Thursday, May 23, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কয়েক মিনিটের ঝড়ে বিধ্বস্ত শতাধিক ঘরবাড়ি, নিহত ১

শনিবার (৬ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঘূর্ণিঝড়টি আঘাত হানে

আপডেট : ০৬ জুন ২০২০, ০৫:২৮ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর ও সরাইল উপজেলার ১০টি গ্রামের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কয়েক মিনিটের ঝড়ে শতাধিক ঘরবাড়ি, গাছপালা ও বৈদ্যুতিক খুঁটি বিধ্বস্ত হয়েছে। ঝড়ে যিশু মিয়া নামে একজন নিহত ও আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন।  

শনিবার (৬ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঝড়টি আঘাত হানে।

বর্তমানে ঝড়ে লন্ডভন্ড গ্রামের বিভিন্ন স্থানে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা। খবর পেয়ে নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমা আশরাফিসহ সরকারি কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।

ঝড়ে সবকিছু হারিয়ে অনিতা দাস নামে এক নারী জানান, কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তার বসত ঘর, রান্নাঘর উড়িয়ে নিয়ে যায় ঝড়। ঘরের আসবাপপত্র, নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র অবশিষ্ট কিছুনেই। তিনি এখন খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন। দুপুরে কিখাবেন সে বিষয় নিয়ে চিন্তিত তিনি। তিনি বলেন স্বামীহারা সংসারে ছেলে সন্তান নিয়ে তিনি এখন অনেকটাই নিরুপায় ।

এদিকে ঝড় চলাকালে বুড়িশ্বর ইউনিয়নের আশুরাইল গ্রামের যিশু মিয়া(৫৫) আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে স্ট্রোক করে মারা যান তিনি। নিহতের স্বজনদের বরাত দিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমা আশরাফি জানান, ঝড় চলাকালে তিনি আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন। পরে তাকে জেলা সদর হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান তিনি।

ঝড়ের পর ক্ষতিগ্রস্ত নাসিরনগর সদরের পশ্চিমপাড়া, গাঙ্কুল পাড়া এবং পাশ্ববর্তী বুড়িশ্বর ইউনিয়নের শ্রীঘর আশুরাইল, বেনিপাড়াসহ ১০টি গ্রাম পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমা আশরাফি।


খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে ঝড়ে ধসে পড়া ঘর-বাড়ি তাকিয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করার নেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাদের


পরে তিনি সাংবাদিকদের জানান, দুটি ইউনিয়নের অন্তত ১০ গ্রামের অন্তত শতাধিক ঘরবাড়ি পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়। ঝড়ের কবলে পরে আশুরাই গ্রামের যিশু মিয়া নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলেও তিনি নিশ্চিত করেন। তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় ১০ জন আহত হয়েছেন। তবে সবাই শংকা মুক্ত। তারা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।

ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রণয়ন করার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হবে।

নাসিরনগর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জোনাল ম্যানেজার হিমেল কুমার সাহা জানান, ৩৫ পয়েন্টে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে বিচ্ছিন্ন হয়েছে। দুটি স্থানে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার বিকল হয়েছে। ঝড়ের পর পরই আমরা বৈদ্যুতিক লাইন মেরামতের চেষ্টা করছি। তবে বিদ্যুৎ কখন আসবে এখনই সঠিকভাবে বলা যাচ্ছে না।

 ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খাঁন জানান, নাসিরনগরের ১০টি গ্রামের শতাধিক এবং সরাইল উপজেলার দুটি গ্রামের ৩০টির বেশি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। আমাদের কর্মকর্তারা সরেজমিনে পরির্দশন করেছে। প্রতিটি পরিবারকে নগদ টাকা, ঢেউটিন, খাদ্যসামগ্রী দেয়াহবে। তিনি বলেন আমাদের পক্ষ থেকে যা যা প্রয়োজন সবই করা হবে। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত পাশে আছি। ”

About

Popular Links