Sunday, May 19, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

‘জিনের বাদশার’ নির্যাতনে জীবন নিয়ে টানাটানি

কলেজ ছাত্রী শাহনাজ অসুস্থ হয়ে পড়লে হাজী দারোগ আলী নিজেই জিনের বাদশা সেজে তাকে ঝাঁড়-ফুক দিতে শুরু করেন


আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৮:৫০ পিএম

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে জিনের বাদশা সেজে শাহনাজ খাতুন (২০) নামের এক কলেজ ছাত্রীকে নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে। 

গত সোমবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে উপজেলার মাদারিয়াপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। 

শাহনাজ খাতুন ওই গ্রামের মৃত শাহজাহানের মেয়ে এবং সে ভূঞাপুর উপজেলার ইবরাহীম খাঁ সরকারি কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। ঘটনার পর থেকে কথিত জিনের বাদশা একই গ্রামের হাজী দারোগ আলী (৭০) পলাতক রয়েছেন। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার শাহনাজ খাতুন হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় পাশের বাড়ির দারোগ আলী বলেন, “শাহনাজকে জিনে ধরেছে। জিনের বাদশা ছাড়া তাকে বাঁচানো যাবে না”। 

এ সময় হাজী দারোগ আলী নিজেই জিনের বাদশা সেজে কলেজ ছাত্রী শাহনাজকে ঝাঁড়-ফুক দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে কথিত জিনের বাদশা দারোগ আলী শাহনাজকে ব্যাপক শারীরিক নির্যাতন করেন। নির্যাতনে শাহনাজ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। কিন্তু অবস্থার অবনতি হওয়ায় মঙ্গলবার সকালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতালের চিকিৎসক শাহনাজকে সিটি স্ক্যানসহ বেশ কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা দেন। 

কিন্তু এরপরই রহস্যজনক কারণে সেসব না করিয়েই শাহনাজকে বাড়ি ফিরিয়ে আনা হয়। অভিযোগ উঠেছে, কিন্তু নির্যাতনকারী কথিত জিনের বাদশা প্রভাব খাটিয়ে শাহনাজকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দিতে বাধ্য করেছে। 

শাহনাজের মা বলেন, জিনের বাদশার নির্যাতনে আমার মেয়ের চোখ এমন হয়েছে। আমার মেয়ের কিছু হলে আমি বিয়ে দিবো কিভাবে। আমার স্বামী নাই। দেবর-ভাসুরেরা ঢাকা থাকে। তারা এসে ব্যবস্থা নেবে।

নির্যাতনে শিকার শাহনাজ খাতুন বলেন, “আমি এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত হাজী দারোগ আলীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে বেশ কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। 

কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান আল মামুন বলেন, “এ ব্যাপারে অভিযোগে পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”  

About

Popular Links