Monday, May 20, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

জনতা ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারিতে জাজ মাল্টিমিডিয়া

জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুছ ছালাম আজাদ বলছেন, ‘রিমেক্স ফুটওয়্যারের চেয়ারম্যান এম এ আজিজকে আমরা এম এ কাদেরের ভাই বলেই জানি। যিনি সিনেমা তৈরি করেন বলেই শুনেছি।’

আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০১৮, ০৫:১৫ পিএম

ক্রিসেন্ট গ্রুপ ভুয়া রফতানি নথি দেখিয়ে জনতা ব্যাংক থেকে ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ তুলে নিয়েছে। এই গ্রুপের অন্যতম প্রতিষ্ঠান রিমেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের কাছে জনতা ব্যাংকের পাওনার পরিমাণ ১ হাজার কোটি টাকারও বেশি। জনতা ব্যাংক বলছে, রিমেক্স ফুটওয়্যারের চেয়ারম্যান এম এ আজিজই হচ্ছেন জাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার। গত ৩১ জুলাই জনতা ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করতে এম এ আজিজের নামে একটি চিঠি ইস্যু করেছে। তবে ব্যাংকের এ দাবি অস্বীকার করেছেন জাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার। 

বর্তমানে দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে সবচেয়ে আলোচিত নাম জাজ মাল্টিমিডিয়া। বাংলাদেশ-ভারতের যৌথ প্রযোজনায় তৈরি বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রেও বিনিয়োগ করেছে জাজ মাল্টিমিডিয়া।

এ প্রসঙ্গে এম এ আজিজ বলেন, ক্রিসেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান এম এ কাদের তার ভাই। তবে তিনি জনতা ব্যাংক থেকে কোনও টাকা নেননি। রিমেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের সঙ্গে তার কোনও সম্পৃক্ততা নেই।

তিনি আরও বলেন, ‘জনতা ব্যাংক যার নামে চিঠি ইস্যু করেছে তিনি আর আমি একই নই। জনতা ব্যাংক যে ঠিকানা ব্যবহার করেছে, সেই ঠিকানাও আমার নয়। জনতা ব্যাংক থেকে টাকা নিয়েছে আমার ভাই। দোষ করলে ভাই করেছে। ভাইয়ের দোষ আমার কাঁধে আসবে কেন?’ 

জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুছ ছালাম আজাদ বলছেন, ‘রিমেক্স ফুটওয়্যারের চেয়ারম্যান এম এ আজিজকে আমরা এম এ কাদেরের ভাই বলেই জানি। যিনি সিনেমা তৈরি করেন বলেই শুনেছি।’

চামড়া খাতের উদ্যোক্তারাও বলছেন, রিমেক্স ফুটওয়্যারের মালিক ক্রিসেন্ট গ্রুপের এম এ কাদের ও জাজ মাল্টিমিডিয়ার এম এ আজিজ দুই ভাই।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) সভাপতি শাহীন আহমেদ বলেন, রিমেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের চেয়ারম্যান এম এ আজিজ ও জাজ মাল্টিমিডিয়ার আজিজ একই ব্যক্তি। তারা চামড়াজাত পণ্যের এই ব্যবসা পৈতৃক সূত্রে পেয়েছেন।

জনতা ব্যাংক থেকে বলা হচ্ছে, আজিজের বড় ভাই কাদেরের কাঁচা চামড়া প্রক্রিয়াজাত, পণ্য উৎপাদন, বিপণন ও রফতানি করা একাধিক প্রতিষ্ঠান আছে। এরমধ্যে রয়েছে, ক্রিসেন্ট লেদার প্রোডাক্টস, ক্রিসেন্ট ট্যানারিজ, ক্রিসেন্ট ফুটওয়্যার, রূপালী কম্পোজিট লেদার, লেক্সকো লিমিটেড ও গ্লোরি অ্যাগ্রো।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্রিসেন্ট লেদারের রফতানির অর্থ দেশে না এলেও নিয়ম-নীতি লঙ্ঘন করে একের পর এক বিল কিনেছে জনতা ব্যাংক। ভুয়া রফতানি বিল কিনে গ্রুপটির হাতে নগদে টাকা দিয়েছে তারা। এখন রফতানির টাকা ফেরত আসছে না। এর বাইরে সরকারের নগদ সহায়তা তহবিল থেকেও ক্রিসেন্ট গ্রুপ নিয়েছে এক হাজার ৭৫ কোটি টাকা। বিদেশে রফতানির এক হাজার ২৯৫ কোটি টাকা আটকা রয়েছে। সব মিলিয়ে গ্রুপটি সরকারি ব্যাংক ও সরকারের তহবিল থেকে ২০১৩ সাল থেকে এ বছরের মার্চ পর্যন্ত পাঁচ হাজার ১৩০ কোটি টাকা নিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, রফতানি বিল কেনার ক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়ম মানেনি জনতা ব্যাংক। বিলের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়নি তারা। রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান টাকা দিতে পারবে কিনা, সে ব্যাপারে কোনও খোঁজ-খবর নেয়নি ব্যাংকটি। জনতা ব্যাংকের ইমামগঞ্জ কর্পোরেট শাখায় মোট ঋণের পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। এরমধ্যে ক্রিসেন্ট গ্রুপের ছয় প্রতিষ্ঠানের কাছে ব্যাংকটির ঋণ ২ হাজার ৭৬০ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংক ও জনতা ব্যাংকের অনুসন্ধানে এরই মধ্যে জালিয়াতির বিষয়টি চিহ্নিত হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইমামগঞ্জ শাখার এডি লাইসেন্স বাতিলের পাশাপাশি জনতা ব্যাংক ও দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। রফতানির আড়ালে ক্রিসেন্ট গ্রুপের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থপাচারের প্রাথমিক প্রমাণও পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এ বিষয়ে জানতে এম এ কাদেরকে ফোন করা হলে তিনি কোনও মন্তব্য করেননি।

জনতা ব্যাংকের বৈদেশিক বাণিজ্য বিভাগের (এফটিডি) উপ-মহাব্যবস্থাপক রূহুল আমীন খান স্বাক্ষরিত চিঠিতে রিমেক্স ফুটওয়্যারের সব দায়দেনা পুরান ঢাকার ইমামগঞ্জ থেকে লোকাল অফিসে স্থানান্তর করার বিষয়টি জানানো হয়।

রিমেক্স ফুটওয়্যারের দায়দেনার একটি হিসাবও উল্লেখ আছে চিঠিতে। তাতে দেখা যায়, সব মিলিয়ে চলতি বছরের ৩১ জুলাই পর্যন্ত রিমেক্স ফুটওয়্যারের কাছে জনতা ব্যাংকের মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৬ কোটি ৮৪ লাখ ৪০ হাজার ৬২৩ টাকা। মেয়াদ ফুরিয়ে গেলেও জনতা ব্যাংকের কেনা রিমেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের রফতানি বিলের অর্থ দেশে আসছে না।

চিঠিতে এম এ আজিজকে দেওয়া চিঠিতে ব্যাংকের সব দায় পরিশোধের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়।


সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

About

Popular Links