Tuesday, May 28, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

সুন্দরবনে চোরাশিকারিদের অপতৎপরতা বৃদ্ধি, রেড এলার্ট জারি

চোরাশিকারিদের কাছ থেকে ২৪টি জীবিত হরিণ, ৭৯ কেজি হরিণের মাংস, নাইলনের দড়ির ৬ হাজার ৬০০ ফুট হরিণ ধরার ফাঁদ উদ্ধার করা হয়েছে

আপডেট : ১৪ মে ২০২০, ১০:৪২ পিএম

করোনাভাইরাসের কারণে রাস্তা-ঘাট অনেকটা ফাঁকা থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে সুন্দরবনে চোরাশিকারিরা মেতে উঠেছে হরিণ শিকারে। শিকারিদের তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সুন্দরবনে রেড এলার্ট জারি করে বন বিভাগের টহল জোরদার করা হয়েছে। 

প্রশাসনিক সুবিধার জন্য দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে সুন্দরবনকে। পূর্ব সুন্দরবন বিভাগ ও পশ্চিম সুন্দরবন বিভাগ। বাগেরহাট জেলার শরণখোলা রেঞ্জ ও চাঁদপাই রেঞ্জ নিয়ে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগ গঠিত।

পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. বেলায়েত হোসেন জানান, পূর্ব সুন্দরবনে মাত্র ৩৬ দিনের ব্যবধানে পুলিশও বনরক্ষীরা অভিযানে চলিয়ে চোরাশিকারীদের কবল থেকে ২৪টি জীবিত হরিণ, ৭৯ কেজি হরিণের মাংস, নাইলনের দড়ির ৬ হাজার ৬০০ ফুট হরিণ ধরার ফাঁদ উদ্ধার করে। এ সময় ৭ জন চোরাশিকারিকে আটকসহ শিকার কাজে ব্যবহৃত ৪টি ট্রলার ও দু’টি নৌকা জব্দ করা হয়। এসব ঘটনায় হরিণ শিকার প্রতিরোধে বনবিভাগ সুন্দরবনে রেড এলাট জারি করে টহল জোরদার করেছে। উদ্ধারের ঘটনায় বন আইনে মামলা করা হয়েছে।


আরও পড়ুন - বাঘের সংখ্যা দ্বিগুণ করতে বাংলাদেশ কি ব্যর্থ হতে যাচ্ছে? 


বনসংলগ্ন এলাকার মৎসজীবী ও বনজীবীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, চোরাশিকারির সংঘবদ্ধ চক্র সুন্দর বনের গভীর অরণ্যের হরিণ বসতিপূর্ণ এলাকায় অবস্থান নেয়। কখনো ট্রলারে, কখনও নৌকায় আবার কখনো বনের গাছে মাচা বেঁধে হরিণের গতিবিধি লক্ষ্য করে তারা। শিকারীরা বিশেষ করে কৃষ্ণপক্ষের রাতে জঙ্গলে বেশি হানা দেয়। সুন্দরবনে যে অঞ্চলে কেওড়া গাছ বেশি জন্মে, হরিণের আনাগোনা সেখানে সবচেয়ে বেশি থাকে। ভোরে অথবা পড়ন্ত বিকেলে কিংবা চাঁদনি রাতে হরিণ চরাঞ্চলে ঘাস খায়। রাতের আঁধারে গহীন অরণ্যে সুযোগ বুঝে চোরাশিকারিরা গুলি করে কিংবা ফাঁদ পেতে হরিণ শিকার করে। হরিণ শিকারের পর গোপন আস্তানায় বসে মাংস তৈরি করা হয়। পরে তা বিক্রি করা হয় সুন্দরবন সংলগ্ন হাট বাজারগুলোতে। চোরাই বাজারে এক কেজি হরিণের মাংস এ এলাকায় ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হয়।

বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. বেলায়েত হোসেন জানান, সুন্দরবনের প্রধান আকর্ষণ রয়েল বেঙ্গল টাইগার ও চিত্রল হরিণ। বনবিভাগসহ প্রশাসনের কঠোর নজরদারির কারণে সুন্দরবনে প্রচুর পরিমাণে হরিণের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। যা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করছে। 

তিনি বলেন, মরণঘাতি করোন ভাইরাসের মধ্যেও বনরক্ষীরা বনজ সম্পদ ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। চোরাশিকারিদের অপতৎপরতা ঠেকাতে রেড এলার্ট জারি করা হয়েছে।


আরও পড়ুন - ভাইরাল হওয়া প্রাণীটি চিতাবাঘ নয়, চিতা বিড়ালের বাচ্চা

About

Popular Links