Monday, May 27, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

অটো চালিয়েই রোজগার করেন টাঙ্গাইলের রোজিনা

‘জীবনযুদ্ধে নেমে প্রথম দিকে গ্রামের অনেক লোকজনের সমালোচনার মুখে পড়তে হয় আমাকে’

আপডেট : ০৮ মার্চ ২০২০, ০৩:১৫ পিএম

জীবনযুদ্ধে হার না মানা সংগ্রামী নারী রোজিনা। কর্মক্ষম স্বামী ও দুই কন্যাকে নিয়ে সহায় সম্বলহীন রোজিনা যখন কোনভাবেই সংসার চালাতে পারছিলেন না, তখন লোকচক্ষুর তোয়াক্কা না করেই তিনি শুরু করেন ব্যাটারি চালিত অটো রিকশা চালানো। এরপর থেকেই সচ্ছলতা আসতে শুরু করে টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার ফুলকী ইউনিয়নের আইশরা গ্রামের এই নারীর পরিবারে।

রোজিনা বলেন, “সংসারে কথা বিবেচনা করে আমি নিজে থেকেই চিন্তা করি কীভাবে গাড়ি চালানো শেখা যায়। যাতে সন্তানদের মানুষের মতো মানুষ করে উচ্চশিক্ষিত করতে পারি। এছাড়া আমরা ভাড়া বাসায় থাকি। এই ভাড়া বাসায় ঘর ভাড়া দিতে হয়, কারেন্ট বিলও দিতে হয়। পাশাপাশি কিস্তির টাকাও দিতে হয়। জীবনযুদ্ধে নেমে প্রথমদিকে গ্রামের অনেক লোকজনের সমালোচনার মুখে পড়তে হয় আমাকে। কিন্তু কারও কোন কথা না শুনে আমি অটো চালিয়ে যাই। এভাবে প্রায় ১ বছরের বেশি সময় ধরে শহরে অটো চালাই। এখন আমাকে এই কাজকে অনেকেই উৎসাহিত করছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমি সরকারিভাবে কোন সহযোগিতা পাইনি। স্থানীয় চেয়ারম্যান, মেম্বারসহ কেউ আমাকে সহযোগিতা করেনি। এইজন্য আমি ‘জিদ’ করেই অটো চালানোর জন্য নেমেছি। যাতে কোন কিছু করতে পারি।”

বাসাইল উপজেলার ফুলকি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বাবুল হোসেন বলেন,  “ভূমিহীন হিসাবে রোজিনাকে সরকারি উদ্যোগে খাস জমি ও একটি পাকা ঘর করার জন্য প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করে ব্যবস্থা গ্রহণ করে দেওয়া হবে।”

তিনি বলেন, “রোজিনার সাহায্য প্রয়োজন হওয়ার পরেও তিনি কখনই কিছু চাইনি। নিজের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছেন।”  

এপ্রসঙ্গে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “নারী হয়েও রোজিনা নিজ কর্মক্ষেত্রে জীবিকা নির্বাহ করার জন্য টাঙ্গাইল শহরে অটো চালাচ্ছে। এটি একটি ব্যতিক্রমী  উদ্যোগ। ওই নারীকে পুলিশের পক্ষ থেকে সবধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে।”

About

Popular Links