Tuesday, May 21, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

জামায়াত নেতার মেয়ে একই সেশনে মাদ্রাসা ও রাবিতে

মাদ্রাসায় ফাজিল দ্বিতীয় বর্ষ ফাইনাল পরীক্ষায় তার পক্ষে প্রক্সি দিচ্ছেন ভাবী রাবেয়া সুলতানা।

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০১৮, ০৯:০৭ পিএম

বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলা জামায়াতের সহ-সভাপতি আবু নসর মো: ইয়াহইয়ার মেয়ে ইসমাত আরা ইয়াসমিন ইতি একই সেশনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও স্থানীয় বিহিগ্রাম এডিইউ সেন্ট্রাল ফাজিল মাদ্রাসায় লেখাপড়া করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে মাদ্রাসায় ফাজিল দ্বিতীয় বর্ষ ফাইনাল পরীক্ষায় তার পক্ষে প্রক্সি দিচ্ছেন ভাবী রাবেয়া সুলতানা। প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থী ও হল পরিদর্শকরা এর সত্যতা নিশ্চিত করলেও ইতির বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার ভাবী রাবেয়া নিজেকে তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী দাবি করে ইতির পক্ষে প্রক্সি দেবার কথা অস্বীকার করেছেন।

অভিযোগে জানা গেছে, বগুড়া শাজাহানপুর থানা ও মুক্তিযোদ্ধা অফিস ভাংচুরসহ একাধিক নাশকতা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামী উপজেলা জামায়াতের সহ-সভাপতি আবু নসর মো: ইয়াহইয়া বিহিগ্রাম এডিইউ সেন্ট্রাল ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ। ঢাকার হলি আর্টিজান বেকারির ট্রাজেডিতে নিহত জঙ্গি খায়রুল ইসলাম পায়েল ও আত্মসমর্পণকারী জঙ্গি আবদুল হাকিম এ মাদ্রাসার ছাত্র ছিল। 

অধ্যক্ষ ইয়াহইয়ার মেয়ে ইসমাত আরা ইয়াসমিন ইতি ২০১৬-১৭ সেশনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগে দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। ওই জামায়াত নেতা গোপনে তার মেয়েকে নিজের মাদ্রাসায় একই সেশনে ফাজিলে ভর্তি করেন (ফাজিল রেজি: নং-১৬২০৩৯৯৪৬)। ইতি রাবিতে ব্যস্ত থাকায় মাদ্রাসায় তার স্থলে ভাবী রাবেয়া সুলতানা প্রক্সি দিতে থাকেন। ওই মাদ্রাসার পরীক্ষার কেন্দ্র পার্শ্ববর্তী সাজাপুর ফুলতলা আহমদিয়া ফাজিল স্নাতক  মাদ্রাসায়। কেন্দ্রের দায়িত্বরতরা এ ব্যাপারে আপত্তি করলেও বিহিগ্রাম এডিইউ সেন্ট্রাল ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ইয়াহইয়া ও উপাধ্যক্ষ আবদুল হাদির দাপটে তারা পরীক্ষা নিতে বাধ্য হন বলে জানিয়েছেন। গত ১২ আগস্ট আরবী সাহিত্য পরীক্ষা ছিল। ইতি রাবিতে থাকায় তার পরিবর্তে ভাবী রাবেয়া বোরখা পড়ে পরীক্ষা দিতে যান। ২১১ নম্বর কক্ষে ইতির সিট পড়লেও প্রক্সি পরীক্ষা দিতে আসা তার ভাবীকে পাশের ২১২ রুমে নেয়া হয়। ওই রুমে বিহিগ্রাম ও নগর মাদ্রাসার শিক্ষক পরিদর্শকের দায়িত্বে ছিলেন। বিষয়টি তারা মেনে না নিলেও চাপের মুখে নিরব থাকেন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান ড. গোলাম কবির জানান, ইসমাত আরা ইয়াসমিন ইতি নামে দ্বিতীয় বর্ষে তার একজন ছাত্রী আছে। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ডিন্যান্স অনুসারে কোন শিক্ষার্থী এক সেশনে দুটি প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করতে পারেনা। প্রমাণ পেলে তার রেজিস্ট্রেশন বাতিলের আবেদন করা হবে।

ঢাকা ইসলামি আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রোশন খান সাংবাদিকদের জানান, ওই ছাত্রী ও কেন্দ্রের বিষয়ে অবহিত হয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ইতির বাবা বিহিগ্রাম এডিইউ সেন্ট্রাল ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ইয়াহইয়া হজ্বে যাওয়ায় ও উপাধ্যক্ষ আবদুল হাদি ফোন না ধরায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরিবারের সদস্য ও সহপাঠিরা রাজশাহীতে থাকা ইতির নম্বর দিতে রাজি হননি। তাই তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। সাজাপুর মাদ্রাসা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল মান্নানও অভিযোগটি অস্বীকার করেছেন। ইতি ওই মাদ্রাসার ফাজিল দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী তা তার ভাবী রাবেয়া সুলতানা স্বীকার করলেও তার (ইতি) পক্ষে প্রক্সি দেবার কথা অস্বীকার করেন। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সহপাঠী ও পরিদর্শক এর সত্যতা নিশ্চিত করেন।


About

Popular Links