Tuesday, May 21, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

কক্সবাজারে পঙ্গপাল সদৃশ ‘অজ্ঞাত’ পোকার আক্রমণ

সোহেল সিকদার বলেন, 'গাছের নিচে ঝোপে আগুন ধরিয়ে পোকা দমনের চেষ্টা করেছিলাম। কাজের কাজ কিছুই হয়নি'

আপডেট : ০১ মে ২০২০, ০৭:১৭ পিএম

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় পঙ্গপাল সদৃশ এক ধরনের পোকার দেখা মিলেছে। এমন শত শত পোকা আক্রমণ চালিয়ে উপজেলার একটি বাসায় বেশ কয়েকটি গাছের পাতা নষ্ট করেছে বলে জানা গেছে। তবে পোকাটির পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত নন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা। 

“অজ্ঞাত” এই পোকার আক্রমনে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিলেও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা বলছেন, এটি পঙ্গপাল নয়। 

জানা গেছে, টেকনাফের লম্বরী এলাকায় এক বাড়ির আঙিনায় এ পোকা হানা দেয়। বাড়িটির আম গাছসহ বিভিন্ন গাছের পাতা নষ্ট করে ফেলেছে পোকাগুলো। কোথাও কোথাও শাখা ছাড়া কোনো পাতা নেই। আবার কিছু পাতা ছিদ্র হয়ে ঝলসে গেছে।

বাড়ির মালিক সোহেল সিকদার বলেন, “গত ১৮ এপ্রিল থেকে পোকাগুলোকে গাছের পাতায় ও ডালে বেশি দেখতে পাচ্ছি। আমি একটি আম গাছের নিচে ঝোপে আগুন ধরিয়ে পোকা দমনের চেষ্টা করেছিলাম। কাজের কাজ কিছুই হয়নি। পরে প্রতিটি গাছে কীটনাশক স্প্রে করি। এখন অনেকটা কমে গেছে।”

টেকনাফের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. শফিউল আলম বলেন, “পোকার ছবি দেখে আমরাও ধারণা করেছিলাম পঙ্গপাল। পরে কক্সবাজার অফিস থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে এগুলো পতঙ্গ পঙ্গপাল নয়। পঙ্গপালের পাখা থাকে ও সহজে উড়তে পারে। এটির তেমন পাখা দেখা যায়নি। এগুলো লাফাতে পারে, উড়তে পারে না। তবে যেহেতু কাঁচা পাতা খেয়ে ফেলছে, এ পোকা নিঃসন্দেহে সাধারণ ক্ষতিকর। এ ধরনের পোকার ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে কীটনাশক স্প্রে করা হচ্ছে। এখন অনেকটা কমে গেছে।”

এদিকে টেকনাফে এই পোকা নিয়ে আতঙ্কের কিছু নেই বলে জানিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানিয়ে বলা হয়, “এই পোকা তেমন ক্ষতিকর নয় মর্মে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এসব পোকা মরুভূমির ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে আসা পঙ্গপাল জাতীয় কোনো পোকা নয়। এ নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ জানানো যাচ্ছে।”

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বেশ কিছুদিন আগে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার লম্বরী গ্রামের কয়েকটি গাছে ঘাসফড়িংয়ের মতো কিছু ছোট পোকার আক্রমণ দেখা দিলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কক্সবাজারের উপপরিচালক ও স্থানীয় কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে কীটনাশক প্রয়োগ করে পোকাগুলো দমন করেন। ঘাসফড়িং সদৃশ এসব পোকা আবারও দেখা দিলে কৃষি মন্ত্রণালয় এটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করে। শুক্রবার সকালেই কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের কীটতত্ত্ববিদদের সমন্বয়ে উচ্চপর্যায়ের একটি দল টেকনাফের উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছে।

About

Popular Links