Friday, May 24, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

নিজ বাড়ির সিঁড়িতেই পড়েছিল কোটিপতি ব্যবসায়ীর লাশ

‘মারা যাওয়ার আগ মুহূর্তে সে একটু পানি চেয়েছিলো। কিন্তু কেউ একটু পানি নিয়েও এগিয়ে আসেনি’

আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০২০, ১২:২৮ পিএম

“কয়েকদিন যাবৎ জ্বর, কাশি আর শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন খোকন সাহা। রবিবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের লোকজন তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় সিড়িতেই তার মৃত্যু হয়। পরে দুই ঘণ্টা সিড়িতেই পড়েছিল কোটিপতি ব্যবসায়ী খোকন সাহার লাশ। মৃত্যুর সময় পানিও খেতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এগিয়ে আসেনি”

এভাবেই ঘটনাটির বর্ণনা দিচ্ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খোরশেদ।

তিনি বলেন, এক ব্যক্তি আমাকের ফোন করে জানালো গলাচিপা এলাকায় একজন মারা গেছে। আপনারা গিয়ে একটু ডাক্তার দেখান। পরে ওই লোকের ভাই ও তার শ্যালক ফোন করে আবারও একই কথা জানান। তখন আমি তাদের অনুরোধ করি যাতে তারা নিজেরা একটু ব্যবস্থা করে নেয়। কারণ  তখন আমি আরেকজন করোনাভাইরাসে মৃত ব্যক্তির লাশ দাফনকাজে ব্যস্ত।

মাকছুদুল আলম জানান, এদিকে আমরা ফোন পাওয়ার অনেকক্ষণ পরে গিয়ে দেখি লাশটি ভবনের তিনতলার মাঝামাঝি সিড়িতেই পড়ে আছে। আশেপাশে ওই ব্যক্তির আত্মীয়স্বজনেরা কেউই সাহস করে এগিয়ে আসছে না। তখন আমরা উপরে গিয়ে তার স্ত্রী, সন্তানের সাথে কথা বললাম। তারা জানালো,  তিনি কয়েকদিন যাবৎ অসুস্থ ছিলেন। অবস্থা খারাপ হলে তারা হাসপাতালে তার স্ত্রী ও কন্যারা নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলো। কিন্তু নিতে নিতে সিঁড়িতেই তিনি মারা যান।

তার স্ত্রী বলেন, “মারা যাওয়ার আগ মুহূর্তে সে একটু পানি চেয়েছিলো। কিন্তু কেউ একটু পানি নিয়েও এগিয়ে আসেনি।”

মাকছুদুল আলম বলেন, “অথচ এই লোক নারায়ণগঞ্জের একজন কোটিপতি মানুষ। শহরে সাত বন্ধু মিলে সাততলা ভবন নির্মাণ করেছেন। একই ভবনে থাকেন তারা। মৃত্যুর সময় তার স্ত্রী সন্তানদের ডাকে কেউ এগিয়ে আসেনি।”

কমিশনার জানান, মৃত ব্যক্তির কোনো ছেলে না থাকায় তার স্ত্রী আমাদেরকে ওই ব্যক্তি শেষকৃত্য করার অনুরোধ করে। পরে স্ত্রীর কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে ওই ব্যবসায়ীর লাশ সিটি কর্পোরেশনের কেন্দ্রীয় শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে থাকা সরকারি পুরোহিতের সহায়তায় তারা নিজেরাই ওই ব্যক্তির মুখাগ্নি করে শেষকৃত্য সম্পন্ন করেন। 

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের  ১৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খোরশেদ আরও জানান, এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মৃত ও উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া এমন ৩৪টি মরদেহ দাফন ও দাহ করেছি নিজ হাতেই। স্বাক্ষী হচ্ছি নতুন নতুন ঘটনার। পাশের ঘরে বাবার লাশ পড়ে আছে কিন্তু সন্তান স্ত্রী কেউ ধরে না। কবর দিতে পর্যন্ত আসে না আত্মীয় স্বজনরা।

তিনি বলেন, করোনাভাইরাস মানুষের মানবিকতাকে গ্রাস করে নিচ্ছে। অথচ আমরা বারবার মানুষকে বারবার বলছি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বা মৃত রোগীকে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে সেবা বা ধরা সম্ভব। কিন্তু কে শোনে কার কথা।

কমিশনার বলেন, “আমার একটাই অনুরোধ আমরা আমাদের প্রতিবেশী ,আত্মীয়-স্বজনদের প্রতি সম্মান জানাই। এতটাও নির্দয় না হই।”

About

Popular Links