Thursday, May 23, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ফাঁসিতে ঝুললো বঙ্গবন্ধুর আরেক খুনি

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পরিবারের অধিকাংশ সদস্যসহ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত যে ছয় আসামি পলাতক ছিলেন, সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন মাজেদ তাদেরই একজন

আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০২০, ০৯:১৫ এএম
দীর্ঘদিন পালিয়ে থেকেও সাজা এড়াতে পারলেন না আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত খুনের আসামি ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আবদুল মাজেদ। সাড়ে চার দশক আগে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যায় সরাসরি অংশগ্রহণের দায়ে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে তার দণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। 

কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রবিবার (১২ এপ্রিল) প্রথম প্রহরে, ১২টা ১ মিনিটে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় বলে নিশ্চিত করেন কারা মহাপরিদর্শক (আইজি, প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মোস্তফা কামাল পাশা।

তিনি বলেন, “আইনানুযায়ী সকল বিধি মেনেই আবদুল মাজেদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। সেসময় ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ প্রতিনিধিসহ অন্যান্য কর্মকর্তারাও সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তর করার পর এই প্রথম সেখানে কোনও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলো।”

মাজেদের ফাঁসি হওয়ার কিছুক্ষণ আগে থেকেই করোনাভাইরাসের বিধি-নিষেধ উপেক্ষা করেই অনেক মানুষ কারাগারের সামনে এসে জড়ো হতে থাকেন। সেখানে তারা মধ্যরাত পর্যন্ত অবস্থান করেন।

এর আগে, কারাকর্তৃপক্ষ মাজেদের স্ত্রীকে তার শেষ ইচ্ছানুযায়ী কারাগারে সাক্ষাৎ করার অনুমতি দেয়। 

ফাঁসির পর আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “জনগণের কাছে দেশের সকল আদালতে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার যে অঙ্গীকার আমরা করেছিলাম, যথাযথভাবে তা প্রয়োগ ও কার্যকর করা হবে এবং আমি মনে করি যে বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত ১২জনের এই ষষ্ঠ খুনির বেলাতেও আমরা তা করতে সক্ষম হয়েছি এবং রায়টির বাস্তবায়ন শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেই ধারা অব্যাহত থাকবে।”

যেভাবে ধরা পড়ে খুনি মাজেদ

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) দেওয়া প্রতিবেদন অনুযায়ী, বঙ্গবন্ধুর খুনি মাজেদকে সোমবার (৬ এপ্রিল) গভীর রাতে রাজধানীর গাবতলী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বুধবার ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ এম হেলাল চৌধুরী আবদুল মাজেদের মৃত্যু পরোয়ানা জারির আদেশ দেন। সেদিনই তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার জন্য আবেদন করেন। রাষ্ট্রপতি সে আবেদন নাকচ করে দিলে তাঁর ফাঁসির রায় কার্যকরের দিনক্ষণ ঠিক করা হয়।

১৯৭৫ পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পরিবারের অধিকাংশ সদস্যসহ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত যে ছয় আসামি পলাতক ছিলেন, সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন মাজেদ তাদেরই একজন।

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর মাজেদ কর্নেল (অব.) সুলতান শাহরিয়ার রশীদ খানসহ আরো কয়েকজনের সঙ্গে রেডিও স্টেশন নিয়ন্ত্রণে রাখার দায়িত্বে ছিলেন। অন্য খুনিদের সঙ্গে দেশত্যাগের আগ পর্যন্ত বঙ্গভবনে “বিভিন্ন দায়িত্ব” ছিল মাজেদের।

পরে হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে ব্যাংকক হয়ে লিবিয়ায় চলে যান মাজেদ। সেখানে তারা ছিলেন তিনমাস। এরপর “পুরস্কার হিসেবে” তাদের বিভিন্ন দূতাবাসে দায়িত্ব দেওয়া হয়। মাজেদকে পাঠানো হয় সেনেগাল দূতাবাসে।

জিয়াউর রহমানের আমলে ১৯৮০ সালের ২৬ মার্চ আবদুল মাজেদকে বিআইডব্লিউটিসি’তে চাকরি দেওয়া হয়। সেনাবাহিনীর চাকরি থেকে অবসর নিয়ে উপসচিবের মর্যাদায় তিনি বিআইডব্লিউটিসিতে যোগ দেন।

পরে তাকে তখনকার যুব উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের “ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট” শাখার পরিচালক করা হয়। এরপর দেওয়া হয় তখনকার জাতীয় সঞ্চয় পরিদপ্তরের পরিচালকের দায়িত্ব।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফেরার পর বিচারের পথ খুললেও দুই দশকের বেশি সময় ভারতে পালিয়ে থেকে বিচার এড়ান মাজেদ।

অনেক বাধা বিপত্তি পেরিয়ে সেই হত্যাকাণ্ডের বিচার শেষে ২০০৯ সালের নভেম্বরে সর্বোচ্চ আদালত থেকে ১১জনের ফাঁসির রায় আসে। তাদের মধ্যে পাঁচ আসামির মৃত্যুদণ্ড ২০১০ সালের ২৮ জানুয়ারি কার্যকর করা হলেও মাজেদসহ ছয়জন পলাতক থাকেন।

গ্রেপ্তার হওয়ার পর জানা যায়, ফাঁসির রায় মাথায় নিয়ে এতদিন ভারতেই পালিয়ে ছিলেন তিনি। তবে চারমেয়ে ও একছেলেকে নিয়ে তার স্ত্রী ঢাকা সেনানিবাসের এক নম্বর রোডের একটি বাসায় বসবাস করে আসছেন।

বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত খুনিরা

এর আগে ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি দিবাগত রাতে বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত পাঁচ খুনি, সৈয়দ ফারুক রহমান, বজলুল হুদা, এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদ, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান ও মুহিউদ্দিন আহমেদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ খুনি এখনো পালিয়ে আছেন। এদেরমধ্যে এস এইচ এম বি নূর চৌধুরী কানাডায় ও এ এম রাশেদ চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন

। 

অন্য তিনজন খন্দকার আবদুর রশিদ, শরিফুল হক ডালিম ও মোসলেম উদ্দিনের অবস্থান সম্পর্কে সরকারের কাছে নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই। এ ছাড়া ফাঁসির দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আরেক আসামি আজিজ পাশা ২০০২ সালে পলাতক অবস্থায় জিম্বাবুয়েতে মারা যান।  

About

Popular Links