Saturday, May 25, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

হকারদের কাছ থেকে কেনা পিপিই কতটুকু নিরাপদ?

একটি অসাধু চক্র ব্যবহৃত পিপিই ধুয়ে আবার বাজারে বিক্রি করছে। ইতোমধ্যে চক্রটির কয়েকজন সদস্য ধরা পড়েছে

আপডেট : ১১ মে ২০২০, ০৫:০৬ পিএম

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকেই মাস্কসহ অন্যান্য ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম বা পার্সোনাল প্রোটেক্টিভ ইক্যুইপমেন্টের (পিপিই) চাহিদা বেড়ে গেছে বহুগুণে। ফলশ্রুতিতে রাজধানীর ফুটপাতে মাস্ক বিক্রি করতে শুরু করেন হকাররা।

তবে, অনেক ক্ষেত্রেই হকাররা বিক্রি করছেন নিম্নমানের ও ব্যবহৃত মাস্ক। আর এসব পণ্যের ওপর আস্থা রেখে ঝুঁকিগ্রস্ত হচ্ছেন ক্রেতারা।

কারণ, নিম্নমানের এসব পণ্য কোনো ধরনের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ।

এ বিষয়ে ভাইরোলজি বিশেষজ্ঞ ও বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর নজরুল ইসলাম ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “পিপিই’র জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কিছু বিষয় নির্দিষ্ট করে দিয়েছে। ওইসব বৈশিষ্ট্য অনুপস্থিত থাকলে এবং নিম্নমানের কাপড় দিয়ে তৈরি হলে পিপিই সাধারণ পোশাকের চেয়ে কোনো অংশেই বেশি সুরক্ষা দিতে পারে না।”

তিনি আরও বলেন, ওইসব পিপিই’র ওপর আস্থা রাখলে কোভিড-১৯ আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, রাজধানীর বাড্ডার প্রগতি স্মরণী এলাকার ফুটপাতে ৩০০ থেকে ১২০০ টাকা দামের মধ্যে পিপিই বিক্রি করছেন কিছু হকার। 

সবচেয়ে কমদামি পিপিই বানানো হয়েছে টিস্যু ব্যাগ তৈরির কাপড় দিয়ে। আর অন্যান্যগুলো বানানো হয়েছে রেইনকোটের মতো পানিরোধী উপাদান দিয়ে।

উত্তর বাড্ডা কাঁচাবাজারের ফুটপাতে পিপিই বিক্রি করছিলেন হকার জসিম মিয়া। করোনাভাইরাস সৃষ্ট মহামারির আগে তিনি শার্ট-প্যান্ট বিক্রি করতেন। এখন জামা-কাপড় কেনা-বেচা বন্ধ থাকায় পিপিই বিক্রি করে সংসারের খরচ চালাচ্ছেন বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, “সাপ্লায়াররা ভ্যান কিংবা মোটরসাইকেলে এসে আমাকে চাহিদা মতো এসব জিনিস দিয়ে যান।”

উত্তর বাড্ডার সুবাস্তু টাওয়ার এলাকার আরেকজন হকার আমিনুল ইসলাম জানান, পিপিই এখন পাইকারি বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। বিভিন্ন গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি সেগুলো উৎপাদন করছে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে সাধারণ ছুটির মধ্যে ই-কমার্স ওয়েবসাইটগুলোর মাধ্যমে অনলাইনেও বিক্রি হয়েছে পিপিই। এছাড়া, ডিপার্টেমন্টাল স্টোর এবং ফার্মেসিতেও বিভিন্ন দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে পিপিই।

মান প্রশ্নবিদ্ধ হলেও করোনাভাইরাস সংক্রমণের ভয়ে অনেকেই কর্মক্ষেত্র কিংবা বাজারে যাওয়ার সময় এসব পিপিই ব্যবহার করছেন।

উল্লেখ্য, এরইমধ্যে একটি অসাধু চক্র ব্যবহৃত পিপিই ধুয়ে আবার বাজারে বিক্রি করছে। ইতোমধ্যে চক্রটির কয়েকজন সদস্য ধরা পড়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়নের (র‌্যাব) হাতে।

গত ২৪ এপ্রিল ঢাকার ভাটারা এলাকা থেকে ব্যবহৃত দুই ট্রাক মাস্ক, পিপিই ও গ্লাভস জব্দ করেছে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। ব্যবহৃত ওইসব সুরক্ষা সরঞ্জাম ধুয়ে আবার পাইকারি বাজারে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছিল বলে জানিয়েছেন র‌্যাব কর্মকর্তারা।

বাহিনীটির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম বলেন, কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া পিপিইর পুনর্ব্যবহার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

ঢাকা ট্রিবিউনকে তিনি আরও বলেন, “এই দুর্যোগকালীন সময়ে যারা ফুটপাত, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ই-কমার্সে পিপিই বিক্রির নামে প্রতারণা করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ভাইরোলজি বিশেষজ্ঞ প্রফেসর নজরুল ইসলাম বলেন, পিপিই ব্যবহারের পর সাধারণত পুড়িয়ে ফেলা হয়। এটা আবার বাজারে বিক্রি করা হলে তা অত্যন্ত ঝুঁকির বিষয়।

 “নতুন ভেবে যারা ব্যবহৃত পিপিই কিনছেন তারা আক্রান্ত হতে পারেন।”

তবে, পোশাক কারখানা মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ বলছে, তাদের কারখানাগুলোতে পিপিই প্রস্তুতের ক্ষেত্রে কঠোরভাবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুসরণ করা হচ্ছে।

তারা জানায়, কারখানাগুলো প্রচুর পরিমাণে উৎপাদন করায় দেশে পিপিই’র সঙ্কট অচিরেই দূর হবে।

বিজিএমইএ পরিচালক মো. শহিদুল হক মুকুল ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, পিপিই প্রস্তুতের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনা অনুসরণ করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, “চীন থেকে ফেব্রিক (কাপড়) আনতে হয়। কারখানার একটি নিরাপদ পরিবেশে প্রস্তুত প্রক্রিয়া শেষ করতে হয়।” আর এ কাজের সময় শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে নিশ্চিত করা হয়।

ছোট ছোট কারখানাগুলো নিম্নমানের পিপিই উৎপাদন করছে বলেও জানান শহিদুল হক।


About

Popular Links