Tuesday, May 28, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

নীলফামারীতে বোরো ধানে চিটা, কৃষক দিশেহারা

‘করোনাভাইরাসে কর্মহীন হয়ে ঘরে বসে থেকে যা জমানো ছিল তাও শেষ, জমির ধানও শেষ। এখন কি দিয়ে পরিবার চালবো ভেবে পাচ্ছি না’

আপডেট : ১৩ মে ২০২০, ০৮:১৬ পিএম

নীলফামারী সদরে রামনগরসহ কয়েকটি ইউনিয়নে বোরো ধানে নেক  ব্লাস্ট রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। এই রোগে ক্ষেতের ধান শুকিয়ে চিটা হয়ে গেছে। তাই ধানের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা। 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ জানায়, এবার জেলার ছয় উপজেলায় ৮৩ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে মাঠে নামে কৃষি বিভাগ। ইতোমধ্যে ৮০ হাজার ৬০৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৮৭৫ হেক্টর জমিতে ব্রি ধান ২৮ চাষ হয়েছে। আর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তিন লাখ ৮২ হাজার ৮৫০ মেট্রিকটন।

তবে প্রতিকূল আবহাওয়ায় জেলায় নেক ব্লাস্ট রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। রোগটির প্রভাবে ধানের শীষ আস্তে আস্তে শুকিয়ে সাদা হয়ে যাচ্ছে। কৃষকরা বলছেন, এক বিঘায় শতকরা ৮৫ ভাগ শীষ চিটা হয়ে যাচ্ছে।

সরেজমিনে সদরের রামনগর, কচুকাটা, পঞ্চপুকুর ও টুপামারী ইউনিয়নে গিয়ে কৃষকের ধানের জমিতে এ রোগের সংক্রমণ দেখা যায়।

রামনগর ইউনিয়নের বাহালী পাড়া গ্রামের কৃষক লালবাবু রায় জানান, আমার ৪ বিঘা জমিতে প্রায় ৮৫ শতাংশ ধানের শীষ চিটা হয়েছে। বাকী ধানগুলোও প্রতিকারের অভাবে শুকিয়ে যাচ্ছে। দোকান থেকে কীটনাশক এনে ক্ষেতে প্রয়োগ করে কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না। যেখানে চার বিঘা জমিতে ধান ফলতো প্রায় ৮০ মণ, সেখানে প্রতিমণ ৬৫০ টাকা হিসেবে ৫২ হাজার টাকার ক্ষতির আশঙ্কা করছি। সরকারের কাছে প্রণোদনার দাবি করেন ওই কৃষক।

একই উপজেলার পঞ্চপুকুর ইউনিয়নের বগুলাগাড়ী জামতলা গ্রামের কৃষক মশেতুল্যা মিয়া (৬৩) জানান, এবার তিন বিঘা (ব্রি ধান ২৮) জমিতে চিটা (পাতান) রোগ দেখা দিয়েছে। এ ছাড়াও আশপাশের জমিতে ব্যাপকহারে ছড়িয়ে পড়েছে এই রোগটি। তিনি বলেন, প্রতিবারে প্রাকৃতিক দুর্যোগে আমরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে দিশেহারা হয়েছি। এছাড়া ধানের বাজারে দরপতনের কারণে কৃষক বার বার লোকসান গুনছে। এবার নেক ব্লাস্ট রোগ ছড়িয়ে পড়ায় গ্রামে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

উপজেলার ইটাখোলা ইউনিয়নের সিংদই পাইকার পাড়া গ্রামের কৃষক মোজাহারুল হক (৪৩) জানান, ধান পেকে যাওয়ার মুহূর্তে শতভাগ ধানের শীষ চিটা হয়। বিঘা প্রতি ২০ মণ হিসেবে তিন বিঘায় ধান ফলত ৬০ মণ। আর এই ৬০ মণ ধান ঘরে তুলতে খরচ হয় ৩৫ হাজার টাকা। ধার-দেনা করে আবাদ করেছি। সমুদয় টাকা লোকসান গুনতে হবে। করোনাভাইরাসে কর্মহীন হয়ে ঘরে বসে থেকে যা জমানো ছিল তাও শেষ। জমির ধানও শেষ। এখন কি দিয়ে পরিবার চালবো ভেবে পাচ্ছি না।

জেলার ডোমারের সোনারায় ইউনিয়নের বড়গাছা গ্রামের কৃষক শাহিনুর ইসলাম (৫৫) জানান, প্রথম দিকে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ধানের ফলনও বাম্পার হয়েছে। কিন্তু ধান পাকা শুরুর আগেই শীষ শুকে সাদা হয়ে চিটা হয়। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে কীটনাশক স্প্রে করেও কোনো ফল পাইনি। 

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো.কামরুল হাসান জানান, শেষ মুহূর্তে বিরূপ আবহাওয়া কারণে নেক ব্লাস্ট রোগের সংক্রমণ কিছু কিছু এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। তবে আমরা কৃষকদের এই রোগ থেকে প্রতিকারের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। প্রয়োজনীয় কীটনাশক স্পে করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ভারপ্রাপ্ত) উপপরিচালক মো. ওবায়দুর রহমান মন্ডল জানান, আমরা কৃষকদের ব্রি ২৮ ধান চাষ করতে নিরুৎসাহিত করি। কারণ এটির জাত অনেক পুরনো হয়ে গেছে। এই ধানে নেক ব্লাস্ট বেশি বেশি হয়।

তিনি বলেন, “বিক্ষিপ্তভাবে কিছু কিছু এলাকায় দু’এজন কৃষকের ২৮ ধানের জমিতে এই রোগের সংক্রমণ ঘটে। এর পরিপ্রেক্ষিতে জেলায় ২২ হাজার ৫৪২ হেক্টর জমিতে প্রিভেন্টটিপ কীটনাশক স্প্রে করা হচ্ছে। আশা করি এই সমস্যা দ্রুত কেটে যাবে।”

About

Popular Links