Tuesday, May 21, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

টাঙ্গাইলে গরুর ‘আবাসিক হোটেল’!

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা গরুর ব্যবসায়ীরা বলেন, ‘গোবিন্দাসী হাটে তারা গরু বিক্রি করার জন্য আসেন। হাটের দিন গরু বিক্রি না হলে তখন তারা এই সকল গরুর বোর্ডিং (হোটেল)-এ গরু রাখেন। এই গরুর হোটেল থাকায় ব্যবসা করা সুবিধা হচ্ছে।’  

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০১৮, ১১:০৩ এএম

মানুষ থাকার জন্য আবাসিক হোটেলের কথা আমাদের সকলেরই জানা। কিন্তু আজব হলেও সত্যি, টাঙ্গাইলে গরুর জন্যও রয়েছে ‘আবাসিক হোটেল’। টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে গরুর হাটকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে গরুর শতাধিক আবাসিক হোটেল। গরুর জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সমৃদ্ধ এসব হোটেলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের গরুর ব্যবসায়ীরা গরু রেখে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে অনেক বছর ধরে। 

গরুর এই হোটেল ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করছে ভূঞাপুর এলাকার শতাধিক পরিবার। বিশেষ করে কুরবানির ঈদ আসলে গরুর হোটেল ব্যাবসা আরও জমজমাট হয়ে উঠে। 

জানা যায়, টাঙ্গাইলের বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার দূরে যমুনা নদী তীরবর্তী জেলার ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী গরুর হাটকে কেন্দ্র করে হাটের চার পাশে গড়ে উঠেছে শতাধিক পশুর আবাসিক হোটেল। এই গরুর হোটেলগুলোর জন্যই এখানকার হাটে নিরাপদ পরিবেশে গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া বেচাকেনার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। অল্প সময়েই গোবিন্দাসী হাট পরিণত হয়েছে দেশের অন্যতম বৃহত্তম পশুর হাটে। আর এই হোটেলগুলোতে গরু রেখে ব্যবসা করতে পেরে খুশি দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত গরুর ব্যবসায়ীরা। 

আব্দুল করিম মিয়া ও রোজিনা বেগমসহ একাধিক হোটেল মালিক বলেন, হোটেলে প্রতিটি গরুর জন্য দিন প্রতি দশ টাকা থেকে পনের টাকা ভাড়া নেয়া হয়। গরু ব্যবসায়ীরা নিরাপদে এখানে গরু রাখেন। হোটেলের ভাড়া দিয়ে সংসার ভালই চলছে বলে জানান তারা। 

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা গরুর ব্যবসায়ীরা বলেন, ‘গোবিন্দাসী হাটে তারা গরু বিক্রি করার জন্য আসেন। হাটের দিন গরু বিক্রি না হলে তখন তারা এই সকল গরুর বোর্ডিং (হোটেল)-এ গরু রাখেন। এই গরুর হোটেল থাকায় ব্যবসা করা সুবিধা হচ্ছে।’  

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঝোটন চন্দ ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গরুর হাটের উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প তৈরি করে কাজ শুরু করা হয়েছে। অনেক প্রকল্পের কাজ শেষ পর্যায়ে। এতে করে হাটে গরু সরবরাহ বেশি হবে এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা গরু ব্যবসায়ীরা নিরাপদে গরু রাখতে পারবেন। ফলে হাটকে কেন্দ্র করে যেমন আরো বেশি গরুর হোটেল তৈরি হবে অন্যদিকে হোটেল ভাড়া দিয়ে বহু মানুষের জীবিকা নির্বাহ হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমার জানা মতে বাংলাদেশে আর কোথাও গরুর জন্য হোটেল নেই। আমি বিভিন্ন জেলায় কাজ করেছি। কিন্তু কোথাও গরুর জন্য হোটেলের ব্যবস্থা দেখিনি।’ 




About

Popular Links