Sunday, May 19, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

‘ডাকাত পড়েছে’ বলেছে বলে মসজিদে-মসজিদে মাইকিং, রাতভর আতঙ্ক

আনিসুর রহমান মামুন বলেন, 'রাত ১টার দিকে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয়, এলাকায় ডাকাত ঢুকেছে'

আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০২০, ০৪:৪৮ পিএম

মুন্সীগঞ্জ জেলা জুড়ে মসজিদের মাইকে “ডাকাত পড়ছে” বলে ঘোষণা দিয়ে গুজব ছড়ানো হয়েছে। এ নিয়ে রাতভর আতঙ্কে কাটে জেলার বিভিন্ন উপজেলার মানুষের। 

সোমবার (২০ এপ্রিল) দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে। লৌহজং উপজেলা থেকে এই গুজবের শুরু বলে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে পুলিশ। 

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার গনকপাড়ার বাসিন্দা জনতা ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার আনিসুর রহমান মামুন বলেন, “রাত ১টার দিকে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয়, এলাকায় ডাকাত ঢুকেছে। সবাই যেনো সতর্ক থাকি। পরে নিশ্চিত হই যে এটা গুজব ছিল।”

সিরাজদিখান উপজেলার ইছাপুরার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক তানভিয়া বলেন, “রাত সাড়ে ১২টার দিকে এলাকার মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয়, ‘ডাকাত ঢুকেছে।’ আমরা ভয়ে সারারাত আতঙ্কিত অবস্থায় থাকি।”

জানা গেছে, দিবাগত রাত ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত লৌহজং, শ্রীনগর, সিরাজদিখান, টংগিবাড়ী ও সদর উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ডাকাতের খবর মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিতে শুনেছেন। অনেকে সেটা বিশ্বাস করে মধ্যরাতে স্বজনদের ফোন দিয়ে সতর্ক করেন। কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ বিষয়ে পোস্ট দেন।

মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনিচুর রহমান জানান, “ডাকাত পড়ার ঘোষণা জেলার বিভিন্ন মসজিদ থেকে দেওয়া হয়েছে। তবে, আমরা যতটুকু খবর পেয়েছি কোথাও কোনো ডাকাতির ঘটনা ঘটেনি।”

মুন্সীগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খন্দকার আসফাকুজ্জামান জানান, “এটি পুরোপুরি একটি গুজব। যারা মসজিদের মাইকে ঘোষণা করেছে, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আমরা তদন্ত করে দেখছি গুজবের উৎস কোথায়।”

মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপার (এসপি) আব্দুল মোমেন জানান, “প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি যে লৌহজং ও শ্রীনগর এলাকায় কিছু বিল আছে। সেখানে অনেকে রাতের বেলায় টর্চের আলো ফেলে মাছ ধরে। গ্রামের কেউ সেই আলো দেখে ডাকাত সন্দেহে কোনো মসজিদের মাইকে এলাকার সকলকে সাবধান হতে ঘোষণা দেয়। তারপর, পার্শ্ববর্তী মসজিদেও ঘোষণা আসে। এভাবে একটি মসজিদ থেকে পুরো জেলার বিভিন্ন মসজিদে মাইকিং হয়। আমরা এ বিষয়ে অধিকতর তদন্ত করবো।” 

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, “অনেকেই যেহেতু মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়েছে তাই সকলের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয়। আমরা তাদেরকে গুজবের ব্যাপারে সচেতন হতে পরামর্শ দিচ্ছি। পাশাপাশি গুজবের উৎস নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছি। সুনির্দিষ্ট কাউকে পেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
 

About

Popular Links