Sunday, May 26, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

করোনাভাইরাস: ঢাকার বিহারি ক্যাম্পগুলোতে ত্রাণের জন্য হাহাকার

বিহারি সম্প্রদায়ের কিছু বিত্তবান মানুষ ব্যক্তি উদ্যোগে কখনো সহায়তা করলেও সেগুলো চাহিদার তুলনায় খুবই সামান্য

আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০২০, ১১:৪৮ এএম
করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে ঢাকার মিরপুর ও মোহম্মদপুরে বসবাসকারী বিহারি নাগরিকরা দুর্ভোগে পড়েছেন। বিহারিরা মূলত ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশে আটকেপড়া পাকিস্তানি নাগরিক। ১৯৪৭ সালের ভারতভাগের সময় এরা ভারতের বিহার থেকে পাকিস্তানবাসী হতে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান অর্থাৎ আজকের বাংলাদেশে বসবাস করতে শুরু করে।সাম্প্রতিক সময়ে মরণব্যাধী কোভিড-১৯এ আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে ভীত হয়ে পড়েছেন তারা। কেননা, তাদের না আছে কোনও সঠিক প্রস্তুতি, প্রতিরোধের ব্যবস্থা অথবা করোনাভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করার ক্ষমতা। অন্যান্য নিম্নবিত্তদের মত তাদেরকেও জীবনধারণ নিয়ে ভাবতে হচ্ছে। কেননা, তাদের রুটি-রুজির পথও এসময় বন্ধ রয়েছে। উর্দুভাষী এই সম্প্রদায়টির অধিকাংশই অশিক্ষিত, অদক্ষ এবং এরা বেশিরভাগই কসাই, নাপিত, রিক্সাচালক, পরিবহন শ্রমিক বা গাড়ির মেকানিক হিসেবে কাজ করে। এছাড়া, এদের আয়ের আরেকটি উৎস হলো, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার ত্রাণসহায়তা।তাদের জীবনযুদ্ধ ও করোনাভাইরাস সঙ্কটে তাদের বাস্তবতা সম্পর্কে একটি পরিষ্কার ধারণা পেতে ঢাকা ট্রিবিউন খুব কাছ থেকে ঢাকায় অবস্থানকারী বিহারিদের জীবন পর্যবেক্ষণ করেছে। মহামারিকালীন দারিদ্র্যসরকারিভাবে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করায় তাদের প্রতিবেলার খাবার নিয়েই এখন চিন্তা করতে হচ্ছে।মিরপুর বিহারি ক্যাম্পের মুদির দোকানদার আয়ুব হোসেন বলেন, “আমরা খাবারের জন্য খুব কষ্টে আছি।”বিহারি রিক্সাচালক মো.হাফিজও তার সাথে সুর মিলিয়ে এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘সরকার ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলো নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বিভিন্নরকম ক্রাণ ও সহায়তার ব্যবস্থা কররেও আমাদের জন্য কেউ ভাবছে না।”রাজমিস্ত্রী শাহজাহান আলি বলেন, “আমরা করোনাভাইরাস নিয়ে খুবই চিন্তিত কিন্তু আমাদের আজ কোনও কাজ নেই। এই অবস্থায় আমরা কীকরে নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, গ্লাভস এসব কিনবো?”তিনি আরও বলেন, “সরকারি কিংবা বেসরকারি কোনও সহায়তাই আমরা পাচ্ছি না। কোনরকম আয় ছাড়া আমরা কেবল সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করে দিন পার করছি।” বিহারি সম্প্রদায় কর্তৃক গঠিত সংগঠন বাংলাদেশ মুহাজির কল্যাণ ও উন্নয়ন কমিটি (বিএমডব্লিউডিসি) প্রেসিডেন্ট এসকে মো.আজিম বলেন, “মাঝেমধ্যে আমরা বাইরে বেরিয়ে ক্রাণ সংগ্রহ করলেও করোনাভাইরাসের সময়ে সেটিও ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। কেউ আমাদের দেখতে আসেনি। স্থানীয় কাউন্সিলরের উদ্যোগে একটি ক্রাণ তালিকা করা হলেও আমরা এখনও কিছু পাইনি।”সরকারের কাছে এই অবস্থায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।উর্দুভাষী যুব পুনর্বাসন আন্দোলন বাংলাদেশের (ইউএসওয়াইআরএমবি) সাদাকাৎ খান ফক্কু বলেন, “বাঁচার অধিকার সকল মানুষের থাকলেও বিহারিরা আজ অসহায়। রোহিঙ্গারাও সরকারি ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা থেকে নিয়মিত ত্রাণ পাচ্ছে। অন্যদিকে, সকলেই সবসময় আমাদের অবজ্ঞা করেছে। আমরাও বাঁচতে চাই।”বিএমডব্লিউডিসি ও ইউএসওয়াইআরএমবি জানায়, কয়েকজন নেতা ও বিহারি সম্প্রদায়ের কিছু বিত্তবান মানুষ ব্যক্তি উদ্যোগে কখনো সহায়তা করলেও সেগুলো চাহিদার তুলনায় খুবই সামান্য। সংগঠনের নেতারা সরকারিভাবে সহায়তার নিশ্চয়তা পাওয়ার অনুরোধ জানান।এদিকে, স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাজী জহিরুল ইসলাম মানিক জানান, তারা তালিকা তৈরি করেছেন। খুব শীঘ্রই তালিকাভুক্ত বিহারিরা সরকারি সহায়তা পাবে। 

 

About

Popular Links