Sunday, May 26, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

করোনাভাইরাসের আতঙ্কে ছেড়ে গেলেন স্ত্রী-সন্তান, দায়িত্ব নিল পুলিশ

  বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাতে ঝিনাইদহে তার গ্রামের বাড়িতে পৌঁছুলে দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানায় আত্মীয়স্বজনরাও

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০২০, ০৮:৪০ পিএম

সাভারে করোনাভাইরাসের আতঙ্কে এক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে রেখে বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রী-সন্তানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার ২৫ দিন পর প্রতিবেশীদের সহায়তায় ঝিনাইদহের গ্রামের বাড়িতে যান ওই ব্যক্তি।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাতে ঝিনাইদহে পৌঁছুলে আত্মীয়স্বজনরা ও গ্রাম প্রশাসন তার দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানায়। 

ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, ঢাকার সাভারে একটি ভাড়া বাসায় স্ত্রী ও সন্তানকে দিয়ে দীর্ঘ ২০ বছর বসবাস করে আসছিলেন ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার উমেদপুর গ্রামের ব্যবসায়ী আশরাফুজ্জামান। কিন্তু দুই বছর আগে বাথরুমে পড়ে গিয়ে চলার শক্তি হারান তিনি। হুইল চেয়ারে চলাফেরা করতে পারলেও, আয় রোজগার কমে যাওয়া এবং বর্তমান করোনা আতঙ্কে স্ত্রী নাসিমা জামান ও ছেলে মনিরুজ্জামান ওই ভাড়া বাসায় আশরাফুজ্জামানকে ফেলে রেখে চলে যান।

সেখানেই গত ২৫ দিন একা থাকার পর প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় একটি পিকআপ ভাড়া করে ঝিনাইদহে আসেন আশরাফুজ্জামান। গ্রামের বাড়িতে গেলে সেখানেও তাকে ঠাঁই দেননি তার চাচাতো ভাই ও তাদের ছেলেরা। এমনকি গাড়ি থেকেই তাকে নামতে দেয়া হয়নি। পরে ওই ব্যক্তিকে নিয়ে আসা পিকআপ চালক ও তার সহকারী তাকে ঝিনাইদহ-মাগুরা মহাসড়কে রেখে চলে যান। সারারাত সেখানেই কাটে তার।

বৃহস্পতিবার সকালে খবর পেয়ে ঝিনাইদহ সদর থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে প্রথমে থানায় নিয়ে আসে। পুলিশের পক্ষ থেকে তার আত্মীয় স্বজনদের সাথে যোগাযোগ করা হলেও কেউ তাকে গ্রহণ করতে চাননি। পরে পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান ওই ব্যক্তির চিকিৎসার দায়িত্ব নিলে থানা থেকে তাকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্মরত চিকিৎসক ডা. মিলিথা পারভীন জানান, আশরাফুজ্জামানের মধ্যে করোনাভাইরাসের কোনো উপসর্গ নেই। তিনি শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী। কিন্তু তিনি যেহেতু ঢাকা থেকে এসেছেন, সেজন্য তাকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।

পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান বলেন, “প্রতিবন্ধী আশরাফুজ্জামানকে তার আত্মীয়স্বজনেরা গ্রহণ না করায় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে আমি তার সমস্ত দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। যতদিন তার কোনো অভিভাবক না পাওয়া যায়, ততদিন আমরা তার পাশে থাকব।”

About

Popular Links