Monday, May 27, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

লকডাউন শিথিলে নিশ্চিত করতে হবে করোনাভাইরাসের উৎস ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা

“বর্তমানে নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা অনেক বেড়েছে তবে এখনও পর্যন্ত এর সংখ্যা পর্যাপ্ত নয়, আরও পরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে”

আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০২০, ০৮:৩৩ পিএম

করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণাকৃত সাধারণ ছুটির মেয়াদ বেশ কয়েকবার বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে এসময়ের মধ্যে রপ্তানি-নির্ভর শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোও খুলে দেওয়া হতে পারে এমনটিও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছিল। শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দিলে শ্রমিকদের জন্য   স্বাভাবিকভাবেই গণপরিবহণও খুলে দিতে হবে, এ বিষয়টিও বোঝা যাচ্ছিল। 

সরকারের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী বেশ কয়েকটি শিল্প প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত আসে। সেসময় শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কারখানার মালিকদের বেশকিছু শর্তও জুড়ে দেওয়া হয়।

যদিও এখনই কারখানাগুলো খুলে দেওয়ার প্রকৃত সময় কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। শ্রমিকদের প্রতি খেয়াল রাখা, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করার বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষকে নজর রাখতে হবে বলেও বলে আসছেন তারা। শুধু শ্রমিক নয়, সবার স্বাস্থ্য পরীক্ষার দিকে নজর দিতে হবে

বর্তমান অবস্থা

বর্তমানে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে দেশের ৬০টি জেলায়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, শুক্রবার পর্যন্ত সারাদেশে মোট করোনভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৪,৯৯৮ জন, মারা গেছেন ১৪০ জন। সুস্থ হয়েছেন ১১২ জন, যা মোট আক্রান্তের ২.৫%, যেখানে মৃত্যুর হার ৩%।

ফলে এখন পর্যন্ত দেশের ৪৫টি জেলাকে সম্পূর্ণ লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। ১১টি জেলার কিছু কিছু অংশ লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। 

গত ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত জাতীয় রোগ তত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটউটের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, গত ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত আক্রান্তদের ৮৫% এর বেশি ঢাকা বিভাগের, এরমধ্যে কেবল ৪৬.৮% ঢাকা শহরের ভেতরে। এরপরই রয়েছে নারায়ণগঞ্জ, জেলাটিতে ৫৩২জন আক্রান্ত হয়েছেন, তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে গাজীপুর। জেলাটিতে ২৯২ জন আক্রান্ত হয়েছেন।

অন্যান্য বিভাগের মধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন, চট্টগ্রামে ৪.১৫%, ময়মনসিংহে ৩.৭%, বরিশালে ২.০৬%, রংপুরে ১.৭৫%, খুলনায় ১.০৩%, সিলেটে ০.৯২% ও রাজশাহীতে ০.৮৬%

বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন (বিএমএ) সেক্রেটারি জেনারেল এহতেশামুল হক চৌধুরী বলেন, জন হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা লকডা্উনকে দুইভাবে চিহ্নিত করেছেন, একটি সাপরেশন বা প্রশমন অপরটি মিটিগেশন বা দমন। প্রথমটিতে লকডাউন টানা মানা হয়েছে, যার ফল পেয়েছে চীন ও দক্ষিণ কোরিয়া, পরেরটি অর্থাৎ মিটিগেশন হচ্ছে প্রথমে কিছুদিন লকডাউন,   পরে আবার সেটি কয়েক ধাপে বাড়ানো। সেটি অনুসরণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও স্পেন, যারা করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যেই ব্যর্থ হয়েছেন বলেও জানান তিনি।

তবে এর মানে এই নয় যে এই দুই পদ্ধতির যেকোনও একটি আমাদের মানতেই হবে, কারণ আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থা এ দুই দেশের মতো নয়। সুতরাং এমতাবস্থায় আমরা তুরস্কের মতো করতে পারি। 

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. রশিদ ই মাহবুব এ বিষয়ে একমত প্রকাশ করে বলেন, “জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে এ বিষয়ে ভিন্ন কোনও পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে আমাদের।”

রশিদ ই মাহবুব আরও বলেন, এ অবস্থায় করোনাভাইরাস পরীক্ষা ছাড়া আর কোনও বিকল্প নেই। দেশে প্রচুর পরীক্ষা প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক নজরুল্ ইসলাম বলেন, “বর্তমানে নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা অনেক বেড়েছে তবে এখনও পর্যন্ত এর সংখ্যা পর্যাপ্ত নয়, আরও পরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে বলেও জানান তিনি।”

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. বেনাজির আহমেদ বলেন, “আমাদের সবার প্রতি লক্ষ্য রাখা উচিত,  সাধারণ জনগণের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসার প্রতি নজর দেওয়া উচিত। এ অবস্থা থেকে বের হয়ে আসার জন্য কঠোর হতে হবে বলেও জানান তিনি।”

তিনি আরও বলেন, সরকারের একদম শুরুতেই উচিত ছিল বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি প্যানেল ঘোষণা করা।”

তবে সরকার এখনও এ পদ্ধতিতে কাজ করতে পারে বলেও জানান তিনি।

লকডাউন তুলে নেওয়া হলে আরও মানুষ অনেক স্বাধীনভাবে ঘুরবে, এজন্য স্ক্রিনিং আরও কঠিন হওয়া প্রয়োজন, কেবল শরীরের তাপমাত্রা মাপাই স্ক্রিনিংয়ের উদ্দেশ্যে নয়, সব প্রবেশদ্বারেই প্রত্যেকের ভাইরাস পরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে বলেও জানান তিনি।

অনেক মানুষ একসঙ্গে এ ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত হয়ে গেলে তাদের প্রতি লক্ষ্য রাখতে এতগুলো টিম গঠন করা সম্ভব নয়। তবে কেসগুলোর উৎস কোথায়, কীভাবে ভাইরাসটি সংক্রমিত হলো এটি বের করার জন্য দল গঠন করা সম্ভব। 

বিশেষ করে শিল্প কারখানাগুলো খুলে দেওয়ায়, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী সবগুলো কারখানায় শ্রমিকদের ঝুঁকিগুলো মোকাবেলায় ও নমুনা পরীক্ষার জন্য দলগঠন করা যেতে পারে। 

এছাড়া কৃষকদেরও একইভাবে পরীক্ষা করা উচিত। পরিবহন শ্রমিকদের জন্য এ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। পরিবহনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের যদি করোনাভাইরাস নেই, এমন সনদপত্র দেওয়া যায় তবে তখন সাধারণ মানুষও নিজেদের নিরাপদ ভাববে।

 

 

About

Popular Links