Monday, May 20, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

দৃশ্যমান পদ্মা সেতুর ৪,০৫০ মিটার

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে সেতুটির ৭০ ভাগ কর্মীর অনুপস্থিতিতেই শনিবার (২৮ মার্চ) বসানো হয় ২৭তম স্প্যান। ফলে সেতুর ৪০৫০ মিটার দৃশ্যমান হলো

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০২০, ১১:৩২ এএম

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে যখন সারাদেশে কাজকর্ম প্রায় বন্ধ তখনও সীমিত আকারে হলেও কাজ চলছে পদ্মা সেতু প্রকল্পে। মূল সেতু নির্মাণে যেখানে সাড়ে চার হাজার কর্মী নিয়োজিত সেখানে প্রায় ৭০ ভাগ কর্মী কাজে আসতে পারছে না। সেতুর কন্সট্রাকশন ইয়ার্ডে এখনো কাজ করছে প্রায় দেড় হাজার কর্মী। এমন অবস্থার মধ্যে পদ্মা সেতুতে ২৭তম স্প্যান বসানো হয়েছে।

শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে ২৭ ও ২৮ নম্বর পিলারে ৫-সি আইডি নম্বরের স্প্যানটি বসানো হয়। ফলে সেতুর ৪০৫০ মিটার দৃশ্যমান হলো।

সহকারী প্রকৌশলী হুমায়ুন কবীর জানান, সকাল সোয়া ৯টার দিকে স্প্যানটি বসানো সম্পন্ন হয়েছে। এর আগে শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকালে মুন্সীগঞ্জের মাওয়ার কুমারভোগ কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে স্প্যানটি ২৭ ও ২৮ নম্বর পিলারের কাছে নিয়ে রাখা হয়।

পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান মো. আব্দুল কাদের জানান, মার্চ মাসে বিকালের দিকে নদীর আবহাওয়া খারাপ থাকে। তাই স্প্যান বসানোর জন্য দু’দিন করে সময় ধরা হয়েছে। একদিনে স্প্যান পিলারের কাছে নেওয়া হবে। পরদিন পিলারে বসানো হবে।

ঢাকা ট্রিবিউন

তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে মাওয়ার কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে আরও দু’টি স্প্যান এনে রাখা হয়েছে। বর্তমানে ৩৯টি স্প্যান আছে প্রকল্প এলাকায়। সেতুর ৪২টি পিয়ারের মধ্যে ৪১টি পিলারের কাজ শেষ। সর্বশেষ পিলারের কাজ চলছে, আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে যা শেষ হবে। আর পদ্মা সেতুতে ৪১টি স্প্যানের মধ্যে ২৭টি বসানো শেষ হয়েছে।

এদিকে, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে পদ্মা সেতুর (মূল সেতু) কাজে নিয়োজিত প্রায় ৭০ ভাগ কর্মী এখন আর কাজে আসতে পারছেন না। প্রায় সাড়ে চারহাজার কর্মীর মধ্যে তিনহাজার কর্মীরা কাজে আসতে পারছেন না বলে জানা গেছে। তবে, তাতে স্প্যান বসাতে কোন সমস্যা নেই বলে জানিয়েছেন পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান মো. আব্দুল কাদের।

তিনি জানান, একটি স্প্যান বসানোর কাজে প্রায় দেড়শ’ কর্মীর প্রয়োজন হয় এবং তাদের বেশিরভাগ টেকনিশিয়ান, সাধারণ শ্রমিক নয়। সাড়ে চারহাজার কর্মীর মধ্যে বর্তমানে কন্সট্রাকশন ইয়ার্ডে রয়েছে দেড় হাজারের মত কর্মী। তবে, তাতে স্প্যান বসানোর কাজে এই মুহূর্তে বিঘ্ন ঘটবে না। আরও পাঁচটি স্প্যান বসানো যাবে। কিন্তু, তারপরও যদি বর্তমান অবস্থার উন্নতি না হয় তাহলে কাজ থেমে যেতে পারে বলে আশংকা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “অটোমেশনে কিছু কাজ করা হয়েছিল। কিন্তু, অটোমেশনে কাজ করতেও ন্যূনতম কিছু কর্মীর প্রয়োজন হয়।”

২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। মূল সেতু নির্মাণের কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ কোম্পানি (এমবিইসি) ও নদীশাসনের কাজ করছে চীনের আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো করপোরেশন।


About

Popular Links