Friday, May 24, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বাংলাদেশে করোনাভাইরাস পরীক্ষার হার বিশ্বে সর্বনিম্ন

বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করে বলেছেন, পর্যাপ্ত পরিমাণ টেস্ট না করা হলে অবস্থার আসল চিত্র উঠে আসবে না

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০২০, ০৩:২০ পিএম

বিপুল পরিমাণ জনসংখ্যার বিপরীতে অত্যন্ত কম পরিমাণে করোনাভাইরাস শনাক্ত পরীক্ষা (টেস্ট) করা হচ্ছে বাংলাদেশে।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) তথ্যানুযায়ী, গড়ে প্রায় এক লাখ ৪শ' ৯৯জনের মধ্যে সন্দেহভাজন আক্রান্ত হিসেবে একজনকে টেস্ট করা হচ্ছে।

এদিকে, বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করে দিয়ে বলে দিয়েছেন, পর্যাপ্ত পরিমাণ টেস্ট না করা হলে এই মহামারি বন্ধ করা সম্ভব হবে না। কারণ টেস্ট না করা হলে অবস্থার আসল চিত্র উঠে আসবে না।

যেখানে বাংলাদেশ লাখে মাত্র ১ জনের টেস্ট করছে, সেখানে অন্যান্য দেশে এই অনুপাত অনেক গুণ বেশি। কোনো কোনো দেশে প্রতি এক লাখ মানুষের মধ্যে এক হাজার জনকে টেস্ট করা হচ্ছে।


আরও পড়ুন- স্বাস্থ্যমন্ত্রী: ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ৩, মৃত ১


গত ১৬ মার্চ এক সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ডিরেক্টর জেনারেল ড. টেড্রোস অ্যাডহানোম ঘেব্রেয়েসাস বলেন, “আপনি চোখ বেঁধে আগুনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পারবেন না। তেমনি কে বা কারা আক্রান্ত তা না জেনে আমরা এই মহামারিকে বন্ধ করতে পারব না। সবগুলো দেশের প্রতি আমাদের সহজ বার্তা হলো- টেস্ট, টেস্ট, টেস্ট। প্রত্যেক সন্দেহভাজন আক্রান্তকে টেস্ট করুন।”

তবে, আইইডিসিআর-এর তথ্যানুযায়ী ১৬ কোটিরও বেশি জনসংখ্যার এই দেশে এখন পর্যন্ত ১,৬০২টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে সন্দেহভাজন আক্রান্ত ব্যক্তিদের শরীর থেকে।

গতমাসে দেশে তিনজন করোনাভাইরাস আক্রান্তের সন্ধান পাওয়া যায়। এরপর ৮ মার্চ থেকে শুরু হওয়া টেস্টে প্রতিদিন গড়ে করা হয়েছে ৬৭টি টেস্ট।

জনসংখ্যা তো বটেই দেশব্যাপী কোয়ারেন্টিনে থাকা ব্যক্তিদের বিপরীতেও এই সংখ্যা অত্যন্ত কম। উল্লেখ্য, মঙ্গলবার পর্যন্ত দেশব্যাপী কোয়ারেন্টিনে ছিলেন ৬০ হাজার ১৫ জন।


আরও পড়ুন- জাতিসংঘ মহাসচিব: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় সংকটে বিশ্ব


একই অবস্থা পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও। প্রতি দশ লাখ জনসংখ্যার বিপরীতে তারা টেস্ট করেছে ১১ জনকে। গত ২০ মার্চ পর্যন্ত ১৪,৫১৪টি নমুনা সংগ্রহ করেছে তারা। অর্থাৎ, প্রতি ৯৪,৮৪৭ জন মানুষের বিপরীতে ভারত টেস্ট করেছে একজনকে।

১৯ মার্চ পর্যন্ত পাকিস্তান সংগ্রহ করেছে ২,৫১৯টি নমুনা। যা প্রতি ৮৭,২৬০ জনে একটি।

অন্যদিকে, ৩১ মার্চ পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়া টেস্ট করেছে ৩ লাখ ৯৫ হাজার ১৯৪টি নমুনা। অর্থাৎ, জনসংখ্যার প্রতি ১৩০ জনের মধ্যে একজনকে টেস্ট করছে দেশটি।

আর বুধবার পর্যন্ত সর্বোচ্চ সংখ্যক করোনাভাইরাস আক্রান্ত মানুষের দেশ যুক্তরাষ্ট্র টেস্ট করেছে ৯ লাখ ৪৪ হাজার ৮৫৪টি। অর্থাৎ প্রতি ৩৫০ জনে একজনকে টেস্ট করা হচ্ছে সেখানে।


আরও পড়ুন- করোনাভাইরাস আক্রান্ত সন্দেহে ফরিদপুর মেডিকেলে ভর্তি দম্পতি


১৯ মার্চ পর্যন্ত রাশিয়ায় প্রতি ১,০১৭ জনে একজন (মোট ১ লাখ ৪৩ হাজার ৫১৯টি), করোনাভাইরাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যক আক্রান্ত ইতালিতে প্রতি ২৯২ জনে একজন (মোট ২ লাখ ৬ হাজার ৮৮৬টি) নমুনা টেস্ট করা হয়েছে।

এছাড়া, প্রতি ৫০১ জনের বিপরীতে একজন হারে জার্মানিতে মোট ১ লাখ ৬৭ হাজার, ব্রিটেনে ৩০ মার্চ পর্যন্ত প্রতি ৫০২ জনের বিপরীতে একজন হারে ১,৩৪,৯৪৬ জনকে পরীক্ষা করা হয়েছে।

About

Popular Links