Sunday, May 26, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

চক্ষুলজ্জায় বলা হয়নি ক্ষুধার কথা

তারা না থাকলে সমতলের পর্যটকদের কাছে পাহাড়ের সৌন্দর্য সম্ভবত কখনোই পুরোপুরি উপভোগ্য হতো না। চলমান পরিস্থিতিতে পরিবার-পরিজন নিয়ে একরকম অনাহারে দিন কাটছে এই মানুষগুলোর

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০২০, ০৯:৪২ পিএম

পাহাড়ের কোলে বেড়ে ওঠা তাই পাহাড়ে পাহাড়ে ঘোরা তাদের নেশা। এই নেশাকে পুঁজি করে একদিন এলো দু'বেলা দুমুঠো খাবারের বন্দোবস্ত। বলা হচ্ছে পার্বত্য জেলা বান্দরবানে বেড়াতে যাওয়া পর্যটকদের সাহায্যকারী গাইডদের কথা।

সারা বছরই পর্যটকদের পাহাড় ঘুরিয়ে দেখান তারা। কেউবা বয়ে বেড়ান ব্যাগ, দক্ষ হাতে কেউ চালান নৌকা, কেউবা উঁচুনিচু পাহাড়ি পথের খাদ এড়িয়ে ভ্রমণপিপাসুদের নিয়ে চলেন গন্তব্যে। তারা না থাকলে সমতলের পর্যটকদের কাছে পাহাড়ের সৌন্দর্য সম্ভবত কখনোই পুরোপুরি উপভোগ্য হতো না।

করোনাভাইরাস সৃষ্ট সঙ্কটে পর্যটকের আনাগোনা থাকায় এখন পরিবার-পরিজন নিয়ে একরকম অনাহারে দিন কাটছে এই মানুষগুলোর। তবে আত্মসম্মানবোধের জায়গা থেকে মুখ ফুটে কারও কাছেই সহায়তা চাইতে পারছেন না তারা। সরকারি-বেসরকারি মাধ্যম থেকে ত্রাণের ব্যবস্থা করা হলেও তা নিতান্তই অপ্রতুল।

পার্বত্য জেলা বান্দরবানের থানচি উপজেলায় পর্যটন সংশ্লিষ্ট ৪টি পেশায় কাজ করেন প্রায় ৬শ' শ্রমিক।

২০১৩ সাল থেকে এই পেশায় নিয়োজিত তারা। তাদেরই হাত ধরে উপজেলাটিতে আবিষ্কৃত হয়েছে নতুন ও নান্দনিক সব পর্যটন কেন্দ্র।

এমনই এক পর্যটক গাইড লালথাং বম। স্ত্রী-সন্তান মিলিয়ে ৫ জনের সংসার। তিনি জানান, সংক্রমণ এড়াতে সচেতনতা আর সরকারি নির্দেশনায় বাড়িতেই থাকছেন তারা। গত ২২ মার্চ থেকে থানচিতে ভ্রমণে  নিরুৎসাহিত করায় ১৭ দিন ধরে কার্যত বেকার হয়ে পড়েছেন তারা। সামান্য যেটুকু জমা ছিল তাও শেষ।

তিনি আরও বলেন, সব মিলিয়ে রেজিস্ট্রার্ড ও নন-রেজিস্ট্রার্ড মিলিয়ে মোট ১২৫ জন গাইড কাজ করেন। গত বৃহস্পতিবার ৬০ জনকে জনপ্রতি ১০ কেজি চাল, ডাল, আলু ও তেল দেয় উপজেলা প্রশাসন।

একই অবস্থা গাইড সাইফুল ইসলাম, মার্টিন ত্রিপুরা, মিলন ত্রিপুরাসহ অনেকের পরিবারেই।

আরেক গাইড থুই হ্লাচিং মারমা বলেন, সাংগু সেতু উদ্বোধনের পর থেকে কষ্টেসৃষ্টে একটি মোটরসাইকেল কিনে ভাড়ায় চালাতাম। এখন বেকার, কোনো ত্রাণ পাইনি।

থুইয়ের এলাকায় তারই মতো অবস্থা অন্তত ৪০ জন গাইডের।

এছাড়া, ইঞ্জিন নৌকার মাঝি, রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী ও কর্মচারি সবাই এখন দিশেহারা।

এ বিষয়ে বান্দরবান জেলা প্রশাসক দাউদুল ইসলাম বলেন, চলমান পরিস্থিতিতে খাদ্য সঙ্কটে পড়েও যারা সরাসরি ত্রাণ সহায়তা নিতে বিব্রতবোধ করছেন তারা আমাদের হটলাইন নম্বরে যোগাযোগ করতে পারে।

আর স্থানীয়রা চান দুর্গম উপজেলা থানচিতে জরুরিভিত্তিতে পর্যাপ্ত ত্রাণের বন্দোবস্ত।

About

Popular Links