Tuesday, May 21, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

টিকিট কালোবাজারি: অভিযুক্ত রেল কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ

ঈদু উপলক্ষে রেলের যাত্রীদের নিরাপত্তা ও টিকিটের কালোবাজার বন্ধে একটি প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

আপডেট : ৩০ মে ২০১৮, ০১:৪৮ পিএম

ট্রেনের টিকিটের কালোবাজারিদের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে রেলওয়ের কয়েকজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে। তারা ঈদ উপলক্ষে কালোবাজারিদের সঙ্গে যোগসাজশ করে তারা অতিরিক্ত মূল্যে কাউন্টারের বাইরে টিকিট বিক্রি করেন। রেলের বুকিং সহকারী, ট্রেনের অ্যাটেনডেন্স, সুপারভাইজার, নিরাপত্তা বাহিনী, রেলওয়ে পুলিশ ও আনসার সদস্যেদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠে এসেছে একটি গোয়েন্দাসংস্থার প্রতিবেদনে। সম্প্রতি তৈরি করা ওই প্রতিবেদনে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও সুপারিশ করা হয়েছে। রেল মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। 

জানা গেছে, ঈদু উপলক্ষে রেলের যাত্রীদের নিরাপত্তা ও টিকিটের কালোবাজার বন্ধে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। এতে বেশকিছু সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কমলাপুর রেলস্টেশনে তিনটি প্রবেশপথ দিয়ে অবাধে টোকাই, মাদকসেবী ও অযাচিত লোক স্টেশনে ঢুকে পড়ে। এর ফলেছিনতাইসহ যাত্রীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে রেলওয়ের কর্মচারীদের মধ্যে কমলাপুর স্টেশনের দুই জন বুকিং সহকারী, হাওড় এক্সপ্রেসের অ্যাটেনডেন্স ও সুপারভাইজার, দুই জন জিআরপি সদস্য, আরএনবি’র (রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী) দু’জন সদস্য, ও আনসার বাহিনীর দুই সদস্যের নেতৃত্বে টিকিটের কালোবাজার চলছে। রেলের বাইরে কালোবাজারি হিসেবে বোরহান, খোকন, সুজন, জালাল, জামান, সুমন, ফোরকানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

রেলওয়ে থানা, ঢাকায় যোগাযোগ করা হলে জানানো হয়, গত চারমাসে অন্তত ৬ জন কালোবাজারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে বিভিন্ন মামলায়। রেলওয়ে থানা পুলিশ বাদী হয়ে এসব মামলাগুলো করে।

রেলওয়ে থানা ঢাকা’র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইয়াসিন ফারুক মজুমদার  জানান, ‘গত জানুয়ারি মাসে জালাল (বয়স ৫৫) আটটি ট্রেনের টিকিটসহ আটক করে তার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রবিন মিয়া (২৩ বছর), সুমন (৩০ বছর) খাদেমুল ইসলাম (৬৮ বছর), ফোরকান শিকদারের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দেওয়া হয়েছে।’ 

জিআরপি ও রেলওয়ে নিরাপত্তা পুলিশের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, টিকিট কালোবাজারিদের ধরা হলেওপরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। সম্প্রতি এমন একটি ঘটনা ঘটেছে। গত ২৩ মে কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে কালোবাজারি বোরহানকে (আনুমানিক ৫০ বছর) আটক করেন নিরাপত্তা বাহিনীর হাবিলদার নাজমুল। ওইদিনই কমলাপুর স্টেশনে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমি সকালে বোরহানকে হাতেনাতে টিকিটসহ আটক করি। এরই মধ্যে সে ছাড়া পেয়েছে। কীভাবে পেয়েছে, জানি না। আমি তাকে নিরাপত্তা বাহিনীর অফিসে সোপর্দ করেছিলাম।’

নিয়ম অনুযায়ী রেলওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করার কথা থাকলেও এক নম্বর প্ল্যাটফরমে নিরাপত্তা বাহিনীর অফিস থেকে থানায় নেওয়া হয়নি। বিষয়টি সম্পর্কে রেলওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইয়াসিন ফারুক মজুমদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘না, বোরহান নামে কাউকে থানায় সোপর্দ করা হয়নি।’

কালোবাজারি ঠেকাতে রেলওয়ে পুলিশের নিজস্ব গোয়েন্দা বিভাগও কাজ করছে। একজন কর্মকর্তা জানান, ‘ঈদের সময় চব্বিশ ঘণ্টাই ডিউটি পালন করার প্রস্তুতি আছে বিভাগটি।’

রেল মন্ত্রণালয়ে জমা হওয়া গোয়েন্দা প্রতিবেদনে টিকিট কালোবাজার ছাড়াও স্টেশনের নিরাপত্তা, যাত্রীদের সুনিশ্চিতসেবা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সার্বক্ষণিক পাহারার ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে কমলাপুর স্টেশনে ম্যানেজার সিতাংশু চক্রবর্তী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কালোবাজারি ঠেকাতে যথারীতি রেলওয়ের নিজস্ব বাহিনী, পুলিশ, আর্মড পুলিশ, র‌্যাবসহ সব গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে। সার্বক্ষণিক মনিটরিং করতে রয়েছে সিসিটিভি। আমরা সব সময় মনিটরিং করি। এখন কালোবাজারির সুযোগ নেই।’ 

About

Popular Links