Thursday, May 23, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

প্রধানমন্ত্রীর উপহার সামগ্রী নিয়েও নারী চেয়ারম্যানের ছলচাতুরি!

এমনকি বিতরণের সময় উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকেও জানাননি তিনি

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০২০, ০৬:৫৭ পিএম

নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলায় এক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে নিম্ন আয়ের মানুষকে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপহার সামগ্রী নয়-ছয়ের অভিযোগ উঠেছে। ইতোমধ্যে বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। 

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলার রংছাতি ইউপি চেয়ারম্যান তাহেরা খাতুন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, করোনাভাইরাস সৃষ্ট সঙ্কটে নেত্রকোণা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে নিম্ম আয়ের মানুষের মাঝে ইউনিয়ন প্রতি ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই অর্থ দিয়ে ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে ১০০ জনের মধ্যে ৫০০ টাকা সমমূল্যের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করার কথা। 

সূত্র আরও জানায়, বাজার যাচাই করে  প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বরাদ্দ করা অর্থ দিয়ে ২ কেজি আলু, ১ লিটার সয়াবিন তেল, পেঁয়াজ, লবণ, ছোলা ও চিনিসহ মোট ৭ কেজি পণ্য দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ে। 

কিন্তু সেই নির্দেশনা না মেনে ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাহেরার বিরুদ্ধে।  জানা গেছে, চেয়ারম্যান তাহেরা ৫শ’ টাকার পরিবর্তে ৩শ’ টাকা সমমূল্যের মালামাল তার ইউনিয়নের ১শ’টি পরিবারের মাঝে বিতরণ করেছেন।

এমনকি বিতরণের সময় ট্যাগ অফিসারকেও জানাননি তিনি। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সহায়তা পাওয়া ব্যক্তিরা জানান, “পেঁয়াজ ১ কেজির বদলে ৭০০ গ্রাম, আলু দুই কেজির বদলে এক থেকে দেড় কেজি, ছোলা ৬০০ গ্রাম এবং নিম্নমানের তেল রয়েছে চেয়ারম্যান তাহেরার দেওয়া প্যাকেটে।” 

বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানালে ওই ইউনিয়ন পরিষদেরই এক সদস্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কাছে বিষয়টি নিয়ে মৌখিক অভিযোগ করেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে ইউএনও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন।

ইউপি সদস্য আ. রহিম ও আ. গনির মুঠোফোনে ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, “১০০ জন মানুষ ওই উপহার সামগ্রী পেয়েছে। কিন্তু প্রতিটি প্যাকেটে ওজনে ঘাটতি রয়েছে। প্যাকেটের জিনিসের বাজারমূল্য সর্বোচ্চ ৩০০ থেকে ৩৩০ টাকার বেশি হবে না।”

ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা ট্যাগ কর্মকর্তা উপজেলা পল্লী দারিদ্র বিমোচন কর্মকর্তা মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, “ট্যাগ অফিসার হিসাবে সব বিতরণে আমি থাকি। কিন্তু ওই ইউপির চেয়ারম্যান বিতরণের বিষয়টি আমাকে জানাননি। তিনি টাকা তুলে নিজের মতো করে পণ্য বিতরণ করেছেন বলে শুনেছি।”

এ বিষয়ে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান তাহেরা খাতুনের কাছে জানতে চাইলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেন।

কলমাকান্দার ইউএনও মো. সোহেল রানা জানান, “ওজনে কম দেওয়ার বিষয়টি শুনেছি ও মৌখিক অভিযোগও পেয়েছি। সরকারি ত্রাণ বিতরনে কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে তদন্ত করার জন্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে সর্বোাচ্চ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

 

About

Popular Links