Wednesday, May 29, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ত্রাণ ফান্ডের নামে চাঁদা দাবির অভিযোগ সাভারের ইউএনওর বিরুদ্ধে

অভিযোগ রয়েছে, অনুদানের টাকা উত্তোলনের পর থেকে উপজেলার কোথাও ত্রাণ দিতে দেখা যায়নি ইউএনওকে

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০২০, ০৯:১৮ এএম

করোনাভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্রদের সহায়তায় ফান্ড গঠনের কথা বলে উপজেলার একাধিক ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা করে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পারভেজুর রহমানের বিরুদ্ধে।

উপজেলার একাধিক ইউপি চেয়ারম্যান জানান, চলমান সঙ্কটে সরকারি বরাদ্দ পাওয়া চাল শেষ হয়েছে অনেক আগেই। অন্যদিকে জনসংখ্যার পরিমাণ বেশি হওয়ায় অনেক চেয়ারম্যানই ব্যক্তিগত উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন।

এমন পরিস্থিতিতে ইউএনও পারভেজুর রহমানের গঠিত “করোনা ফান্ডে” টাকা দিতে বাধ্য হয়েছেন চেয়ারম্যানরা। অভিযোগ রয়েছে, অনুদানের টাকা উত্তোলনের পর থেকে উপজেলার কোথাও ত্রাণ দিতে দেখা যায়নি ইউএনওকে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে সাভার পৌর এলাকার ব্যাংক কলোনি মহল্লার একটি বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। বাড়িটিতে বসবাসকারী ১০ থেকে ১৫টি পরিবারের অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক থেকে পাওয়া উপজেলা প্রশাসনের হটলাইন নাম্বারে খাদ্য সহায়তার জন্য তিন দিন ধরে যোগাযোগ করেও ত্রাণ মেলেনি। নম্বরটিতে একাধিকবার চেষ্টা করেও সংযোগ না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন কেউ কেউ। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ইউপি চেয়ারম্যান ও সচিব জানান, উপজেলার জন্য বরাদ্দকৃত ১০০ টন চালের মধ্যে ১২টি ইউনিয়নে তাদের মাধ্যমে এ পর্যন্ত প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। বাকি চালের খবর তারা জানেন না।

এছাড়া, চালের পাশাপাশি করোনার দুর্যোগে শিল্পাঞ্চল সাভার ও আশুলিয়ার জন্য সরকারিভাবে (জি আর এর) ১০০ টন চাল আর শিশু খাদ্যসহ নগদ চার লাখ ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সেসব বরাদ্দ চেয়ারম্যানদের বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তারা।

উল্লেখ্য, শিল্প এলাকা হওয়ায় সাভারে অসংখ্য মানুষের বসবাস। আর জনসংখ্যার তুলনায় সরকারি বরাদ্দ খুবই সামান্য বলে মনে করেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

বনগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল জানান, তিনি ইউএনওর কথামতো ৫০ হাজার টাকা দিয়েছেন। তবে সেই টাকা দিয়ে নির্বাহী কর্মকর্তা কোথায় বা কাদের সহযোগিতা করবেন তা তিনি জানেন না। ওই টাকার পুরোটাই নগদ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

শিমুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুরুজ বলেন, ‘‘করোনাভাইরাস মহামারিতে খাদ্যসামগ্রী দিয়ে সহযোগিতা করার কথা বলে ইউএনও প্রত্যেক চেয়ারম্যানকে নগদ ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার জন্য এক মিটিংয়ে নির্দেশ দেন। নির্বাহী কর্মকর্তার চাহিদা মোতাবেক নগদ ৫০ হাজার টাকা তার কাছে দিয়ে এসেছি।’’

তিনি জানান, ধামসোনার চেয়ারম্যান ও আশুলিয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নির্বাহী কর্মকর্তাকে এক লাখ টাকা করে দিয়েছেন।

একই কথা বলেছেন ভাকুর্তা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ারও।

আশুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাহাবউদ্দিন বলেন, ‘‘কেউ ৫০ হাজার আবার অনেকেই এর বেশিও টাকা দিয়েছেন।’’

পাথালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পারভেজ দেওয়ান বলেন, ‘‘ত্রাণের চাল পেলেও অন্যান্য খাদ্য সামগ্রী কেনার জন্য কোনো আর্থিক সহযোগিতা বা নগদ টাকা এখনও পাইনি।’’

ইউএনওর ফান্ডে টাকা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার কাছেও টাকা চাওয়া হয়েছিলো কিন্তু আমি দেইনি।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও পারভেজুর রহমান বলেন, ‘‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে এবং হবে। ত্রাণ নিয়ে কোনো লুকোচুরি করা হচ্ছে না।’’

আর ইউএনওর এসব অনিয়মের বিষয়ে ঢাকা জেলা প্রশাসক (ডিসি) আবু সালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌসের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভি করেননি। এমনকি ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

About

Popular Links