Friday, May 24, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

নারায়ণগঞ্জে ছেলে নয় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন বাবা, লাশ দাফনে বাধা

গত ১১ মে জ্বর, শ্বাসকষ্ট নিয়ে ছেলের মৃত্যু সংবাদ শুনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান বাবা

 

আপডেট : ১৩ মে ২০২০, ১২:১৯ পিএম

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে করোনাভাইরাস উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে মারা যাওয়া রিমন সাউদ (৩৪) করোনা পরীক্ষায় নেগেটিভ আসলেও করোনাভাইরাস পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে বাবা ইয়ার হোসেনের। এদিকে করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়ায় রিমন সাউদের লাশ দাফনে বাধা দেয় স্থানীয় কাউন্সিলর ও এলাকার লোকজন ।  

 গত সোমবার (১১মে)  সকাল ৬টায় জ্বর, শ্বাসকষ্ট নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান রিমন সাউদ। পরে ছেলের মৃত্যুর সংবাদে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীনঅবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন বাবা হাজী ইয়ার হোসেন। পরে মঙ্গলবার ( ১২ মে) রিমন সাউদের নমুনা পরীক্ষায় তার  ফলাফল  নেগেটিভ আসে।  ওই দিনই বিকেলে  বাবা হাজী ইয়ার হোসেনের নমুনায় করোনা পজেটিভশনাক্ত হয়।  এরপরই তাদের বাড়িটি লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ফারুক জানান, রিমন সাউদের করোনাভাইরাস পরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভ এসেছে। কিন্তু তার বাবা হাজী ইয়ার হোসেনের করোনাভাইরাস পজেটিভ শনাক্ত হয়েছে। তাই তাদের বাড়িটি লকডাউন করে দেওয়া হয়েছে। তাদের শারীরিক অবস্থা জানতে সার্বক্ষণিক খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। মৃত ইয়ার হোসেনের ভাই সানিক হোসেন জানান, কয়েক দিনযাবৎ রিমন বুকের ব্যথা ও কাশিতে ভুগছিলেন। ঢাকার আজগর আলী হাসপাতালে চিকিৎসা করালে তার নিউমোনিয়া ধরা পড়ে। এর আগে ছোটবেলায়একবার নিউমোনিয়া হয়েছিল। এছাড়া আর কোনো সমস্যা ছিলো না রিমনের।

পরে গত ৯ মেরূপগঞ্জের গাজী কোভিড-১৯ পিসিআর ল্যাবে তার ভাই ইয়ার হোসেন, ভাতিজা রিমন ও রিমনের বোনের করোনা পরীক্ষা করানো হয়। তিনজনেরই করোনা উপসর্গ ছিল। পরে ১১ মে ভোরে রিমনের মৃত্যুর খবর শুনে বাবা ইয়ার হোসেন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। পরদিন বিকেলে করোনা পরীক্ষার রিপোর্টে ইয়ার হোসেন পজেটিভ বলে জানতে পারেন। পরে বাড়ি লকডাউন করে দেয়া হয়।

সানিক হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শুধুমাত্র শ্বাসকষ্ট আর একটু জ্বর থাকায় করোনা সন্দেহে হাসপাতালগুলো ওকে (মৃত রিমন) ভর্তি নেয়নি। কত অনুরোধ করলাম তবুও আমাদের ফিরিয়ে দিল। ছেলেটা আজকে বিনা চিকিৎসায় মারাগেল। অথচ যথাসময়ে রির্র্পোট আর চিকিৎসা পেলে হয়তো ওকে বাঁচানো যেত। ওর আটমাসের সন্তানটা হয় তো বাবাকে ফিরে পেত। আমার ভাইও হয়তো বেঁচে থাকতো।

 তিনি আরও বলেন, ভাই ইয়ার হোসেন ও ভাতিজার লাশ দাফনের জন্য আমরা সিদ্ধিরগঞ্জ মিজমিজি পাইনাদী ঈদগাহ  কবরস্থান গেলে সেখানে রিমনের লাশ দাফন  করতে দেবে না বলে জানিয়ে দেন নাসিক ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ওমর ফারুক। তবে আমার ভাই হাজী ইয়ার হোসেনের লাশ দাফন করতে দিতে সম্মত হন তিনি। অথচ মৃত্যুর ৩ ঘন্টা পর মরদেহের শরীরে করোনাভাইরাসেরজীবাণু থাকে না আমরা সবাই জানি।

পরবর্তীতে আমরা সিদ্ধিরগঞ্জের সাইলোরোডস্থ মহিউদ্দিন ইমদাদুল উলুম কওমী মাদ্রাসায় নামাজে জানাজা শেষে পার্শ্ববর্তী কবরস্থানে তাদের উভয়ের লাশ দাফনকরি। এ বিষয়ে জানার জন্যনাসিক ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ওমর ফারুকের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকেপাওয়া যায় নি।  

About

Popular Links