Saturday, May 25, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ভারতীয় পাহাড় থেকে বাংলাদেশে ঢুকে পড়েছিল মেছো বিড়ালটি

বাংলাদেশের প্রায় সর্বত্রই এই প্রাণীটির বিচরণ রয়েছে। জলাভূমি আছে এমন এলাকায় বেশি দেখা যায়। এটি মাছ, ব্যাঙ ও কাঁকড়া ছাড়াও পোকামাকড় ও ইঁদুর খেয়ে কৃষকের উপকার করে

আপডেট : ২৮ মে ২০২০, ০৪:৫৬ পিএম

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে একটি মেছো বিড়াল উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২৭ মে)  সন্ধ্যার দিকে ভারতীয় সীমান্ত সংলগ্ন মাজেরগাঁও এলাকা থেকে মেছো বিড়ালটিকে উদ্ধার করা হয়। 

স্থানীয় বাসিন্দা ও বনবিভাগ সূত্রে জানা যায়, মেছো বিড়ালটি সীমান্তবর্তী ভারতীয় পাহাড় থেকে বাংলাদেশে ঢুকে পড়ে। 

মাজেরগাঁও গ্রামের বাসিন্দা সমাজকর্মী শাহাবু্দ্দিন জানান, মোছো বিড়ালটি মাজেরগাঁও মসজিদ এলাকায় ঢুকে পড়লে স্থানীয়রা কৌশলে সেটিকে আটক করে। পরে প্রাণীটিকে ওই  এলাকার দুলাল মিয়ার বাড়িতে খাঁচার আটকে রাখা হয়। খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকালে বনবিভাগের লোকজন সেটি সিলেটে নিয়ে যায়। 

কোম্পানীগঞ্জের ফরেস্টার মো. ইয়াসিন মুন্সি জানান, বৃহস্পতিবার সকালে মেছো বিড়ালটিকে  কিছুটা আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এরপর সিলেটের খাদিম জাতীয় উদ্যানে অবমুক্ত করা হয়। 


আরও পড়ুনভাইরাল হওয়া প্রাণীটি চিতাবাঘ নয়, চিতা বিড়ালের বাচ্চা


খাদিম জাতীয় উদ্যানের বিট অফিসার চয়নব্রত চৌধুরী জানান, মেছো বিড়ালটির উচ্চতা দুই থেকে আড়াই ফুট। আহত সেটিকে চিকিৎসা দিয়ে বনে অবমুক্ত করা হয়েছে। বনের ভেতর চলে যাবার ফলে এটি সুস্থ হয়ে উঠবে। 

বাংলাদেশ বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা জোহরা মিলা ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “মেছো বিড়ালকে (Fishing Cat) অনেক এলাকায় মেছোবাঘ নামেও ডাকে। এর প্রকৃত নাম মেছো বিড়াল। বাঘ নামে ডাকার কারণে শুধু শুধু আতঙ্ক ছড়িয়েছে। প্রাণীটি মানুষকে আক্রমণ করে না, বরং মানুষ দেখলে পালিয়ে যায়। তাই এটি নিয়ে ভীত হওয়ার কিছু নেই। বাংলাদেশের প্রায় সর্বত্রই এই প্রাণীটি বিচরণ রয়েছে। জলাভূমি আছে এমন এলাকায় বেশি দেখা যায়। প্রাণীটি জলাভূমির মাছ, ব্যাঙ, কাঁকড়া ছাড়াও পোকামাকড় ও ইঁদুর খেয়ে কৃষকের উপকার করে। জনবসতি স্থাপন, বন ও জলাভূমি ধ্বংস, পিটিয়ে হত্যা ইত্যাদি কারণে বিগত কয়েক দশকে এই প্রাণীটির সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “২০০৮ সালে মেছো বিড়ালকে বিপন্ন প্রাণী প্রজাতির তালিকায় অর্ন্তভুক্ত করেছে আইইউসিএন। তাছাড়া বন্যপ্রাণী আইন-২০১২ অনুযায়ী এই প্রজাতি সংরক্ষিত। তাই এই প্রাণীটি হত্যা বা এর কোনো ক্ষতিকরা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।”


আরও পড়ুনমুন্সীগঞ্জে ‘বাঘের’ ঘোরাফেরা, আসল রহস্য কী?


আরও পড়ুন - মারা গেল মহাবিপন্ন বোস্তামী কাছিমটি

About

Popular Links