Saturday, May 18, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ব্র্যাক জরিপ: নিম্ন আয়ের ১৪% মানুষের ঘরে খাবার নেই

দেশজুড়ে তীব্র খাদ্য ঘাটতিতে ভুগতে থাকা কয়েক মিলিয়ন পরিবারের কাছে দ্রুত খাদ্য সহায়তা পৌঁছানোর সুপারিশ করা হয়েছে। অন্যথায় সামাজিক দূরত্ব লঙ্ঘন করতে পারে বলে সতর্ক করা হয়

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০২০, ১০:৫৯ পিএম

ব্র্যাক পরিচালিত এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, করোনাভাইরাস মহামারির কারণে স্বল্প আয়ের কমপক্ষে ১৪% মানুষের ঘরে খাবার নেই এবং চরম দারিদ্র আগের তুলনায় ৬০% বেড়েছে।

গত ৩১ মার্চ থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের ৬৪ জেলার নিন্মআয়ের ২৭৭৫ জন মানুষের মধ্যে ব্র্যাকের অ্যাডভোকেসি ফর সোশ্যাল চেঞ্জ প্রোগ্রাম জরিপটি পরিচালনা করে।

সংস্থাটির ক্ষুদ্র ঋণ, নগর উন্নয়ন ও অংশীদারিত্ব জোরদারকরণ ইউনিট এই জরিপে সহায়তা করে।

মহামারি শুরু হওয়ার আগে, উত্তরদাতাদের মাথাপিছু আয় ২৪% জাতীয় নিম্ন দারিদ্র্য সীমার নিচে এবং ৩৫% জাতীয় উচ্চতর দারিদ্র্য সীমার নিচে ছিল।

কিন্তু আয়ের উৎস ক্ষতির পরে, এই পরিস্থিতি যথাক্রমে ৮৪% এবং ৮৯% এ দাঁড়িয়েছে।

এর অর্থ হলো উত্তরদাতাদের ৮৯% এখন চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করছে।

অর্থ্যাৎ চরম দারিদ্র্যের প্রকোপ ৬০% পয়েন্ট এবং দারিদ্র্যের ক্ষেত্রে ৫৪% পয়েন্ট বেড়েছে।

কোভিড -১৯ মহামারি শুরুর আগে ২৬৭৫ জন উত্তরদাতাদের পরিবারের গড় আয় ছিল ১৪,৫৯৯ টাকা।

এর মধ্যে, ৯৩% উত্তরদাতা করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে তাদের আয় হ্রাসের কথা জানিয়েছেন। ২০২০ সালের মার্চ মাসে তাদের গড় আয় ছিল ৩৭৪২ টাকা, যা গত মাসে তাদের পারিবারিক আয় থেকে গড়ে ৭৫% হ্রাস উপস্থাপন করে।

চট্টগ্রাম (৮৮%), রংপুর (৮১%) এবং সিলেট (৮০%) বিভাগের লোকেরা আয়ের পরিমাণ বেশি হ্রাস পেয়েছে।

যারা কৃষির বাইরে অন্যান্য ক্ষেত্রে দিনমজুর ছিল তাদের আয়ের বেশি ক্ষতি (৭৭%) হয়েছে। অন্যদিকে কৃষিক্ষেত্রে এই হার (৬৫%)।

সমীক্ষা অনুসারে, ৫ এপ্রিল পর্যন্ত উত্তরদাতাদের মাত্র ৪ % জরুরি ত্রাণ সহায়তা পেয়েছে।

বেশিরভাগ উত্তরদাতারা (৮০%) মনে করেছিলেন মহামারি মোকাবিলায় সরকার যথেষ্ট কাজ করছে, যদিও গ্রামাঞ্চলে ৩১% এবং শহরাঞ্চলে ৪০% উত্তরদাতা এরসঙ্গে একমত হননি।

উত্তরদাতাদের মধ্যে মাত্র ভাগ সাত শতাংশ খাদ্য সহায়তার বিষয়টি পছন্দ করেছেন, এবং ২০% নগদ সহায়তা আশা করেছেন।

জরিপের মাধ্যমে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে করোনাভাইরাস প্রতিরোধ, সংক্রমণ ও চিকিত্সা ইত্যাদি সচেতনতামূলক তথ্য বৃহৎ আকারে প্রচারণার সুপারিশ করা হয়।

একইসঙ্গে, দেশজুড়ে তীব্র খাদ্য ঘাটতিতে ভুগতে থাকা কয়েক মিলিয়ন পরিবারের কাছে দ্রুত খাদ্য সহায়তা পৌঁছানোর সুপারিশও করা হয়। অন্যথায় সামাজিক দূরত্ব লঙ্ঘন করতে পারে বলে সতর্ক করা হয়।

About

Popular Links