Saturday, May 18, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ভাইয়ের স্ত্রীকে বিয়ে করতে ভাইকে খুন

মিঠু শারীরিকভাবে অক্ষম হওয়ায় স্ত্রীর সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলছিল

আপডেট : ০৯ জুন ২০২০, ০৭:৫৮ পিএম

নাটোর সদর উপজেলায় ভাবীর সঙ্গে পরকীয়ার জের ধরে বড়ভাইকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। 

মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ সুপার (এসপি) কার্যালয়ে এই হত্যাকাণ্ডের বিবরণ দেন এসপি লিটন কুমার সাহা। এর আগে গত ৩ জুন উপজেলার সিংগারদহ গ্রামে ওই হত্যার ঘটনা ঘটে। 

পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা জানান, ৩ জুন সকালে বাড়ির দরজায় দিনমজুর ওমর ফারুক ওরফে মিঠু ইসলামের মরদেহ উদ্ধারের পর তার বাবা আব্দুল্লাহ মামলা দায়ের করেন। ওই রাতেই মিঠুর স্ত্রী আম্বিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হলে এক পর্যায়ে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন। পরের দিন মিঠুর ভাই আব্দুল কাদেরকে গ্রেফতার করা,হয়।

পরে আম্বিয়া আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। তিনি নিহত মিঠুর তৃতীয় স্ত্রী। এর আগেও আম্বিয়ার অন্যত্র বিয়ে হয়েছিল। 

এসপি আরও বলেন, জবানবন্দিতে আম্বিয়া জানায়, মিঠু তাকে নিয়ে আব্দুল কাদেরের বাসায় থাকতেন। মিঠু শারীরিকভাবে অক্ষম হওয়ায় স্ত্রীর সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলছিল। তিনি ইটভাটায় কাজ করায় বেশিরভাগ সময় বাইরে থাকত্রন। এমন অবস্থায় গত প্রায় চার বছর ধরে আব্দুল কাদেরের সঙ্গে আম্বিয়ার পরকীয়া ও শারীরিক সম্পর্ক চলছিল। এক পর্যায়ে তারা বিয়ে করতে চাইলে মিঠুকে বাধা বলে মনে করেন। এ বাধা দূর করতেই তারা মিঠুকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ৩ জুন রাত সাড়ে ৯টার দিকে আম্বিয়া ভাতের সঙ্গে তিনটি ঘুমের ট্যাবলেট মিশিয়ে মিঠুকে খাওয়ান। এরপর দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে আব্দুল কাদের মিঠুকে ঘুমের মধ্যে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। মিঠু মারা গেলে তার মৃতদেহ পাশের পুকুরে ফেলতে বের করেন দুজন। কিন্তু রাস্তায় একটি গাড়ি চলে আসায় দরজায় মিঠুর মরদেহ ফেলে তারা ঘরে চলে যান। এরপর শ্বশুরসহ এলাকার লোকদের ডেকে মিঠুর লাশ দেখার কথা বলেন আম্বিয়া।

এ বিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম জানান,আব্দুল কাদেরকে আদালতে সোপর্দ করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। এখনও শুনানি হয়নি। তারা দুজনেই এখন কারাগারে।

About

Popular Links