তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে শেষ হল ‘ডিপিএসএমইউএন ফাইভ’

প্রথম চারটি আয়োজনে ব্যাপক সাড়া পাওয়ার পর ডিপিএস এসটিএস স্কুল ঢাকা এবারে সফলভাবে সম্পন্ন করেছে তাদের পঞ্চম ডিপিএস মডেল ইউনাইটেড নেশনস কনফারেন্স (ডিপিএসএমইউএন)-এর আয়োজন

প্রথম চারটি আয়োজনে ব্যাপক সাড়া পাওয়ার পর ডিপিএস এসটিএস স্কুল সফলভাবে সম্পন্ন করেছে তাদের পঞ্চম ডিপিএস মডেল ইউনাইটেড নেশনস কনফারেন্স (ডিপিএসএমইউএন)-এর আয়োজন।

শুক্রবার (৪ মার্চ) থেকে শুরু হওয়া এ আয়োজন চলে ৬ মার্চ পর্যন্ত। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয় ডিপিএস এসটিএস স্কুল ঢাকার সিনিয়র সেকশন ক্যাম্পাসে।

“ডিপিএসএমইউএন ফাইভ”-এর অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে কিশোর ও তরুণদের মাঝে পাবলিক স্পিকিং অর্থাৎ সর্বসাধারণের মাঝে নিঃসংকোচে কথা বলার সক্ষমতা তৈরি করা। পাশাপাশি সামাজিক ও বৈশ্বিক সংকটের সমাধান অন্বেষণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস গঠন করা।

গ্রেড ৮ থেকে ১২ পর্যন্ত অধ্যয়নরত তিন শতাধিক শিক্ষার্থী “ডিপিএসএমইউএন ফাইভ”-এ অংশগ্রহণের জন্য নিবন্ধন করে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিপ্রেক্ষিতে আয়োজিত মডেল ইউনাইটেড নেশনসের কনফারেন্সগুলো মূলত জাতিসংঘের (ইউএন) সম্মেলনের আদলে পরিচালিত হয়। সেখানে শিক্ষার্থীরা কূটনীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সংক্রান্ত ধারণা লাভ করে এবং জাতিসংঘের অনুকরণে সম্মিলিত উপায়ে সমস্যার সমাধান অনুসন্ধান করা শিখতে পারে।

ঢাকা শহরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীদের নিয়ে ডিপিএসএমইউএনে বিভিন্ন দেশের ডেলিগেট বা প্রতিনিধি হিসাবে নির্বাচিত করা হয়। সেখানে তারা অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব থেকে শুরু করে বর্তমান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সংক্রান্ত নানা বিষয়ে বিতর্কে অংশ নেয়।

অনুষ্ঠানটির উদ্বোধন করেন বাংলাদেশে ইউএনডিপির প্রতিনিধি সুদীপ্ত মুখার্জি এবং এসটিএস গ্রুপের সিইও ড. সন্দীপ অনন্ত নারায়ণ।


অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন বাংলাদেশে ইউএনডিপির প্রতিনিধি সুদীপ্ত মুখার্জি এবং এসটিএস গ্রুপের সিইও ড. সন্দীপ অনন্ত নারায়ণ/ সৌজন্যে


অনুষদ সদস্য, আমন্ত্রিত অতিথি এবং অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অধ্যক্ষ ড. শিবানন্দ সিএস এবং অধ্যক্ষ বিজো কুরিয়ান।

ডিপিএস এসটিএস স্কুল ঢাকার অধ্যক্ষ ড. শিবানন্দ সিএস ডিপিএসএমইউএন ফাইভ অনুষ্ঠানে তার স্বাগত বক্তব্যে ফাইনালিস্টদেরসহ সকল অংশগ্রহণকারীদের অভিনন্দন জানান।

তিনি বলেন, “আমরা শিক্ষার্থীদের মাঝে আত্মনির্ভরশীল ব্যক্তিত্ব তৈরির দিকে গুরুত্ব দিয়ে থাকি, যাতে তারা বাস্তব জীবনের চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত থাকে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তারা সাম্প্রতিক বিষয়গুলো সম্পর্কে আরও বেশি সচেতন হয়ে ওঠে, নেতৃত্বের গুণাবলী অর্জন করে এবং জনসাধারণের মাঝে কথা বলার দক্ষতা অর্জন করে।”

ডিপিএসএমইউএন ফাইভের একজন প্রতিযোগী বলে, “আমার অনেকবার এমন হয়েছে যে, যৌক্তিক এবং সঠিক ধারণা থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র আত্মবিশ্বাস এবং অন্যকে প্রভাবিত করার দক্ষতার অভাবে আমি নিজের মতামত প্রকাশ করার সঠিক উপায় খুঁজে পাইনি। ডিপিএসএমইউএন ফাইভে আমি প্রথমবারের মত অনেকের সামনে কোনো বক্তব্যকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য কথা বলার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি।”


বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ডিপিএসএমইউএনে বিভিন্ন দেশের ডেলিগেট বা প্রতিনিধি হিসাবে নির্বাচিত করা হয়/ ঢাকা ট্রিবিউন


সারা বাংলাদেশ থেকে যুক্ত হওয়া ডিপিএসএমইউএন ফাইভের স্বনামধন্য স্পন্সরদের মধ্যে ছিল– এক্সিলেন্স, প্রাণ, স্মার্ট কারস অ্যাসোসিয়েশন, সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেড, খান ট্রেডিং কর্পোরেশন, এবিসি টাইলস এবং বিলজ ম্যাগাজিন।

আয়োজনে ফুড পার্টনার হিসেবে যুক্ত ছিল– বিনস এন্ড অ্যারোমা, ঠাণ্ডা গরম, বিএফসি, অরেঞ্জ এন্ড হাফ, স্ট্রিট চিকেন এবং প্রিমিয়াম সুইটস। ক্লোদিং পার্টনার হিসেবে ছিল ভ্যালোরে।

দেশের স্কুলগুলোতে মডেল ইউনাইটেড নেশনস সম্মেলনের চেতনাকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যকে সামনে রেখে কাজ করছে ডিপিএসএমইউএন। যেহেতু কোভিড-১৯ মহামারী গত কয়েক বছর ধরে ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় ডেলিগেটদের জন্য এমইউএনের আনন্দটি আবিষ্কার করার পথে বাধা তৈরি করে এসেছে।

এমইউএন সম্মেলনগুলি শিক্ষার্থীদের মাঝে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক চর্চার মাধ্যমে নিজ নিজ ভবিষ্যতের সম্ভাবনাগুলো খুঁজে নেওয়ার পথে শক্তিশালী পোর্টফলিও তৈরিতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে একজন শিক্ষার্থী এমইউএন ক্লাবের অংশ হলে তারা তাদের স্কুলের বাকি বছরগুলোর জন্যও এটির অংশ হিসেবে যুক্ত থাকে, যা দীর্ঘমেয়াদী তাদের পাঠ্যক্রম সহায়ক কার্যক্রমের অগ্রগতিকেও সুরক্ষিত রাখে।

ডিপিএসএমইউএন ক্লাব সর্বদা বাংলাদেশের স্কুল এমইউএন-এর বিকাশে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে এবং ক্রমশ এর মানোন্নয়নে ভূমিকা রেখেছে।

ADVERTISEMENT

×