Tuesday, May 28, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

সাংবাদিক আরিফুলকে নির্যাতন: রাস্তা থেকে ধরে আনা হয় মিথ্যা মামলার সাক্ষী

ভ্রাম্যমাণ আদালতের নথিপত্রে যে দুই ব্যক্তির নাম সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে তারা কেউই সেই রাতে আরিফুলের বাড়িতে ছিলেন না

আপডেট : ১৮ মার্চ ২০২০, ০৫:১৩ পিএম

ঢাকা ট্রিবিউন সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রিগ্যানকে রাতের আঁধারে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে নির্যাতন ও ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে কল্পিত অপরাধে সাজা দেওয়ার ঘটনায় যে দু'জনকে সাক্ষী করা হয়েছিল তাদের কেউই সেই রাতে ঘটনাস্থলে ছিলেন না। ঘটনার পরদিন বিকেলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনের রাস্তা থেকে ডেকে নিয়ে মিথ্যা কথা বলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নথিপত্রে স্বাক্ষ্য নেওয়া হয়।

নাটকীয় মামলাটির দুই সাক্ষী হলেন- মো. আরিফ (৩২) ও আবু বকর সিদ্দিক (২০)। তারা দু'জনই জেলা সদরের ভোকেশনাল মোড়ের বাসিন্দা।

ঢাকা ট্রিবিউনকে এসব তথ্য জানিয়েছেন সাক্ষী আরিফ। তার ভাষ্য, "গত শনিবার একজন ম্যাজিস্ট্রেটসহ জেলা প্রশাসনের একাধিক ব্যক্তি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে আমাদের দু'জনকে ডেকে নিয়ে যান। সাংবাদিক রিগ্যানকে (আরিফুল) চিনি কি না প্রশ্নের জবাবে 'হ্যাঁ সূচক' জবাব দিলে তারা তিনটি কাগজে আমার ও সিদ্দিকের স্বাক্ষর নেন। কীসের স্বাক্ষর জানতে চাইলে জেলা প্রশাসনের এক ব্যক্তি বলেন, এটা তেমন কিছু না। আরিফের ভালোর জন্যই এই স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে।"


আরও পড়ুন- মিথ্যা বলে তড়িঘড়ি করে আরিফুলের জামিন!


ভ্রাম্যমাণ আদালতের নথিপত্র অনুসন্ধানেও এই দুই সাক্ষীর নাম উঠে এসেছে। তাদের সাক্ষ্য ছিল, ‘‘সময় অনুমান ১১টা ৪৫ মিনিট। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলাধীন ভোকেশনাল মোড় সংলগ্ন বড়ুয়া পাড়া স্থানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকালে আমি উপস্থিত ছিলাম। আসামি আরিফুল ইসলামকে আমি চিনি এবং মদ ও গাঁজা সেবনরত অবস্থায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোবাইল কোর্ট ও টাস্কফোর্স পরিচালনাকালে হাতেনাতে ধৃত হয়। আসামি তার কৃতকার্য ও দোষ স্বীকার করে।’’

তবে মিথ্যা মামলার 'হঠাৎ আগন্তুক' সাক্ষী আরিফ বলেন, ‘‘শুক্রবার রাতে মোবাইল কোর্ট চালানোর সময় আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম না। আমি আরিফুল ইসলাম রিগ্যানকে মদ বা গাঁজা খেতেও দেখি নাই। আমার সামনে মদ বা গাঁজা উদ্ধারও করা হয় নাই। আমাকে স্বাক্ষর দিতে বলেছে, আমি তাদের কথা অমান্য করতে পারি নাই। এখন বুঝতে পারছি তারা আমাকেও ফাঁসিয়েছে। আমাকে আদালতে ডাকা হলে আমি এই কথা বলে দেব।’’


আরও পড়ুন- এবার ফেসবুককে অস্ত্র বানিয়ে ডিসি সুলতানার মিথ্যাচার!


তিনি আরও বলেন, ‘‘রিগ্যান আমাকে একসময় প্রাইভেট পড়াতেন। আমার জানামতে তিনি সিগারেটও খান না। এটা খুব অন্যায় হয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেট আমাকে দিয়েও অন্যায় করিয়ে নিয়েছে। এটা অবিচার হয়েছে।’’

আরেক কথিত সাক্ষী আবু বক্কর সিদ্দিকের বিষয়ে তিনি বলেন, "সিদ্দিক সাইকেল মেকার। সে আমার সঙ্গে গিয়েছিল। আমি দেখাদেখি সেও ওই কাগজে স্বাক্ষর দিয়েছে।"

ঘটনাস্থলে সাক্ষীদের উপস্থিত না থাকা প্রসঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ওই ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক রিন্টু বিকাশ চাকমার মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে সোমবার তিনি ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেছিলেন, ‘‘আপনারা আসলে ভালোভাবেই জানেন। আপনাদের সঙ্গে কথা বলা এখন সম্পূর্ণ নিষেধ। কী আর বলবো। আপাতত আপনাদের এ বিষয়ে কথা বলে হেল্প করতে পারছি না বলে অত্যন্ত দুঃখিত। আমাদের তো কিছু লিমিটেশন থাকে।’’


আরও পড়ুন- ‘আরিফুলকে সাজা দেওয়ার ঘটনা পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে’


প্রসঙ্গত, শুক্রবার (১৩ মার্চ) দিবাগত রাতে ঢাকা ট্রিবিউনের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি সাংবাদিক আরিফুল ইসলামের বাসায় হানা দিয়ে দরজা ভেঙে তুলে নিয়ে যায় জেলা প্রশাসনের অন্তত ৪০ জনের একটি দল। পরে তাকে "এনকাউন্টারে" হত্যার হুমকি দিয়ে কলেমা পড়তে বলেন কুড়িগ্রামের তৎকালীন আরডিসি নাজিম উদ্দিন। পরে আবার তাকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়ে বিবস্ত্র করে নির্মম নির্যাতনের পর আধা বোতল মদ ও ১০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধারের নাটক সাজিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এই অপরাধে জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন, আরডিসি নাজিম উদ্দিন, সহকারী কমিশনার রিন্টু বিকাশ চাকমা ও এস এম রাহাতুল ইসলামকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে নিযুক্ত করেছে সরকার।

About

Popular Links