Sunday, May 19, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ইউএনও'র নির্দেশে সরকারি গাছ কাটলেন চেয়ারম্যানরা, উদ্ধার করলো পুলিশ

স-মিল থেকে গাছের গুঁড়িগুলো উদ্ধার করে স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতার জিম্মায় রাখা হয়েছে

আপডেট : ২৪ মে ২০২০, ১০:১৮ পিএম

বন বিভাগের অনুমতি ছাড়াই সিরাজগঞ্জের যমুনা নদীর পাড়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) শতাধিক গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও কয়েকজন জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে। জানা গেছে, করোনাভাইরাস মহামারি শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও নিরীক্ষণ শেষে টেন্ডারের মাধ্যমে অর্ধশত বছর বয়সী গাছগুলো বিক্রির উদ্দেশ্য ছিল অভিযুক্তদের।

আর স্থানীয় সূত্রে খবর পেয়ে উপজেলার দেওয়ানগঞ্জ বাজারের একটি স-মিল (কাঠ চেরাই) থেকে শনিবার (২১ মে) কাটা গাছের ২৫টি গুঁড়ি উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার আরও ৬০টি গুঁড়ি রাখা হয় সেখানে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাঙনে বিলীন হয়ে যেতে পারে, এমন অজুহাতে গত দু’সপ্তাহ ধরে চৌহালী উপজেলা সদরের রেহাইপুখুরিয়া বাবলাতলা থেকে সম্ভুদিয়া ও দেওয়ানগঞ্জ বাজার পর্যন্ত শতাধিক ইউক্যালিপটাসসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। বনবিভাগ ও সওজের অনুমতি ছাড়া উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান বাবুল আক্তার ও বাগুটিয়া ইউপি চেয়ারম্যান কাহার সিদ্দীকিসহ কয়েকজন গাছগুলো কেটে গোপনে স্থানীয় একটি স-মিলে বিক্রি করেন।

ওই স-মিল মালিক নুরুল ইসলাম বলেন, বাগুটিয়ার চেয়ারম্যান আবুল কাহার সিদ্দিক ও খাসপুকুরিয়ার চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ গত পরশু (২২ মে) ২৫টি গুঁড়ি রেখে গেছেন। মিলের ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম সেগুলো বুঝে নিয়েছেন। গতকাল পুলিশ এসে সেগুলো জব্দ করে।

অভিযুক্ত জনপ্রতিনিধিদের দাবি, ইউএনও'র নির্দেশে জরুরি ভিত্তিতে গাছগুলো কেটে মিলে রাখা হয়েছে। তবে গাছ কাটার নির্দেশের কথা জানালেও স-মিলে রাখার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন ইউএনও দেওয়ান মওদুদ আহমেদ।

ঢাকা ট্রিবিউনকে তিনি জানান, “ভাঙনে বিলীন হতে পারে এমন আশঙ্কায় কেটে সংরক্ষণের জন্য বলা হয়েছে। গুঁড়ি স-মিলে রাখার জন্য বলা হয়নি।”

এ বিষয়ে বাঘুটিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল কাহার সিদ্দিকী সাংবাদিকদের জানান, “গাছ কাটার সমস্ত হিসেব সংরক্ষিত আছে। ২২ মে ২৫টি এবং আজ আরও ৬০টি গুঁড়ি রাখা হয়েছে। ইউএনও’র নির্দেশেই গাছগুলো কাটা ও মিলে রাখার বিষয়ে ইউএনও এবং বন কর্মকর্তা অবগত আছেন।”

উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মোল্লা বাবুল আক্তার রবিবার রাতে বলেন, পরে গাছগুলোর টেন্ডার করা হবে। বিক্রির সুযোগ নেই। পুলিশ গাছ উদ্ধারের বিষয় জানি না।

আর উপজেলা বন কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, গাছগুলো সওজের।

এ বিষয়ে সওজ নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম পিকে বলেন, “গত দু’সপ্তাহ আগে ভাঙ্গনের আশঙ্কার কথা জানানো হলেও পরবর্তী সময়ে গাছ কেটে সংরক্ষণের বিষয়ে আমাদেরকে কেউ কিছু জানায়নি।”

চৌহালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল ইসলাম বিশ্বাস বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে স-মিল থেকে ২৫টি ইউক্যালিপটাস গাছের গুঁড়ি শনিবার জব্দ করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা নজরুল ইসলামের জিম্মায় রাখা হয়েছে। সরকারি গাছ স-মিলে রাখার বিষয়টি সন্দেহজনক। এটি তদন্ত করে দেখা হবে।

About

Popular Links