Friday, May 24, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

নির্যাতনের শিকার ১০ বছরের শিশু লড়ছে মৃত্যুর সাথে

দীর্ঘ নির্যাতনের এক পর্যায়ে  রোকসানা মানুষিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেললে তাকে ঢাকা ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। 

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০১৮, ১২:৩০ এএম

মাত্র ১০ বছরের শিশু রোকসানা। নড়াইল সদর হাসপাতালের বিছানায় নিস্তেজ হয়ে পড়ে আছে। সারা শরীরের আঘাতের কালশিটে দাগ, দীর্ঘদিনের লাগাতার নির্যাতনের চিহ্ন, দগদগে ক্ষতও রয়েছে বিভিন্ন জায়গায়। নিস্তেজ কঙ্কালসার দেহটি হাসপাতালের বিছানার সাথে লেপ্টে আছে। বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় বাতাস, খাদ্য গ্রহনের শক্তিটুকু নিঃশেষ হয়ে গেছে, কৃত্তিম উপায়ে চলছে শ্বাস। 

ঢাকায় বাসাবাড়িতে কাজে নিয়ে রোকসানা নামে নড়াইলের ১০বছরের এই শিশুটির উপর মধ্যযুীগয় বর্বরতা চালানো হয়েছে। যৌন নিপিড়ন থেকে শুরু করে দীর্ঘ ৮মাস যাবত হেন নির্যাতন নেই, যা হয়নি শিশুটির উপর। মৃত্যু পথযাত্রি শিশুটি এখন নড়াইল সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। নির্যাতিত শিশুর স্বজনেরা এর দৃষ্টান্ত মূলক বিচার দাবি করেছে। 

স্বজনরা জানায়, আট মাস আগে ঢাকার ওয়ারী এলাকার এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে ঝি এর কাজে নিয়োগ করে লোহাগড়া উপজেলার বাহিরপাড়া গ্রামের সালেহা বেগম। রোকসানার পরিবারের দূরাবস্থার কথা ভেবে সালেহা তাকে পূর্বপরিচিত ওয়ারী এলাকার টিপু সুলতান রোডের আসাদুল্লাহ এর বাড়িতে রেখে আসেন। পরিবারের লোকেদের জানা ছিল না কার বাড়িতে সে থাকে। মাঝে মধ্যে মোবাইল ফোনে মেয়ের সাথে কথা হতো তার। আট মাস ঐ বাসায় অবস্থান কালে রোকসানা উপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়, এ সময় প্রায়ই অভুক্তও রাখা হয় তাকে। 

দীর্ঘ নির্যাতনের এক পর্যায়ে  রোকসানা মানুষিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেললে তাকে ঢাকা ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করে পাষণ্ড পরিবারটি। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে স্বজনদের খবর দিয়ে ঢাকায় নিয়ে ১৭ আগষ্ট রাতে তাদের হাতে তুলে দেয় রোকসানা কে। মরনাপন্ন রোকসানাকে ১৯আগষ্ট নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করায় স্বজনরা। 

শিশু রোকসানার নির্মমতা দেখে কষ্টে মায়ের বুক ফেটে যাচ্ছে,হাসপাতালে যেই শিশুটিকে দেখতে যাচ্ছে তাকে জড়িয়ে  হাউমাউ করে কাদছেন অসহায় মা রত্না বেগম। বলেন, একটু ভালো থাকার জন্য আমার মেয়েকে কোন জল্লাদের কাছে  দিয়েছিলাম,আল্লাহ যেন জল্লাদদের উপযুক্ত শাস্তি দেন। 

শিশু রোকসানাকে সরবরাহকারী  সালেহার সাথে ফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে সালেহার সাথে ঢাকাস্থ নড়াইলের আমিনুল ইসলাম সহ আরো কয়েকজনকে সালেহা পাষণ্ড ঐ পরিবারের তথ্য  দিয়েছে বলে জানান আমিনুল। সালেহার দেয়া তথ্যমতে, আসাদুল্লাহর বাড়ি মুন্সিগঞ্জের লৌহজং থানার খোলাপাড়া গ্রামে। তার বাবার নাম  হাফেজ মোল্লা, বর্তমানে সে হজ্ব পালনের উদ্যেশ্যে মক্কায় অবস্থান করছে। তার স্ত্রী সোনিয়ার গ্রামের বাড়ি সিরাজদীখান এলাকার জৈনসার গ্রামে, তার বাবার নাম খোরশেদ মোল্লা।

ওয়ারীর বাড়িতে নিয়মিত আসা যাওয়া করতো সোনিয়ার ভাই ইব্রাহিম। মূলত এই ৩ জনই   নির্যাতন করেছে শিশু রোকসানাকে। আসাদুল্লাহর স্ত্রী সোনিয়ার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

নড়াইল সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যেল অফিসার ডাঃ মুশিউর রহমান বাবু জানান, রোকসানার উপর যেসব ভয়াবহ নির্যাতন হয়েছে তার সব আলামতই শিশুটির শরীরের রয়েছে। তবে শিশুটি শংকামুক্ত নয় বলে জানালেন সদর হাসপাতালের এই চিকিৎসক।

এদিকে এই ঘটনায় অভিযুক্ত  আসাদুল্লাহ, তার স্ত্রী সোনিয়া, সোনিয়ার ভাই ইব্রাহিম ও সরবরাহকারী সালেহা বেগম এর নাম উল্লেখ করে ২২ আগষ্ট লোহাগড়া থানায় মামলা দায়ের করেছে ভুক্তভোগী মেয়েটির বাবা রাসেল শেখ।

লোহাগড়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রবীর বিশ্বাস জানান, ইতিমধ্যে মামলার আসামীদের ঠিকানার ঢাকার ওয়ারী, মুন্সিগঞ্জের লৌহজং এবং সিরাজদীখান থানায় অনুসন্ধান স্লিপ পাঠানো হয়েছে, তারবার্তা ছাড়াও জরুরীভাবে মেইল এ তথ্য জানানো হয়েছে।

নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন (পিপিএম) জানান, শিশুটিকে যে ধরনের নির্যাতনের চিত্র পাওয়া গেছে তাতে এই ঘটনা যারাই ঘটাক তাদের কোন মাফ হবে না, পুলিশ যথাযথভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করবে। 

About

Popular Links