Tuesday, May 21, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

সুসম্পর্কের কারণে সীমান্তবর্তী এলাকায় হত্যাকাণ্ড অনেকাংশে কমে গেছে: বিজিবির মহাপরিচালক

বিজিবি-বিএসএফের সুসম্পর্কের কারণেই এবছরের আগস্ট পর্যন্ত সীমান্তবর্তী এলাকায় একটাও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেনি।

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০১৮, ১১:০৫ পিএম

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাফিনুল ইসলাম বলেছেন, বিজিবি-বিএসএফের সুসম্পর্কের কারণেই সীমান্তবর্তী এলাকায় হত্যাকাণ্ড অনেকাংশে কমে গেছে। এই সুসম্পর্কের কারণেই এবছরের আগস্ট পর্যন্ত সীমান্তবর্তী এলাকায় একটাও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেনি। এর কারণ দুই বাহিনীর মধ্যেকার সুসম্পর্ক আর সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষদের সহযোগিতা। আগামীতে এ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।

সোমবার দুপুরে রাজশাহীর আওতাধীন সাহেব নগর সীমান্ত ফাঁড়ি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। এসময় বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 

তিনি আরও বলেন, বিজিবি সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে মাদক, শিশু ও নারী পাচাররোধে ‘জিরো-টলারেন্স’ নীতি নিয়ে কাজ করছে। পাচাররোধে বিজিবি সবসময় সদা সতর্ক থেকে কাজ করছে। তারপরও বিভিন্নভাবে সীমান্ত দিয়ে মাদক আসছে। কারণ মাদকের চাহিদা বাংলাদেশে রয়েছে। এজন্য সাধারণ মানুষের সচেতনতাও প্রয়োজন। এর পাশাপাশি বিজিবি সীমান্তবর্তী এলাকায় সীমান্ত সড়ক নির্মাণ ও প্রযুক্তি ব্যবহার বৃদ্ধিতে গুরুত্বারোপ করছে। যাতে করে সব ধরনের চোরাচালানা ও পাচার রোধ করা সম্ভব হয়। ইতিমধ্যে যশোরে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এসময় তিনি বিজিবি সদস্যদের সীমান্তবর্তী এলাকার সুরক্ষা রক্ষায় বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন।

এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সীমান্তে নিরাপত্তার জন্য প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দিনাজপুরের হিলি ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের চরাঞ্চলে সার্ভেইল্যান্স প্রযুক্তি স্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সীমান্ত মনিটরিং করে দ্রুততম সময়ের মাধ্যমে রেসপন্ড টিম পৌঁছাতে পারবে।

রাজশাহী সীমান্ত ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত প্রশ্নের জবাবে বিজিবি মহাপরিচালক সাফিনুল ইসলাম বলেন, বিজিবির কঠোর নজদারির ফলে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে অবৈধভাবে গরু প্রবেশ রোধে আমরা অনেকাংশে সফল হয়েছি। একইভাবে আমাদের দেশ হতে যাতে গবাদি পশুর একটি চামড়াও অন্য দেশে পাচার না হয় সেজন্য সর্বাত্মক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত টহল পরিচালনার পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, রাজশাহীর এই দুর্গম সীমান্তে টহল পরিচালনা করা আমাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। দুর্গম সীমান্তে সীমিত জনবল দিয়ে টহলের মাধ্যমে সীমান্ত পুরোপুরি সুরক্ষিত করা অত্যন্ত দুরূহ ব্যাপার। এ জন্য টহলের পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সীমান্ত সুরক্ষার লক্ষ্যে ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় ‘বর্ডার সার্ভেইল্যান্স এন্ড রেসপন্স সিস্টেম’ স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। রাজশাহীর সীমান্ত এলাকায় এই প্রযুক্তির ব্যবহার করা যায় কিনা এবং এখানে টহল পরিচালনার জন্য উপযুক্ত কী ধরণের প্রযুক্তি ব্যবহার করা যায় আমরা সেটা নিয়ে কাজ করছি। আশা করা যায়, অচিরেই এগুলোর প্রয়োগ করা সম্ভব হবে এবং এই সীমান্ত আরও সুরক্ষিত হবে।

পরে তিনি ৫৩ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন চাঁপাইনবাবগঞ্জ আওতাধীন গোদাগাড়ী সীমান্তের দিয়াড় মানিক চক সীমান্ত ফাঁড়ি পরিদর্শন করে। এসময় তিনি ১০ কিলোমিটারের অধিক দুর্গম সীমান্তবর্তী এলাকা পরিদর্শন করেন। এসময় বিজিবির উত্তর-পশ্চিম রিজিয়ন রংপুরের ভারপ্রাপ্ত রিজিয়ন কমান্ডার কর্নেল আনোয়ার সাদাত আবু মো. ফুয়াদ, ১ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল শামীম মাসুদ আল ইফতেখার, ৫৩ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল সাজ্জাদ সারওয়ার প্রমুখ।

About

Popular Links