্ষেত্রে আমাদের জন্য অর্থনৈতিক কারণ রয়েছে।

এটি একটি দ্রুত বর্ধনশীল বাণিজ্য সম্পর্ক। গতিধারা ইতিবাচক এবং স্পষ্টভাবে দেখানো হয়েছে যে ভারত এবং বাংলাদেশ উভয়ই একে অপরের প্রধান বাজার।

উভয়দেশে এই সত্য স্বীকৃত যে উন্নত সংযোগ, ক্রমবর্ধমান সমৃদ্ধি এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে স্বল্প রাজনৈতিক প্রভাব, বাণিজ্য, বিনিয়োগ প্রবাহ এবং সমন্বিত উৎপাদন ব্যবস্থায় প্রবৃদ্ধির জন্য বিপুল অবকাশ সৃষ্টি করে। 

এটি উভয়পক্ষের জন্য প্রতিযোগিতামূলক সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করে।


চতুর্থ পর্ব- ‘আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে আরও বাণিজ্য-ভ্রমণ সহযোগিতা চাই, কিন্তু শহুরে উপকথা সাহায্য করছে না’


অনুমান ছাড়াই বাংলাদেশের পক্ষে বলার ক্ষেত্রে আমি বিশ্বাস করি যে ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িতরা একটি ন্যায্য ও যুক্তিসঙ্গত সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির সুযোগ পেতে চায়, যার মধ্যে কেবল পণ্য এবং সেবা বাণিজ্যের বিধানই নয়, বরং বিনিয়োগ ও সম্ভবত বিমান পরিষেবার বিধানও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

এটিকে এভাবে বলা যায়- কেন বাংলাদেশের ব্যবসায়িক গোষ্ঠী স্বল্পোন্নত দেশের অবস্থান থেকে উত্তরণের পরও, তার ঠিক পাশেই, বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাজারগুলোর একটিতে তার বর্তমান অগ্রাধিকারমূলক প্রবেশাধিকার পেতে এবং টিকে থাকতে চেষ্টা বা তা উন্নতি করতে চাইবে না?

50
Facebook 50
blogger sharing button blogger
buffer sharing button buffer
diaspora sharing button diaspora
digg sharing button digg
douban sharing button douban
email sharing button email
evernote sharing button evernote
flipboard sharing button flipboard
pocket sharing button getpocket
github sharing button github
gmail sharing button gmail
googlebookmarks sharing button googlebookmarks
hackernews sharing button hackernews
instapaper sharing button instapaper
line sharing button line
linkedin sharing button linkedin
livejournal sharing button livejournal
mailru sharing button mailru
medium sharing button medium
meneame sharing button meneame
messenger sharing button messenger
odnoklassniki sharing button odnoklassniki
pinterest sharing button pinterest
print sharing button print
qzone sharing button qzone
reddit sharing button reddit
refind sharing button refind
renren sharing button renren
skype sharing button skype
snapchat sharing button snapchat
surfingbird sharing button surfingbird
telegram sharing button telegram
tumblr sharing button tumblr
twitter sharing button twitter
vk sharing button vk
wechat sharing button wechat
weibo sharing button weibo
whatsapp sharing button whatsapp
wordpress sharing button wordpress
xing sharing button xing
yahoomail sharing button yahoomail