Saturday, May 18, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

সুরক্ষা ছাড়াই কাজ করতে হচ্ছে পুলিশ সদস্যদের

কনস্টেবল বেলায়েত হোসেন জানান, তার ২৪ বছরের চাকরি জীবনে এতো অনিশ্চিত ও আতঙ্কময় সময় আর আসেনি

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২০, ০৬:৩৭ পিএম

করোনাভাইরাসের ভয়াল থাবায় সারাবিশ্বের প্রায় সবগুলো দেশ আক্রান্ত। এমন পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে সারাদেশে কার্যত লকডাউন জারি করেছে বাংলাদেশ সরকার।

২৫ মার্চ দেশের অভ্যন্তরে রেল, নদী ও আকাশপথে যাত্রী পরিবহন বন্ধের ঘোষণা দেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ২৬ মার্চ স্থলপথে যাত্রীবাহী যানবাহন চলাচল বন্ধ করা হয়। আতঙ্কগ্রস্ত জনগন বর্তমানে নিজেদের বাড়িতে লকডাউনে রয়েছেন। তবে, জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিতে পুলিশ প্রশাসন মাঠে রয়েছে।

জানা যায়, বাংলাদেশ পুলিশের প্রায় ২ লাখ ৭৫ হাজার সদস্য রয়েছেন। যাদের অধিকাংশই বর্তমানে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে জনগণকে সচেতন করার কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। অন্যান্য দায়িত্বের পাশাপাশি প্রবাসীদের কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত ও সদ্য বিদেশ থেকে আসা ব্যক্তিদের নজরদারির কাজ করছেন পুলিশ সদস্যরা। এছাড়াও দেশে ফেরার পর যেসব প্রবাসী কোয়ারেন্টাইনে না থেকে লুকিয়ে রয়েছেন তাদের চিহ্নিত করার কাজ করছেন তারা।

জানা যায়, অফিসার পর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা উপরোক্ত দায়িত্ব পালনে নেতৃত্ব ও তত্ত্বাবধানের কাজে নিয়োজিত আছেন। আর তাদের নির্দেশে দায়িত্বগুলো সম্পাদন করছেন তাদের অধীনস্ত পুলিশ সদস্যরা। এদের মধ্যে এএসআই, নায়েক, সার্জেন্ট, কনস্টেবল প্রভৃতি পদমর্যাদার পুলিশ সদস্যরা।

কিন্তু সরেজমিনে দেখা যায়, দায়িত্ব পালনের সময় কনস্টেবল পর্যায়ের পুলিশরা তাদের সুরক্ষার জন্য কোনও পার্সোনাল প্রোটেকশন ইকুইপমেন্ট (পিপিই) ব্যবহার করছেন না। নিজেদের সুরক্ষার জন্য কোনও ব্যবস্থা না করেই তারা দেশব্যাপী দায়িত্ব পালন করছেন। টহল দিচ্ছেন এ মহল্লা থেকে ওই মহল্লায়। দায়িত্ব পালনের জন্য তাদেরকে টানা ১২-১৪ ঘণ্টা কাজে নিয়োজিত থাকতে হচ্ছে।  

রাজধানীর গুলশান এলাকায় বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, জাতিসংঘের কর্মকর্তা, বিদেশি নাগরিক, বড় ব্যবসায়ী ও রাজনীতিকদের বসবাস। এসব জায়গাতে দায়িত্ব পালনের সময়ও পুলিশ সদস্যদের কোনও সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার করতে দেখা যায়নি।


গত রবিবার বেলা ৩টার দিকে গুলশান-বাড্ডা লিংক রোডে দায়িত্ব পালন করছিলেন ৩ পুলিশ সদস্য। তাদের মধ্যে দু’জন কনস্টেবল ও একজন এসআই। বিদেশি নাগরিকদের মাধ্যমে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও পিপিই ছাড়াই দায়িত্ব পালন করছিলেন তারা। 

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সূত্রে জানা যায়, রবিবার চীন সরকার বাংলাদেশ পুলিশকে কিছু পিপিই দিয়েছে। এছাড়া পুলিশ কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে তাদের সদস্যদের মাঝে অল্প কিছু পিপিই, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্ক ও গ্লাভস বিতরণ করা হয়েছে। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় তা অপ্রতুল।

যার ফলে মাঠ পর্যায়ে কর্মরত কনস্টেবলদের পুরোপুরি সুরক্ষা ছাড়াই দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে চরম ঝুঁকিতে পড়ছেন তারা।

সোমবার বিকালে ঢাকাস্থ মগবাজারের দিলু রোডে উপপরিদর্শক (এসআই) আতাউল মোহাম্মদ খানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল টহল দিচ্ছিল। এসআই আতাউলকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, সকাল ৮টায় তার ডিউটি শুরু হয়েছে। রাত ৯টায় শেষ হবে। এরপর পুলিশ মেসে গিয়ে বিশ্রামের সুযোগ পাবেন তিনি।

তার অধীনে দায়িত্ব পালনরত কনস্টেবল বেলায়েত হোসেন ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, তার ২৪ বছরের চাকরি জীবনে এতো অনিশ্চিত ও আতঙ্কময় সময় আর আসেনি।

তিনি বলেন, “আমার স্ত্রী ও চার সন্তান রয়েছে। তারা নরসিংদীতে থাকে। প্রতিদিন তারা আমাকে ফোন দেয়। আমার শরীরের খোঁজ-খবর নেয়। আমাকে নিয়ে তারাও দুশ্চিন্তায় আছে।”

ডিএমপি’র ডেপুটি কমিশনার (মিডিয়া) মো. মাসুদুর রহমান জানান, “করোনাভাইরাস থেকে পুলিশদের সুরক্ষা দিতে প্রয়োজনীয় সনজাম প্রতিটি ইউনিটে পাঠানো হয়েছে। জাতির এই সংকটকালীন সময়ে আমরা জনগণকে বাসায় অবস্থানের জন্য উৎসাহিত করছি। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাসার বাইরে যেতে তাদের নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।”

About

Popular Links