Wednesday, May 29, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

'মধ্যরাতে দরজা ভেঙে মোবাইল কোর্টের সাজা দেওয়ার এখতিয়ার নেই'

সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, মোবাইল কোর্টকে অবশ্যই ঘটনাস্থলে বিচার করতে হবে। এক জায়গা থেকে ধরে নিয়ে অন্য জায়গায় দণ্ড দেওয়া যাবে না

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০২০, ০৫:৩৭ পিএম

কুড়িগ্রামে মধ্যরাতে বাড়ির দরজা ভেঙে ঢাকা ট্রিবিউনের জেলা প্রতিনিধি আরিফুল ইসলামকে তুলে নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতে এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে সাজা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া।

শনিবার (১৪ মার্চ) ঢাকা ট্রিবিউনকে এমন তথ্য জানান সুপ্রিমকোর্টের এই আইনজীবী। 

শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে আরিফুলের বাড়ি থেকে তাকে ডিসি অফিসের দুই-তিনজন ম্যাজিস্ট্রেট ও বেশ কয়েকজন আনসার সদস্য তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন তার পরিবারের সদস্যরা।

জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, আইন অনুযায়ী মধ্যরাতে কারো দরজা ভেঙে ঘরে ঢোকার এখতিয়ার নেই। মোবাইল কোর্টকে অবশ্যই ঘটনাস্থলে বিচার করতে হবে। এক জায়গা থেকে ধরে নিয়ে অন্য জায়গায় দণ্ড দেওয়া যাবে না।


আরও পড়ুন-ঢাকা ট্রিবিউন সাংবাদিককে রাতের আঁধারে তুলে নিয়ে এক বছরের জেল


জ্যোতির্ময় আরও বলেন, যে সময়ে এবং যে প্রক্রিয়ায় দণ্ড দেওয়া হয়েছে তা বেআইন, অবৈধ এবং নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

কোনো বিশেষ টাস্কফোর্সের মাধ্যমে এমন অভিযান চালানো যায় কিনা-জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের এই আইনজীবী জানান, টাস্কফোর্স কারো দরজা ভেঙ্গে ঢুকতে পারে না। তাদেরকে সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

তিনি বলেন, "তাছাড়া একজন ব্যক্তির জন্য টাস্কফোর্স গঠন হতে পারে না। যদি ডিসি শুধুমাত্র এই সংবাদিকের জন্য টাস্কফোর্স গঠন করে থাকেন, এতে বোঝা যায় তিনি এটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করেছেন।" 

"ডিসি যদি বলে থাকেন যে তিনি টাস্কফোর্স গঠন করেছিলেন, তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এই বক্তব্যই যথেষ্ঠ।"

মধ্যরাতে এই অভিযান পরিচালনার সময় যারা উপস্থিত ছিলেন প্রত্যেকের বিরুদ্ধে মামলা হওয়া উচিত বলে মনে করেন ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া।




আরও পড়ুন-কাবিখা’র টাকায় পুকুর সংস্কার করে ডিসি’র নামে নামকরণ!


মোবাইল কোর্ট আইনের ধারা ৬ এর ১ উপধারায় বলা হয়েছে, "ধারা ৫ এর অধীন ক্ষমতাপ্রাপ্ত এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট বা ধারা ১১ এর অধীন ক্ষমতাপ্রাপ্ত ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ প্রতিরোধ কার্যক্রম পরিচালনা করিবার সময় তফসিলে বর্ণিত আইনের অধীন কোনো অপরাধ, যাহা কেবল জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক বিচার্য, তাহার সম্মুখে সংঘটিত বা উদ্ঘাটিত হইয়া থাকিলে তিনি উক্ত অপরাধ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলেই আমলে গ্রহণ করিয়া অভিযুক্ত ব্যক্তিকে, স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে, দোষী সাব্যস্ত করিয়া, এই আইনের নির্ধারিত দণ্ড আরোপ করিতে পারিবেন।"

এদিকে মধ্যরাতে টাস্কফোর্স অভিযানের নামে কাউকে তুলে নিয়ে মোবাইল কোর্টে তার শাস্তি দেওয়া যায় কিনা-জানতে চাইল তার আইনি ব্যাখ্যা দিতে পারেননি কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) সুলতানা পারভীন।

ঢাকা ট্রিবিউনকে ডিসি বলেন, "তার পরিবারের সদস্যরা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। আগামিকাল তাদরকে আপিল আবেদন করতে বলেছি। আরিফের সঙ্গে কোনো ইনজাস্টিজ (অবিচার) হয়ে থাকলে আমি দেখবো।" 

প্রসঙ্গত, কুড়িগ্রামের ডিসি সুলতানা পারভীনের বিরুদ্ধে নিজ নামে পুকুর খননের অভিযোগ ওঠায় সে বিষয়ে একটি প্রতিবেদন লেখেন আরিফুল। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ওই ঘটনার পর থেকেই তার বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ ছিলেন ডিসি। সম্প্রতি জেলা প্রশাসনের নিয়োগ অনিয়ম নিয়েও প্রতিবেদন করছিলেন সাংবাদিক আরিফুল।


আরও পড়ুন-ঢাকা ট্রিবিউনের সাংবাদিককে চোখ বেঁধে উলঙ্গ করে নির্যাতনের অভিযোগ



About

Popular Links