Thursday, May 23, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

কয়েকটি দেশ থেকে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে প্রবাসীদের

প্রাথমিকভাবে কুয়েত থেকে ৩১৬ জন প্রবাসী বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত আনা হবে

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০২০, ০৬:৫১ পিএম

মানবিক কারণে কয়েকটি দেশ থেকে প্রবাসী বাংলাদেশীদের যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে দেশে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। 

রবিবার (৫ মার্চ) সকালে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে মন্ত্রী ইমরান আহমদের সভাপতিত্বে করোনাভাইরাসে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য করণীয় বিষয়ে নিয়ে এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে আব্দুল মোমেন উপস্থিত ছিলেন।

সভায় প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ বলেন, বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সরকার খাদ্য, চিকিৎসাসহ সামগ্রিক সুরক্ষার জন্য সব ধরনের সহযোগিতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এজন্য দূতাবাসগুলোর চাহিদা অনুসারে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও, করোনাভাইরাসের কারণে মানবিক বিবেচনায় কয়েকটি দেশ থেকে যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে বিপদগ্রস্ত বাংলাদেশি কর্মীদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সভায় নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

এরই পরিপ্রেক্ষিতে প্রাথমিকভাবে কুয়েত থেকে ৩১৬ জন প্রবাসী বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত আনা হবে এবং কুয়েতের সেই ফিরতি ফ্লাইটে ত্রাণ ও খাদ্যসামগ্রী পাঠানোর সুপারিশ করা হয়। এছাড়াও ইপিএস এর আওতায় দক্ষিণ কোরিয়ায় কমরত ১৫০ জন কর্মী এবং সেখানে অধ্যয়নরত ২৬ জন শিক্ষার্থীকে বাংলাদেশ বিমানের একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে কোরিয়ায় পাঠানো হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, যেসব বাংলাদেশি প্রবাসীদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়েছে অথবা ইকামার মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে তাদের ভিসা বা ইকামার মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। কোনো কর্মী বিদেশে চাকুরিচ্যুত হলে, অথবা নিয়োগকারী কোম্পানি যদি কর্মী ছাঁটাই করে সেক্ষেত্রে তাদেরকে দেশে না পাঠিয়ে সেদেশের অন্য কোনো কোম্পানিতে নিয়োগের জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে। এছাড়াও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর যৌথ স্বাক্ষরে বিভিন্ন দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পত্র প্রেরণ করা হবে বলে সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, প্রবাসীদের আবাসনের সমস্যা হলে সংশ্রিষ্ট মিশনসমূহকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিদেশফেরত কর্মীদের পুনর্বাসনের জন্য অর্থ ঋণ সহায়তা প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের তহবিল থেকে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে বিভিন্ন অর্থ-ঋণ সহায়তা প্রদান করা হবে। এছাড়াও তাদেরকে অধিকতর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতার মান উন্নয়ন করে পুনরায় বৈদেশিক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বিদেশফেরত কর্মীদের পুনর্বাসনের নিমিত্ত সরকার ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার কাছে আর্থিক সহযোগিতার জন্য অনুরোধ করা হবে। ইতোমধ্যে যারা ছুটিতে দেশে এসেছেন এবং যাদের ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণ হতে যাচ্ছে, তারা যাতে পুনরায় যেতে পারেন সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশ থেকে আশ্বাস পাওয়া গেছে। 

সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশীদের যাচাই-বাছাই করে বাংলাদেশে ফেরত আনা হবে। তবে তাদের মধ্যে কেউ যদি গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকে তাহলে তাদের ব্যাপারে অন্য কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। দেশে ফেরত আনা প্রবাসীকে বাধ্যতামূলকভাবে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে।

সভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মোমেন বলেন, “প্রবাসীরা দেশের সম্পদ। এই দুঃসময়ে তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের মানবিক দায়িত্ব। বিভিন্ন দেশের অনুরোধের প্রেক্ষিতে কিছু প্রবাসী বাংলাদেশীকে ফেরত আনা হচ্ছে। এর ফলে সেসব দেশের সাথে বাংলাদেশের শ্রম কূটনৈতিক সম্পর্ক সুসংহত হবে এবং কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রাধান্য পাবে।”

About

Popular Links