Wednesday, May 22, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

জামালপুরে যমুনায় ভাঙন, হুমকিতে বিস্তীর্ণ জনপদ

বছরের পর বছর চলমান ভাঙনরোধে স্থায়ী কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় চরম হতাশায় ডুবে গেছেন এলাকাবাসী

আপডেট : ০৭ মে ২০২০, ০৪:২৮ পিএম

জামালপুরের জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার খোলাবাড়িরচর এলাকায় গত বছর যমুনা নদীর ভাঙনে বিলিন হয়ে গিয়েছিল একটি আশ্রয়ণ প্রকল্প, ৩টি গ্রামের গাছপালাসহ হাজার হাজার ঘর-বাড়ি, শত শত একর ফসলি জমি, ৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি। সেই ভাঙনের ক্ষতি এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি মানুষ, এরইমধ্যে নতুন করে আবারও ভাঙন দেখা দিয়েছে একই এলাকায়।   

চলতি বছরের ভাঙনে ইতোমধ্যেই হারিয়ে গেছে বেশকিছু ঘরবাড়ি, বাজারের দোকানপাট, ফসলি জমি। ক্রমবর্ধমান এই ভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে ওই এলাকার তিনটি গ্রাম, বাজার, রাস্তা-ঘাটসহ প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নবনির্মিত বাহাদুরাবাদ ঘাট নৌ থানা। 

স্থানীয়রা বলছেন, বছরের পর বছর চলমান ভাঙনরোধে স্থায়ী কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় চরম হতাশায় ডুবে গেছেন এলাকাবাসী। 

স্থানীয়রা জানায়, গত বছর ভয়াবহ বন্যায় উপজেলার খোলাবাড়িরচর, বরখাল, চরমাগুরিয়া ও নয়াপাড়া ৩টি গ্রামে যমুনা নদীর প্রবল ভাঙন দেখা দেয়। ফলে ওইসব এলাকায় একটি আশ্রয়ন প্রকল্প, ৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ১টি ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মাদ্রাসা এবং ১টি মসজিদসহ খোলাবাড়ি বাজারের প্রায় সিংহভাগ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, পাকা রাস্তাসহ শতশত একর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ভাঙনের শিকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৮ শতাধিক শিক্ষার্থীর প্রতিষ্ঠানের অভাবে পাঠদান অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। ওইসব শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিপাকে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও অভিভাবকেরা। 

এ বিষয়ে খোলাবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খোরশেদ আলম সিরাজী বলেন, গত বছর জুলাই মাসের ১৭ তারিখে আমাদের স্কুল ভেঙে গেছে। বিকল্প কোনো জায়গা না পেয়ে বাজারের কোণে একটি সেড ঘরে গাদাগাদি করে কোনোমতে পাঠদানের কাজ করছিলাম। গত সপ্তাহে সেটিও নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। 

খোলাবাড়িরচর উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী সায়মা আঞ্জুমান আরা, সুমন রহিমা, আসমা, নজরুল জানায়, স্কুল নদীতে বিলিন হয়েছে তাই তাদের পড়ালেখা বন্ধ। স্কুলের ব্যবস্থা না হলে তা কবে শুরু হবে কেউ জানে না। 

মাত্র ৩০-৩৫ গজ ভাঙলেই নদীগর্ভে বিলিন হবে ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নবনির্মিত নৌ থানা।  ঢাকা ট্রিবিউন

অপরদিকে বর্তমানে যমুনা নদী ভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে প্রায় ৫ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নবনির্মিত বাহাদুরাবাদ ঘাট নৌ-থানা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সবেমাত্র থানার তিনতলা ভবনের কাজ শেষ করেছে । তারই মধ্যে থানা ভবন থেকে যমুনা নদী দূরত্ব রয়েছে মাত্র প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ গজ দূরে। 

এলাকাবাসীর ধারণা, এভাবে ভাঙন অব্যাহত থাকলে অচিরেই বাহাদুরাবাদ ঘাট নৌ থানাটি নদীগর্ভে বিলিন হবে।

বাহাদুরাবদ নৌ-থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, যেভাবে নদী ভাঙন শুরু হয়েছে তাতে দ্রুত যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে যে কোনো মুহুর্তে থানাটি নদীগর্ভে চলে যেতে পারে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন, “খোলাবাড়ী রক্ষার্থে  সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ভাঙনের বিষয় অবহিত করে ডিও লেটার দেওয়া হয়েছে।”

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সাইদ জানান, নদীর পাশ্ববর্তী এলাকায় এমন একটি সরকারি ভবন নির্মাণ করার হয়েছে যা আগে আমাদের কোনো মতামত নেওয়া হয়নি। তবে ভাঙন রোধে খোলাবাড়ি থেকে ফুটানি বাজার পর্যন্ত ৮০০ কিলোমিটার অস্থায়ীভাবে জিও ব্যাগ ফেলতে ৭ কোটি ৮৪ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলে টেন্ডার করা হবে।

About

Popular Links