Thursday, May 23, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ড. আনিসুজ্জামানের আগে দুইবার করোনাভাইরাস নেগেটিভ, মৃত্যুর পর পজিটিভ!

তার ছেলে আনন্দ জামান জানান, ‘১০ মে একবার বাবার করোনা টেস্ট হয়েছিল সিএমএইচ-এ৷ তখন নেগেটিভ আসে৷ তবে আবারো টেস্ট করা হলে মৃত্যুর পর জানা যায় তার করোনা পজিটিভ’

আপডেট : ১৬ মে ২০২০, ১১:৫১ এএম

জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামানের মৃত্যুর পর জানা গিয়েছে তিনি করোনাভাইরাস পজিটিভ৷ তবে মৃত্যুর আগে দুইবার টেস্টের ফল নেগেটিভ এসেছিলো বলে জানা যায়৷

তার চিকিৎসা পরামর্শক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ, ইউনিভার্সেল মেডিকেল কর্তৃপক্ষ ও তার পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে করোনা সংক্রান্ত এই তথ্য জানা গিয়েছে বলে এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে জার্মান সংবাদ সংস্থা ডয়েচে ভেলে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেলে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ)-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান৷ শেষপর্যন্ত করোনা পজিটিভ হওয়ায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিধি মেনে শুক্রবার সকালে আজিমপুর কবরস্থানে তার বাবার কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়৷

অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের ছেলে আনন্দ জামান জানান, ‘‘১০ মে একবার বাবার করোনা টেস্ট হয়েছিল সিএমএইচ-এ৷ তখন নেগেটিভ আসে৷ তবে আবারো টেস্ট করা হলে মৃত্যুর পর জানা যায় তার করোনা পজিটিভ৷”

তিনি জানান, ‘‘শুক্রবার ভোরে জ্বর আসার পর করোনা টেস্টের জন্য স্যাম্পল নেওয়া হয়৷ কিন্তু রেজাল্ট আসার আগেই তিনি মারা যান৷ মারা যাওয়ার পরে রাতেই রিপোর্ট আসে করোনা পজিটিভ।”

এমন হওয়ার কারণ জানতে চাইলে আনন্দ জামান বলেন, ‘‘তার করোনার সেরকম কোনো সিম্পটমও আগে দেখা যায়নি৷ আর সিএমএইচ-এর আগে তিনি ইউনিভার্সেল মেডিকেলে ছিলেন৷ সেখানে তার করোনা পরীক্ষা করা হয়নি৷’’

করোনা প্রসঙ্গে পরিবারের পক্ষ থেকে আর চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলা হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘এখন আর কথা বলে কী হবে! তিনি তো মারাই গেছেন৷”

অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের ছোটভাই আখতারুজ্জামান বলেন, ‘‘আমরা আগে কোনো টেস্টেই করোনার কথা জানতে পারিনি৷ তিনি মারা যাওয়ার পর হাসপাতাল থেকে বলা হলো করোনা টেস্ট করা হবে৷ রেজাল্ট পেতে সাড়ে ছয়ঘণ্টা লাগবে৷ তার আগে লাশ দেওয়া যাবে না৷ রেজাল্টে তার করোনা পজিটিভ জানানো হয়৷”

তিনি আরো জানান, ‘‘তার শারীরিক অবস্থা খুব খারাপ ছিল৷ চিকিৎসকরা বলছিলেন তার ওপর ওষুধ তেমন কাজ করছে না৷”

অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর৷ ২৭ এপ্রিল এই শিক্ষাবিদকে ঢাকার ইউনিভার্সেল কার্ডিয়াক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়৷ তার হার্ট, কিডনি, ফুসফুস, উচ্চ রক্তচাপ, পারকিনসন ডিজিজসহ নানা শারীরিক জটিলতা ছিলো৷

গত ৯ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে তাকে সিএমএইচ-এ স্থানান্তর করা হয়৷ উভয় হাসপাতালেই তার চিকিৎসার ব্যাপারের নিয়মিত পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ৷

তিনি বলেন, ‘‘সিএমএইচ-এ নেওয়ার পর ৯ মে তার প্রথম টেস্ট করা হয়৷ এরপর ১০ মে আবার টেস্ট করা হয়৷ দুইবারই করোনা নেগেটিভ আসে৷ তার করোনার সিম্পটমও ছিলো না৷ তবে মৃত্যুর পর টেস্টে করোনা পজিটিভ আসে৷”

অন্যদিকে, ইউনিভার্সেল কার্ডিয়াক হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশীষ চক্রবর্তী বলেন, ‘‘আমাদের এখানে স্যার ২৭ এপ্রিল থেকে ৯ মে সকাল পর্যন্ত চিকিৎসাধীন ছিলেন৷ তখন আমরা তার কোনো করোনা টেস্ট করিনি৷ কারণ, তারমধ্যে আমরা করোনার উপসর্গ দেখিনি৷”

মৃত্যুর মূল কারণ হার্ট অ্যাটাক'

ডাঃ এবিএম আব্দুল্লাহ বলেন, ‘‘ইউনিভার্সেল মেডিকেল এবং সিএমএইচে চিকিৎসকরা তার চিকিৎসার ব্যাপারে আমার সঙ্গে নিয়মিত পরামর্শ করেছেন৷ তিনি নানা ধরণের জটিল রোগে ভুগছিলেন৷ হার্ট, ব্রেইন স্ট্রোক, ডায়াবেটিস, প্রেসার, কিডনি সমস্যা ছিল৷ তার পিঠের কাছে কয়েকটা হাড়ও ভাঙা ছিল৷’’

দুইবার নেগেটিভ আসার পর পজিটিভ আসার কারণ কী হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘এটা স্যাম্পল কালেকশনের ওপর নির্ভর করে৷ অথবা তার করোনা সংক্রমণ পরেও হতে পারে, আগে হয়তো ছিল না৷ সিএমএইচ-এ তো অনেক করোনা রোগী আছে৷ তবে তার মৃত্যুর মূল কারণ হার্ট অ্যাটাক৷”

বিষয়টি নিয়ে সিএমএইচ-এর সঙ্গে কথা বলা যায়নি৷ আইএসপিআর জানিয়েছে, “তার পরিবার যে স্টেটমেন্ট দিয়েছে সেটাই৷ সিএমএইচ আলাদা কোনো স্টেটমেন্ট দেবে না৷”

About

Popular Links