Monday, May 27, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

অসময়ে তিস্তায় ভাঙন

‘বাঁধ ভাঙনের  বিষয়টি জেনেছি। এটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবোর) নির্মিত কোনো অবকাঠামো নয়। এটি সম্পূর্নভাবে এলাকাবাসীর স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত। তাই জরুরি ভিত্তিতে পাউবোর পক্ষে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব নয়’

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০২০, ০৫:৩৭ পিএম

উজান থেকে হঠাৎ নেমে আসা ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। অসময়ে পানি বৃদ্ধি ও তীব্র স্রোতের কারণে পাড় ভেঙে নদীগর্ভে চলে যেতে শুরু করেছে একের পর এক ফসলি জমি। ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ময়নুল হক জানান, গত মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকাল থেকে তিস্তায় হঠাৎ পানি বাড়তে শুরু করে। একপর্যায়ে চরখড়িবাড়ী গ্রামে স্বেচ্ছাশ্রমে তৈরি ২০০০ মিটারের বাঁধ ভেঙ্গে ফসলি জমিতে পানি প্রবেশ করে। বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় একের পর এক ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যাচ্ছে।

তিনি জানান, এই মুহুর্তে বাঁধভাঙন রোধ করতে না পারলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে আমার ইউনিয়নে অন্তত ২০ হাজার মানুষ বন্যার কবলে পড়ে ভিটেমাটিটুকুও হারাতে পারে।

স্থানীয়রা জানান, ২০১৭ সালের শেষের দিকে স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধটি নির্মাণ করেন ওই এলাকার লোকজন। প্রতিবছর বন্যা থেকে বাঁচতে গ্রামবাসী বাঁশ, কাঠ ও বালুর বস্তা, নগদ অর্থ দিয়ে সাহায্য করেন। দিনরাত পরিশ্রমে বাঁধটি নির্মিত হয়। এ সময় ব্যক্তিগত উদ্যোগে গ্রামবাসীর পাশে দাঁড়ান নীলফামারী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা আফতাব উদ্দিন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা তবিবুল ইসলাম ও ঠিকাদার রফিকুল ইসলাম।

নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে ফসলি জমি। ঢাকা ট্রিবিউন

পরে বাঁধের গুরুত্ব উপলধ্বি করে গত বছর সরকারিভাবে এলজিএসপির বরাদ্দ দেওয়া ৪ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা দিয়ে বাঁধের কিছু অংশ জিও টেক্রটাইল দিয়ে স্পার করা হয়। পাউবো জানায়, অর্থাভাবে বাঁধটি টেকসইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় জিও টেক্রটাইল ব্যবহার ও সিসি ব্লক বসানো সম্ভব হয়নি।

এলাকাবাসী জানায়, বাঁধটি নির্মাণের ফলে উপজেলার ৯নং টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের চড় খড়িবাড়ী গ্রামে গত বছরের বন্যার কবল থেকে কয়েক হাজার পরিবার রক্ষা পায়। তবে চলতি বছর বর্ষা মৌসুমের আগেই হঠাৎ বাঁধে ভাঙন দেখা দেওয়ায় ভবিষ্যত নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে গ্রামবাসী।  


আরও পড়ুন - নীলফামারীতে প্রকাশ্যে চলছে পাখি শিকার


এ ব্যাপারে, ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিভাগীয় প্রকৌশলী হাফিজুল হক বলেন, “বাঁধ ভাঙনের বিষয়টি জেনেছি। এটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবোর) নির্মিত কোনো অবকাঠামো নয়। এটি সম্পূর্নভাবে এলাকাবাসীর স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত। তাই জরুরি ভিত্তিতে পাউবোর পক্ষে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব নয়। এর ডিজাইন তৈরি করে আগামী ৫ এপ্রিল ঊর্দ্ধতন কতৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে বাঁধটি স্থায়ীভাবে মেরামতের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।”

About

Popular Links